আসছে ‘সুপার এল নিনো’

বিশ্বজুড়ে আবারও রেকর্ড গরমের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ‘এল নিনো’ (উষ্ণ দশা) তৈরি হতে পারে, যা পরে শক্তিশালী হয়ে ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে। এমনটা হলে বিশ্বের বহু দেশে অস্বাভাবিক গরম, খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ঝড়ের প্রকোপ বাড়তে পারে। যার প্রভাবমুক্ত থাকতে পারবে না বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও।
‘এল নিনো’ মানে প্রশান্ত মহাসাগরের পানি অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়া। বাংলায় একে ‘উষ্ণ সমুদ্র-পর্ব’ বলা যায়। এই উষ্ণতা শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টি, তাপমাত্রা, মৌসুমি বায়ু ও ঝড়ের ধরন পাল্টে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) বলছে, বর্তমানে চলমান লা নিনিয়া ধীরে ধীরে শেষের দিকে। সংস্থাটির জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের হিসাবে, জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো গড়ে ওঠার আশঙ্কা ৬২ শতাংশ। এটি বছরের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও (ডব্লিউএমও) বলছে, এখন ইএনএসও নিরপেক্ষ অবস্থায় থাকলেও আগামী কয়েক মাসে এল নিনো ধীরে ধীরে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো শক্তিশালী হলে সাধারণত বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ, কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিতে পারে। কৃষি, পানিসম্পদ, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও খাদ্যনিরাপত্তায়ও এর প্রভাব পড়ে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে গরম, বৃষ্টি ও বর্ষা মৌসুমে। এতে তাপপ্রবাহ দীর্ঘ হতে পারে, বর্ষা অনিয়মিত হতে পারে, আবার হঠাৎ অতিবৃষ্টির ঘটনাও বাড়তে পারে। এর ফলে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে চাপ পড়তে পারে। একই সঙ্গে পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, রোগবালাই এবং বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদাও দেখা দিতে পারে।
ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোতেও মৌসুমি বৃষ্টির স্বাভাবিক ছন্দে বিঘ্ন ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও বৃষ্টি কমে খরা দেখা দিতে পারে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টিতে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি ও জনজীবনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এবার সম্ভাব্য এল নিনো তৈরি হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আগেই অনেক বেড়ে আছে। ফলে এটি শক্তিশালী হলে ২০২৭ সালে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এর আগে ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ ও ২০১৫-১৬ সালে শক্তিশালী এল নিনো দেখা গিয়েছিল। তবে এবারের বড় উদ্বেগ হলো, এটি আগের ঘটনাগুলোর চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তাই আগামী কয়েক মাসে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা।

‘উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে’ বছর চারেক আগে ৫৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছিল সরকার। এরই মধ্যে ১৬ জেলায় নির্মিত এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করেছে। দেয়ালে ফাটল ধরা, ছাদ ও দেয়াল থেকে...
৬ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের বঙ্গোপসাগরে কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে হবে।
১ দিন আগে
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে হবে।
২ দিন আগে
মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় অবস্থান করছে।
৩ দিন আগে