বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার সংকট মেটাতে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে হলিউড তারকা ম্যাট ডেমনের অলাভজনক সংস্থা ‘ওয়াটার ডট ওআরজি’। আর এই সাফল্যের মূলে রয়েছে নোবেলজয়ী বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ বা মাইক্রোক্রেডিট মডেল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ম্যাট ডেমন নিজেই এই অনুপ্রেরণার কথা জানিয়েছেন।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর টেড ঝারের সঙ্গে এক ইনস্টাগ্রাম সাক্ষাৎকারে নিজের এই উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন ম্যাট ডেমন। শুধু অনুদানের ওপর নির্ভর না করে মানুষের হাতে ক্ষুদ্রঋণ তুলে দিয়ে কীভাবে বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে, সেটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. ইউনূসের প্রসঙ্গ টানেন অস্কারজয়ী এই অভিনেতা।
কীভাবে এই মডেল কাজ করে—এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাট ডেমন বলেন, ‘আমরা মূলত ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে কাজটি করি। বহু বছর আগে গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ঠিক এই জিনিস তৈরি করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কারও পেয়েছিলেন। আমরা মূলত তাঁর সেই ক্ষুদ্রঋণের মডেলে কাজ করে যাচ্ছি।’
২০০৬ সালে আফ্রিকান দেশ জাম্বিয়া সফরে গিয়ে ম্যাট ডেমনের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়। সেখানে তিনি এক কিশোরীর সঙ্গে পানি আনতে গিয়ে উপলব্ধি করেন, প্রতিদিন শুধু পানি সংগ্রহ করতে মেয়েদের মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়, যা তাদের পড়াশোনা ও শৈশব কেড়ে নিচ্ছে। এরপর তিনি ‘এইচটুও আফ্রিকা’ নামে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। পরে ২০০৯ সালে গ্যারি হোয়াইট নামের এক প্রকৌশলীর প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘ওয়াটার পার্টনারস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ডেমন প্রতিষ্ঠা করেন ‘ওয়াটার ডট ওআরজি’।
সংস্থাটির মূল ভিত্তি হলো ওয়াটার-ক্রেডিট প্রকল্প, যা সরাসরি ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ম্যাট ডেমন ও তাঁর অংশীদার গ্যারি গবেষণায় দেখেন, দরিদ্র মানুষ প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে যে পরিমাণ সময় ও অর্থ ব্যয় করে, তা একটি ছোট ঋণের কিস্তির চেয়ে অনেক বেশি। তাই শুধু অনুদানের ওপর নির্ভর না করে তাঁরা স্থানীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে দরিদ্র পরিবারগুলোকে ছোট আকারের ঋণ দেওয়া শুরু করেন, যাতে তারা এই অর্থ দিয়ে বাড়িতে পানির কল বা স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপন করতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ম্যাট ডেমন জানান, ওয়াটার ডট ওআরজি এ পর্যন্ত ২১ মিলিয়নের বেশি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে, যার আর্থিক মূল্য ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই ঋণের মাধ্যমে পরিবারগুলো নিজেদের জন্য পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করতে পারছে। ডেমনের সংস্থাটির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৯৫ মিলিয়ন মানুষ বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ পয়োনিষ্কাশন সুবিধার আওতায় এসেছে। কেনিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা, বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, মেক্সিকো, পেরুসহ বিশ্বের ১৫টির বেশি দেশে কাজ করছে সংস্থাটি।







-37a811-256x144.webp)


