Ajker Patrika

ফ্যাক্টচেক /জুলাই আন্দোলনের ভিডিওকে সম্প্রতি বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ দাবিতে প্রচার

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক
জুলাই আন্দোলনের ভিডিওকে সম্প্রতি বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ দাবিতে প্রচার
আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষের দাবিতে ছড়ানো ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

সম্প্রতি ‘ঢাকা মহাসড়কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষ’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

এই দাবিতে আরও কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

গতকাল ১৭ জুলাই ‘বৃহত্তর আওয়ামীলীগ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত দাবিতে একটি ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ১৮ জুলাই দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ৮৬ হাজারেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওটিতে ১ হাজার ১০০ রিয়েকশন, ৭৪ কমেন্ট ও ৭০৪ শেয়ার রয়েছে।

শেয়ার করা ভিডিওর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারীই ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা বলে মনে করেছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

আলোচিত ২০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি ফুটওভারব্রিজের নিচে আগুন জ্বলছে। ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠতে দেখা যায়। ভিডিওতে আশপাশে উৎসুক জনতাকে আগুনের দৃশ্য দেখতে ভিড় করতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করছেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে কয়েকজনের হাতে লাঠিও দেখা যায়।

পাশাপাশি ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে হাততালির শব্দের পাশাপাশি ‘রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘দিয়েছি তো রক্ত আরও দেব রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’—ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়। কিন্তু এসব স্লোগানের সঙ্গে ভিডিওতে দৃশ্যমান ঘটনার কোনো মিল পাওয়া যায় না।

ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময় টিভি’-এর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শেয়ার করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ‘মেট্রোরেলের নিচে ফুটওভার ব্রিজে আগুন’ শিরোনামে আপলোড করা ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড ওই ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর বেশকিছু দৃশ্যের মিল রয়েছে। এ ছাড়া একই দিনে ‘ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন’-এর ইউটিউব চ্যানেলে শেয়ার করা ‘মিরপুরে আগুনের ভেতর দিয়ে ছুটছে মেট্রোরেল’ শিরোনামের ভিডিওতেও একই দৃশ্য দেখা যায়।

সময় টিভির ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট
সময় টিভির ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

আরও অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর বাংলা ওয়েব সংস্করণে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘মিরপুর-১০ পুলিশ বক্সে আগুন: সীমিত হলো মেট্রোরেল চলাচল’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১০ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেলের চলাচল আংশিক সীমিত করা হয়। তখন উত্তরা থেকে পল্লবী এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চললেও মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনে ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংঘর্ষের সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে গুগল ম্যাপস ব্যবহার করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওর স্থানটি মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকা।

কম্পেরিজন। ছবি: স্ক্রিনশট
কম্পেরিজন। ছবি: স্ক্রিনশট

পাশাপাশি আলোচিত দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, আইডি ও পেজগুলো থেকে নিয়মিতভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়।

সিদ্ধান্ত

ঢাকা মহাসড়কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বানানো। মূলত, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১০ গোলচত্বরের পুলিশ বক্স ও ফুটওভার ব্রিজে লাগা আগুনের একটি পুরোনো ভিডিও ক্লিপের সঙ্গে রাজনৈতিক স্লোগান জুড়ে দিয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষের দৃশ্য দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত