বড় আয়োজন করে কখনোই জহিরকে জন্মদিন পালন করতে দেখিনি। ঘরোয়াভাবেই তার জন্মদিন উদ্যাপন করা হতো। হয়তো স্পেশাল কিছু রান্না হতো। পরিবারের মানুষ একসঙ্গে বসে আড্ডা হতো। কেক কেটে ঘর সাজিয়ে আয়োজন কখনোই হয়নি। জহির খুব কাজপাগল মানুষ ছিল। কাজ রেখে একটা আলাদা দিন বের করে জন্মদিন পালন করবে, সেটা সে ভাবতেই পারত না।
জহিরের মতো আপনভোলা মানুষ কমই দেখেছি। আমি না বললে এক কাপড়েই দুই দিন পার করে দিত। ওর দরকারি সব জিনিসপত্র আমাকেই কিনে দিতে হতো। জহির সব সময়ই ব্যাকব্রাশ করে চুল আঁচড়াত। খুব সাধারণভাবে চলাফেরা করত। খাবারদাবার নিয়েও কখনো কোনো আবদার ছিল না। তবে জোরে গাড়ি চালাতে খুব পছন্দ করত।
জহির নিখোঁজ হওয়ার পর আমি অনেক চেষ্টা করেছি তার লেখালেখি, ফিল্মগুলো, বিভিন্ন সময়ে ধারণ করা ফুটেজগুলো সংরক্ষণ করার। আমরা তখন ভাড়া বাসায় থাকতাম। ২৫ মার্চ রাতেও ভাড়া বাড়িতেই ছিলাম। ওই দিন রাতে আমরা বাসা থেকে বের হয়ে যাই। এর অল্প কিছু সময় পরে জহিরের খোঁজে পাকিস্তানিরা এসেছিল। আমাদের না পেয়ে বাড়িঘর তছনছ করে সব নষ্ট করে দিয়েছে। ও নিজের হাতে লিখতে পছন্দ করত না। ও বলত, অন্য কেউ সেটা লিখত। সেভাবেই লেখালেখি। তাই অনেক লেখাই আমাদের সংগ্রহে নেই। ফিল্ম তখন পাকিস্তান আর্মিরা কন্ট্রোল করত। তাই সব ফিল্ম সংরক্ষণ করা যায়নি। তারপরও যতটুকু ছিল, সেগুলোও পরে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।
জহির মারা যাওয়ার পরে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট তার সবকিছু নিয়ে গেছে। এগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো কাজে আসছে কি না, জানা নেই। তবে এটা নিশ্চিত, জহির রায়হানের সৃষ্টি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। আমি যতবার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছি, ততবার বাধাগ্রস্ত হয়েছি। কেউ সাহায্য করেনি। তার অনেক সৃষ্টি নষ্ট হয়ে গেছে। ভারতে দেখি, সাদা–কালো যুগের ছবিগুলো ডেভেলপ করে ঝকঝকে করে তুলেছে। সেটা দেখে আফসোস হয়। বহুবার অনেক অনুষ্ঠানে বলেছি। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু জহিরের ছবিগুলো ওভাবে সংরক্ষণ করা যায়নি।
জহির রায়হানের যুদ্ধের অস্ত্র ছিল একটি কলম ও একটি ক্যামেরা। আমি তাঁকে মানসিকভাবে শক্তি জোগনোর চেষ্টা করেছি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম যে ফ্লাইট ভারত থেকে রাজনীতিবিদদের নিয়ে আসে, সেই ফ্লাইটেই ও এসেছে। যখন দেশে ফিরেছে, ক্যামেরায় শুট করতে করতে এসেছে। দুঃখজনক হচ্ছে, তার সেই সব ফুটেজ, শুট করা ফিল্মগুলো আমি পাইনি। জহির রায়হান সাহসী একজন মানুষ ছিল। দেশ ও সিনেমার জন্য আজীবন কাজ করেছে। কিন্তু তাকে আমরা কতটা সম্মান দিতে পেরেছি, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুলিখন: মীর রাকিব হাসান

নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী খোঁজার উদ্যোগ রিয়েলিটি শো ‘ফেস অব টুমরো’র প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এম এইচ এস লাবণ ও রাইসা সুলতানা। চ্যাম্পিয়ন জুটি পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা পুরস্কার। প্রথম রানার্সআপ শৌমিক ও সিফনা পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ তমাল ও মুনমুন পেয়েছেন ১ লাখ টাকা।
৩ ঘণ্টা আগে
অভিনয়ের পাশাপাশি অনেক শিল্পীই ব্যবসায় যুক্ত। কারও রয়েছে রেস্তোরাঁ, কেউ যুক্ত বিউটি পারলারের সঙ্গে, কারও রয়েছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড। এবার ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখালেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। তিনি যুক্ত হয়েছেন স্পিডটাচ অটোস নামের গাড়ি বিক্রির একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে।
৩ ঘণ্টা আগে
ভারতীয় টিভি চ্যানেলের অন্যতম সফল সিরিজ ‘নাগিন’। ২০১৫ সালে কালারস টিভিতে পথচলা শুরু করেছিল ইচ্ছাধারী নাগিন ও প্রতিশোধের এই রোমাঞ্চকর ফ্যান্টাসি ড্রামা। গত ১১ বছরে সাতটি সফল মৌসুম পার করেছে সিরিজটি। সবশেষ গত জুনে শেষ হয়েছে নাগিনের সপ্তম সিজনের প্রচার। নাগিনের পথ এবার বাঁক নিয়েছে ভিন্ন দিকে।
৪ ঘণ্টা আগে
মাদক-কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেতা ইউ আ ইন। অবশেষে তিন বছর পর ক্যামেরার সামনে ফিরছেন তিনি। পরিচালক জাং জে হিয়োনের থ্রিলার সিনেমা ‘ভ্যাম্পায়ার’-এ অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি।
৪ ঘণ্টা আগে