Ajker Patrika

বৃষ্টির দেখা নেই, ঢাকায় দূষণ বাড়ছেই

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ১০: ৫৭
বৃষ্টির দেখা নেই, ঢাকায় দূষণ বাড়ছেই
ছবি: সংগৃহীত

সকালে যখন নগরজীবন কর্মমুখর হতে শুরু করে সেই সময়টায় দেখা যায়, রাজধানীতে দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। সাধারণত বৃষ্টি হলে দূষণের মাত্রা কমতে থাকে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি না হওয়ায় দূষণের মাত্রা বেড়ে গেছে।

আজ রোববার (১০ মে) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের বায়ুমানের তালিকায় এ চিত্র দেখা যায়।

সংস্থাটির সকাল ৮টা থেকে ৯টা সময়সীমার রেকর্ডে দেখা যায়, আজ ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১৬৫, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক। আর তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়, যা গতকাল ছিল চতুর্থ।

রিয়েল-টাইম একিউআই স্টেশন র‍্যাংকিংয়ে দেখা যায়, ঢাকার কিছু জায়গায় দূষণের মাত্রা সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর থেকে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। এর মধ্যে ধানমন্ডি এলাকার বাতাস সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় আছে। এলাকাটির আইকিউএয়ার স্কোর ১৭৪, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।

র‍্যাংকিং তালিকায় আরও যেসব এলাকা রয়েছে— আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, গুলশান লেক পার্ক, বারিধারা পার্ক রোড, গুলশানের বেজ এজওয়াটার আউটডোর, শ্যাওড়া পাড়া, উত্তর বাড্ডা, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও গোড়ান।

ঢাকার নিম্নমানের বাতাসের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম কণা। এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো, যাদের ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়েও কম, ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা) বৃদ্ধি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্‌রোগের মতো শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

শীতকালীন আবহাওয়ার ধরন, যানবাহন ও শিল্প থেকে অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলো এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো এই দূষণ সংকটের জন্য দায়ী।

আইকিউএয়ারের তালিকায় শীর্ষে আছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ২০৭, খুব অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক। শীর্ষ পাঁচে থাকা বিশ্বের অন্য শহরগুলো হলো— ভারতের দিল্লি (১৫৯, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৫৪, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর) এবং আফগানিস্তানের কাবুল (১৪৯, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর)।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।

বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ বলে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।

দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

পাশাপাশি ইটভাটা, শিল্পকারখানার মালিক এবং সাধারণ মানুষকে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী স্থাপন করা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ট্রাক বা লরি ঢেকে নেওয়া, নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো এবং পুরোনো ও ধোঁয়া তৈরি করা যানবাহন রাস্তায় বের না করতে বলা হয়েছে।

বাতাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে করণীয়

অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্‌রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।

সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।

যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন।

ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত