Ajker Patrika

মাটির নিচে পৃথিবীজুড়ে ছত্রাকের এক বিশাল নেটওয়ার্ক প্রকাশ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মাটির নিচে পৃথিবীজুড়ে ছত্রাকের এক বিশাল নেটওয়ার্ক প্রকাশ
ছবি: নিও সায়েন্টিস্ট

পৃথিবীর মাটির নিচে বিস্ময়কর এক জগৎ লুকিয়ে আছে। বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো ভূগর্ভস্থ এক ছত্রাক নেটওয়ার্কের একটি বৈশ্বিক ডিজিটাল মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা গেছে, উদ্ভিদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত কার্বনসমৃদ্ধ ছত্রাকের সুতা বা মাইসেলিয়ামের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১১০ কোয়াড্রিলিয়ন কিলোমিটার। গবেষকদের মতে, এই অদৃশ্য নেটওয়ার্ক শুধু উদ্ভিদকে পুষ্টি জোগায় না, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে ‘আরবাসকুলার মাইকোরাইজাল’ নামের এক ধরনের প্রাচীন মাটির ছত্রাকের কথা। পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতির সঙ্গে এদের সহাবস্থানমূলক সম্পর্ক রয়েছে। উদ্ভিদ ছত্রাককে কার্বন সরবরাহ করে, আর ছত্রাক উদ্ভিদকে মাটি থেকে পানি ও পুষ্টি সংগ্রহে সহায়তা করে। সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কসের গবেষক জাস্টিন স্টুয়ার্ট বলেন, ‘শুধু উদ্ভিদ নয়, এই ছত্রাকও উদ্ভিদের রক্ষাকর্তা।’

সম্প্রতি ‘নিও সায়েন্টিস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—এই গোপন অবকাঠামোর পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য গবেষকেরা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা ১৬ হাজার মাটির নমুনার তথ্য বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি পরীক্ষাগারে জন্মানো তিন লাখের বেশি ছত্রাক সুতার রোবটনির্ভর চিত্র বিশ্লেষণ করে তাদের জৈবভর ও কার্বনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এরপর মরুভূমি, তুন্দ্রা, বনভূমি ও অন্যান্য অঞ্চলে এই তথ্যের ভিত্তিতে বৈশ্বিক হিসাব তৈরি করা হয়।

গবেষণার ফলাফল বলছে, বিশ্বের আরবাসকুলার মাইকোরাইজাল ছত্রাক নেটওয়ার্কে যে পরিমাণ কার্বন সঞ্চিত রয়েছে, তা পৃথিবীর সব জীবিত মানুষের সম্মিলিত কার্বনের প্রায় পাঁচ গুণ। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এদের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

তবে গবেষণাটি উদ্বেগের কারণও তুলে ধরেছে। বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ এই উপকারী ছত্রাক তৃণভূমি অঞ্চলে বাস করে, অথচ দ্রুতগতিতে এসব এলাকা কৃষিজমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। গবেষকদের মতে, কৃষিজমিতে ছত্রাক নেটওয়ার্কের ঘনত্ব প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম। ছত্রাকনাশক রাসায়নিক, অতিরিক্ত চাষাবাদ এবং সার ব্যবহারের ফলে এই ক্ষতি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এতে ফসল পুষ্টি গ্রহণ, খরা সহনশীলতা এবং কার্বন সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হারাতে পারে। তবে তারা আশাবাদীও। নতুন মানচিত্রের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে কৃষি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে এবং মাটিতে উপকারী ছত্রাক পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হতে পারে।

আগামী আগস্টে মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণবিষয়ক সম্মেলনে গবেষকেরা এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করবেন। তাঁদের আশা, ভূগর্ভস্থ এই অদৃশ্য জীবজগৎ সংরক্ষণের গুরুত্ব নীতিনির্ধারকদের নজরে আসবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত