Ajker Patrika

২৫ কোটি গাছ রোপণ: ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গাছের বেড়ে ওঠা পর্যবেক্ষণ করবে সরকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
২৫ কোটি গাছ রোপণ: ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গাছের বেড়ে ওঠা পর্যবেক্ষণ করবে সরকার
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী রোপিত চারাগাছের অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি স্যাটেলাইটভিত্তিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ করবে সরকার। এ ছাড়া উপকূলীয় ও বনাঞ্চলে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বনসৃজন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে হয়েছে বলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে আজ বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিবেশমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

পরিবেশমন্ত্রী আরও জানান, এই কর্মসূচির আওতায় স্যাটেলাইটভিত্তিক জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে রোপিত গাছের অবস্থান ও প্রবৃদ্ধি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি সারা দেশে রোপণ করা গাছের তথ্য সংরক্ষণ ও টিকে থাকার হার পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ ও ট্রি মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হবে। একটি অ্যাপ তৈরি করে এই সিস্টেম পরিচালনা করা হবে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু আরও জানান, দুর্গম চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং বনাঞ্চলে বনসৃজন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। গ্রামীণ নারী ও যুবকদের নার্সারি ব্যবসা ও বৃক্ষরোপণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী করা হবে এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে।

কক্সবাজারের ডুলাহাজরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় বন অধিদপ্তর ইতিমধ্যে ৮৩ লাখ ৩২ হাজার চারা রোপণ করেছে, যা চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৭ শতাংশ।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর বন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বৃক্ষহীন এলাকা, রাস্তা, খাল-বাঁধ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে এক কোটি ৫০ লাখ স্থানোপযোগী দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জবরদখলমুক্ত বনভূমির ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর এলাকায় নতুন বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করেছে সরকার। এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

পরিবেশমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন।

ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের ৭টি বিভাগীয় সদরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় সর্বমোট ১২০টি স্টল থাকবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত