Ajker Patrika

জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষা পরিকল্পনা জোরদারে জাতীয় কর্মশালা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষা পরিকল্পনা জোরদারে জাতীয় কর্মশালা
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীতে আয়োজিত কর্মশালা। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, পাঠদান ও শিক্ষার ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতে প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যেই ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর হলিডে ইন-এ ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমস ইনিশিয়েটিভ (সিএসইএসআই)’ এর আওতায় কর্মশালাটির উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় সহযোগিতা করছে ইউনেসকো, ইউনেসকো ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এডুকেশনাল প্ল্যানিং (আইআইইপি), সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন।

১০ থেকে ১২ মে পর্যন্ত চলা এই কর্মশালায় জাতীয় ও উপ-জাতীয় পর্যায়ের ৩০ জনের বেশি সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা পরিকল্পনাবিদ ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন। কর্মশালার মূল লক্ষ্য হচ্ছে–শিক্ষা খাতের বিদ্যমান সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও মোকাবিলার সক্ষমতা আরও জোরদার করা।

কর্মশালার উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, ‘এই কর্মশালাটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং কোথায় আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন তা চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি বাস্তব তথ্যভিত্তিক নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ বলেন, ‘শুধু ঝুঁকি চিহ্নিত করাই নয়, বিদ্যমান ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে এসব ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারে, তা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি এবং সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বদরুন নাহার এনডিসি শিক্ষা খাতে জলবায়ু তথ্যব্যবস্থা ও জলবায়ু অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

কর্মশালায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

এ ছাড়া কারিগরি সেশন পরিচালনা করছেন ইউনেসকো-আইআইইপির বিশেষজ্ঞ মিস ই শি, ইউনেসকো ঢাকা অফিস ও সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধিরা।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের নটর ডেম গ্লোবাল অ্যাডাপটেশন ইনডেক্স অনুযায়ী, ১৮৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৮ তম। জাতীয় শিক্ষা তথ্য বলছে, শুধু ২০২৩ সালেই জলবায়ুজনিত দুর্যোগে দেশের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার প্রভাব শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষা অবকাঠামো এবং শেখার ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ইউনেসকো-আইআইইপির বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, বাংলাদেশের নীতিগত ভিত্তি তুলনামূলক শক্তিশালী হলেও শিক্ষা পরিকল্পনা, শিক্ষক উন্নয়ন, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় জলবায়ু অভিযোজন এখনো পদ্ধতিগতভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

আয়োজকেরা জানান, এই কর্মশালা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে প্রথম জাতীয় জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রণয়নে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে এটি আরও শক্তিশালী শিক্ষা নীতি, টেকসই অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং লক্ষ্যভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের ভিত্তি তৈরি করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘টাকার বিনিময়ে’ সরকারি জমি অন্যদের দিচ্ছেন এসি ল্যান্ড

পুলিশি তদন্তে সরকারি প্রাথমিকে নির্বাচিত ১৪ হাজার শিক্ষক

পুলিশ সদস্যদের ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে বিপাকে বিএনপি-জামায়াত নেতারা, সারা রাত থানায় আটকে রাখলেন ওসি

ইরানে হতাশ ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা থেকে জব্দ করলেন সাড়ে ১৩ কেজি ইউরেনিয়াম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত