Ajker Patrika

এক দিন মাংস কাটার জন্য নিধন হচ্ছে অসংখ্য তেঁতুলগাছ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ১৫: ৪৯
এক দিন মাংস কাটার জন্য নিধন হচ্ছে অসংখ্য তেঁতুলগাছ
এখন বাজারের প্রায় সব দোকানেই বিক্রি হচ্ছে তেঁতুল কাঠের টুকরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলভীবাজারে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির মাংস কাটার জন্য কাটা হচ্ছে তেঁতুলগাছ। যেখানে এই গাছ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রতি ঈদে মাংস কাটার খাইট্টা তৈরিতে নিধন করা হচ্ছে অসংখ্য তেঁতুলগাছ।

সরেজমিন জেলা শহরসহ বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে দোকানগুলোতে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি স্তূপ করে রাখা হয়েছে তেঁতুলগাছের খণ্ডাংশ। এসব কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে কোরবানির মাংস কাটা হয়। ছোট বড় এক টুকরা তেঁতুল কাঠের দাম ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে তেঁতুলগাছ কিনে করাতকলের মাধ্যমে এগুলো নির্দিষ্ট আকারে কেটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। তেঁতুল কাঠ অন্যান্য কাঠের তুলনায় বেশ শক্ত। সহজে ফেটে যায় না। ফলে মাংস ও হাড় কাটার কাজে ব্যবহারের জন্য বেশ জনপ্রিয় এই কাঠ।

মৌলভীবাজার শহরে রমিজ মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘আমি দা ও ছুরি কিনার জন্য বাজারে এসেছি। এখানে এসে তেঁতুলগাছের গোল খণ্ড বিক্রি হচ্ছে দেখে কোরবানির মাংস কাটার জন্য ৪৫০ টাকা দিয়ে একটি নিয়েছি।’

পরিবেশকর্মী নজমুল ইসলাম বলেন, ‘একটা সময় এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে তেঁতুলগাছ ছিল। এখন হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতি ঈদের সময় যে পরিমাণে তেঁতুলগাছ কাটা হয় তা পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমাদের মাংস কাটার জন্য বিকল্প চিন্তা করতে হবে। শুধু এক দিনের মাংস কাটার জন্য জীবন্ত গাছ কেটে ফেলা উচিত নয়।’

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ৬ হাজার ২২৫ খামারি আছেন। জেলায় ৩৯ হাজার ৪৮১টি গরু, ১ হাজার ৪৪৬টি মহিষ, ৩০ হাজার ৮২২টি ছাগল ও ২ হাজার ৮৩৫ ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বছর জেলায় কোরবানির জন পশুর চাহিদা হলো ৭১ হাজার ৪৭২টি। আর প্রস্তুত করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৮৪টি পশু। বিভিন্ন হাটে ও ক্ষুদ্র খামারির বাড়ি থেকে ক্রেতারা কোরবানির পশু কিনছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘মৌলভীবাজারে কোরবানির পশু চাহিদার চেয়ে বেশি আছে। ক্রেতারা পছন্দমতো কোরবানির পশু কিনছেন। তবে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা আমাদের ঠিক হবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত