
দেশের ১৯ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। বাকি ৪৫ জেলায় অনুভূত হচ্ছে অস্বস্তিকর গরম। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, বছরের মে কিংবা জ্যৈষ্ঠ মাসের এই সময়ে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের এটিই স্বাভাবিক আবহাওয়া। এবারের এই গরম আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এমনকি ঈদের দিনও গরমের দাপট থাকবে।
তবে জ্যৈষ্ঠ মাস আসার আগে এবার বৈশাখ ছিল কিছুটা শীতল। বৃষ্টির সঙ্গে হয়েছে কালবৈশাখী। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকে কোথাও ঝরছে অতিবৃষ্টি, কোথাওবা তাপপ্রবাহ। কখনো আবার বয়ে যাচ্ছে কালবৈশাখী। কিন্তু গরমের দাপট কমছেই না। এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড গরম পড়েছে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় যা ছিল ৩৬ দশমিক ৩।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালী জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
অবশ্য আজ রোববার রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন পর্যন্ত দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টির পাশাপাশি কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমনকি ঈদের দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বৃষ্টি হলেও গরম কমছে না বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক। আজ সকালে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, এখন দিনের ব্যাপ্তি বেড়ে গেছে। সূর্যের উজ্জ্বল কিরণ পড়ছে দীর্ঘ সময়। ফলে রাতের তাপমাত্রাও ২৩ থেকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে আসা বাতাসেও প্রচুর জলীয় বাষ্প রয়েছে। জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকলে গরম অনুভূত হয় বেশি।
আবুল কালাম আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, দিল্লি—এসব অঞ্চলেও তাপমাত্রা ৪৪ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। এসব অঞ্চল থেকে গরম পশ্চিমা হাওয়া বাংলাদেশের দিকে আসছে। সব মিলিয়ে গরম পড়ছে।’
বর্ষকালে এখন গরমের তীব্রতা থাকছে জানিয়ে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে বর্ষাকালে আমাদের এই অঞ্চলে বৃষ্টি হলেও গরম অনুভূত হয়। বৃষ্টির সময় তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও থেমে যাওয়ার পর দ্রুত সেটি বৃদ্ধি পায়।’ তাই বর্ষাকাল ঘনিয়ে এলেও আপাতত দেশে গরম কমছে না—জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১০ দিন দেশে উষ্ণ আবহাওয়া থাকবে। কখনো কখনো হালকা বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা খুব একটা কমবে না।
ঈদের দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে জানতে চাইলে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঈদের দিন ভোরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে সকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। ঈদের দিন গরমও থাকতে পারে।

তবে আজ শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী বয়ে যাওয়া পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সকালের এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ ৬টার মধ্যে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
১ দিন আগে
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হলেও কমছে না গরমের অস্বস্তি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে এমন গরম অনুভূত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
২ দিন আগে
রাজধানী ঢাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার বৃষ্টি হয়েছে সামান্য। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও আগের দিনের তুলনায় বৃষ্টি বেশি হয়েছে। গতকাল সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১০৯ মিলিমিটার। আজ শুক্রবার ছুটির দিনে ঢাকাসহ দেশের ১১টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে পারে বজ্রবৃষ্টিসহ কালবৈশাখী।
২ দিন আগে
দেশের বেশির ভাগ অঞ্চল গতকাল বুধবার ছিল বৃষ্টিশূন্য। এ কারণে ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও চাঁদপুর জেলায় বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতিতে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
৩ দিন আগে