
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ভারত যখন তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে, তখন একটি নতুন আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেশটির ভবিষ্যৎ ডেটা সেন্টারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু ঝুঁকিবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এক্সডিআই (ক্রস ডিপেনডেন্সি ইনিশিয়েটিভ) গত বুধবার (১৭ জুন) তাদের একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতিগুলো এখন এই খাতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
‘২০২৬ গ্লোবাল অ্যানালাইসিস অব প্ল্যানড ডেটা সেন্টারস ফর ফিজিক্যাল ক্লাইমেট রিস্ক অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে পরিকল্পিত ২ হাজার ৫৯৫টি ডেটা সেন্টারের ওপর জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত ডেটা সেন্টারগুলোর জলবায়ু ঝুঁকির ঘনত্বের বিচারে বৈশ্বিক তালিকায় ভারতের অবস্থান ১১তম।
আরও আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, চরম তাপপ্রবাহের কারণে সবচেয়ে বেশি পরিচালনগত ঝুঁকির মুখে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি উপজাতীয় বা আঞ্চলিক এলাকার মধ্যে ভারতের প্রধান তিনটি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ হাব—তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা এবং কর্ণাটক স্থান পেয়েছে।
এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এল, যখন ভারত এআই কম্পিউটিং এবং ডেটা স্থানীয়করণের নিয়ম চালুর কারণে ডেটা সেন্টার অবকাঠামো সম্প্রসারণে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
এক্সডিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান ড. কার্ল ম্যালন বলেন, ‘এত দিন ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার নিয়েই মূলত বিতর্ক সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু চরম জলবায়ু ঝুঁকি এখন নিজেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।’
কার্ল ম্যালন আরও যোগ করেন, ‘প্রশ্ন এখন আর এটি নয় যে পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল অবকাঠামো কোথায় তৈরি হবে; বরং প্রশ্ন হলো, এই সম্পদগুলো তাদের নির্ধারিত মেয়াদে সচল, বিমাযোগ্য এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই থাকবে কি না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় পরিকল্পিত ডেটা সেন্টারগুলোর একটি বড় অংশ জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার ১২ শতাংশ পরিকল্পিত ডেটা সেন্টার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ কার্বন নির্গমনের উচ্চ হারের কারণে এই সংখ্যা তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী চরম তাপপ্রবাহকে এই খাতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া ও স্পেনের মতো দেশগুলোতে পরিকল্পিত ডেটা সেন্টারগুলোর ৭৫ শতাংশের বেশি চরম তাপমাত্রার কারণে উচ্চ পরিচালনগত ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
বন্যা বা ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ অবকাঠামোর প্রত্যক্ষ ক্ষতি করলেও দীর্ঘমেয়াদি তীব্র গরমের কারণে সার্ভার ও কুলিং সিস্টেমের কার্যকারিতা কমে যায়, শীতলীকরণ বা কুলিং খরচ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায় এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা সেবাদানে বিঘ্ন ঘটায়।
এক্সডিআই তাদের প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে, জলবায়ু ঝুঁকি শুধু ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাসের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি ডেটা সেন্টারকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তুললেও সেটি বিদ্যুৎ গ্রিড, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং পানি সরবরাহের মতো বাহ্যিক অবকাঠামোর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকে।
ইউরোপীয় একটি মডেলে দেখা গেছে, জলবায়ু বিপর্যয়ের সময় এই পরোক্ষ বা বাহ্যিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার কারণে যে উৎপাদনশীলতার ক্ষতি হয়, তা প্রত্যক্ষ গাঠনিক ক্ষতির চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে এআই অবকাঠামোর অভূতপূর্ব প্রসারের ফলে এখন বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই জলবায়ু ঝুঁকি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বৈশ্বিক পুনর্বিমা প্রতিষ্ঠান সুইস রি -এর হিসাব অনুযায়ী, ডেটা সেন্টারের অবকাঠামোর জন্য বৈশ্বিক বিমা প্রিমিয়ামের পরিমাণ বর্তমানের ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ২৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তবে গবেষকেরা বলছেন, এই ক্ষতি এড়ানো অসম্ভব নয়। ড. কার্ল ম্যালন বলেন, ‘ভবিষ্যতের ঝুঁকিগুলো অপরিবর্তনশীল নয়। বিদ্যমান অবকাঠামোর তুলনায় পরিকল্পিত প্রকল্পগুলোতে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। স্থান নির্বাচন, প্রকৌশল মান এবং জলবায়ু সহনশীলতায় আজকের বিনিয়োগই ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টারের ধারাবাহিক সচলতা ও বিমাযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।’
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশমান বাজারে নেতৃত্ব দিতে চাওয়া ভারতের জন্য এই প্রতিবেদনটি একটি বড় সতর্কবার্তা। ডিজিটাল অর্থনীতির চালিকাশক্তি এই ডেটা সেন্টারগুলোকে কেবল চাহিদার কথা মাথায় রেখে নয়, বরং একটি উষ্ণতর ও জলবায়ুবিপর্যস্ত ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলাই এখন দেশটির মূল পরীক্ষা।

বর্ষার চিরচেনা রূপ নিয়ে আষাঢ়ের সকালে মেঘলা আকাশে ঢাকল রাজধানী। আজ শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে গরমের অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে।
১০ ঘণ্টা আগে
ঢাকা, রংপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
১ দিন আগে
দেশে ভূমি অবক্ষয় ও খরার ঝুঁকি মোকাবিলায় চারণভূমি ও প্রাকৃতিক তৃণভূমি পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ মরুভূমির দেশ না হলেও জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা...
২ দিন আগে
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘এল নিনো’ নামে পরিচিত প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্র শুরু হয়েছে। এটি বিশ্বের বহু অঞ্চলে চরম আবহাওয়া নিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এই আবহাওয়া চক্রের কারণে প্রভাবিত হবে।
২ দিন আগে