ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় উগ্রবাদীরা মুসলিমদের কবরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভাইরাল ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে নেপথ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ব্রেকিং নিউজ, ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলিমদের ওপর চরম নির্যাতন শুরু হয়েছে। এবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে মুসলিমদের কবরস্থান। মুসলিমদের কবরের মাটি খুঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং কবরের ভেতর পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমন পৈশাচিক ঘটনা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের নিত্যদিনের চিত্র। এর পাশাপাশি অহরহ ভেঙে ফেলা হচ্ছে মুসলিমদের ঘরবাড়ি। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। কোথায় গিয়ে থামবে উগ্রবাদীদের এই তাণ্ডব? পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।’
এই দাবিতে ভাইরাল কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে , এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে ।
‘বিচিত্রা নিউজ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ শেয়ার করা ভিডিওটি আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট, যা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ৬ মে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে শেয়ার করা ভিডিওটি ৯ মে বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৬৩ লাখবার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে ৬ হাজার ৬০০ রিঅ্যাকশন, ৩৯২ কমেন্ট এবং ৭৯ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে।
পোস্টটির কমেন্টগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারীই প্রচারিত দাবিটিকে সত্য বলে মনে করছেন। কেউ কেউ আবার ভিডিওর অবস্থান ও সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি ডিলিট করা হয়েছে। যদিও অন্যান্য অ্যাকাউন্ট ও পেজে ভিডিওটি এখনো পাওয়া যাচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে ভারতীয় কোনো গণমাধ্যমে সাম্প্রতি কলকাতায় এমন কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে ভিডিওটির কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে ‘صحرانورد’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের ৮ মার্চ শেয়ার করা একটি ভিডিও পাওয়া য়ায়। যার সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে। ওই ভিডিওর ক্যাপশনে ইংরেজি ভাষায় লেখা, ‘এটি ভারত, যেখানে এমনকি মৃত্যুর পরও মুসলিমরা নিরাপদ নয়। দিল্লির ওয়াজিরাবাদ এলাকায় একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আকাশ পণ্ডিত ও তার সহযোগীরা নাকি একটি মুসলিম কবরস্থানে কবর অপবিত্র করেছে। হামলাকারীরা নাকি কবরের আচ্ছাদনেও আগুন লাগিয়েছে। পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।’

অনুসন্ধানে ‘muslimmirroreng’ নামের একটি ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের ২ মার্চ শেয়ার করা আরও একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, দিল্লির হিন্দুত্ববাদী কর্মী আকাশ পণ্ডিত তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে সিগনেচার ব্রিজের কাছে একটি মুসলিম কবরস্থান ভাঙচুর করেছেন, কবরের কাপড়ে আগুন দিয়েছেন এবং মৃত মুসলিমদের উদ্দেশে গালিগালাজ করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে আরও নিশ্চিত হতে অনুসন্ধানে ‘মুসলিম মিরর’-এর ওয়েবসাইটে ৪ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দিল্লির ওয়াজিরাবাদ এলাকায় একটি মুসলিম কবরস্থানে কিছু ব্যক্তি কবর ভাঙচুর করে এবং কবরের ওপর থাকা কাপড়ে আগুন লাগায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ ঘটনাটি দিল্লির এবং তা অন্তত দুই মাস পুরোনো।

এ ছাড়া ভাইরাল ভিডিওর শেষে অগ্নিসংযোগের যে ভিন্ন ফুটেজগুলো দেখানো হয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওগুলো ‘Again massive fire incident in Metiabruz’ ক্যাপশনে গত ২৬ এপ্রিল থেকে ইন্টারনেটে রয়েছে । অর্থাৎ এই ফুটেজগুলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগের ঘটনা।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জেতার পর বেশ কিছু স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মুসলিম সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হয়েছে। তবে কলকাতায় কবরে আগুন দেওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভুল। ভারতেরই একটি পুরোনো ভিডিওকে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা দাবিতে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি সমর্থকেরা মুসলিমদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের ফল পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে এই দাবিটি নেটিজেনদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
৩৪ মিনিট আগে
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বিজিপির জয়ের পর সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ভারতের একটি মসজিদে ট্রাম্পেট বাজিয়ে নামাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে উগ্র....
৭ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কলকাতার একটি মসজিদে হিন্দুরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
১ দিন আগে
নেপালে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আইন পাস করেছে—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নেপালের নতুন সরকারের এমন কঠোর পদক্ষেপের খবর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
২ দিন আগে