Ajker Patrika

সবুজ উপহারে নবীনদের স্বাগত

পাবিপ্রবিতে ব্যতিক্রমী আয়োজন

আলফি সানি
সবুজ উপহারে নবীনদের স্বাগত
পাবিপ্রবিতে ব্যতিক্রমী আয়োজন সবুজ উপহারে নবীনদের স্বাগত। ছবি: আজকের পত্রিকা

জীবনে কিছু দিন থাকে, যা একবারই আসে, কিন্তু স্মৃতিতে থেকে যায় সারা জীবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পা রাখার ক্ষণটা তেমনই একটি দিন। দীর্ঘ প্রস্তুতি, অসংখ্য পরীক্ষা আর প্রতীক্ষার পর স্বপ্নের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সেই মুহূর্তে একসঙ্গে ভিড় করে আনন্দ, কৌতূহল, অচেনা শঙ্কা আর নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন। নতুন বন্ধু, নতুন শিক্ষক, নতুন শ্রেণিকক্ষ, নতুন পরিবেশ—সব মিলিয়ে শুরু হয় জীবনে এক নতুন অধ্যায়। প্রথম দিনের ছোট ছোট সেই মুহূর্তই একসময় হয়ে ওঠে আজীবনের সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি।

উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পা রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। কেউ পরিবার ছেড়ে প্রথমবারের মতো আবাসিক জীবনে প্রবেশ করেন, কেউ পরিচিত হন নতুন শহরের সঙ্গে। অচেনা মুখগুলো ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে আপন। নতুন গল্প নিয়েই শুরু হয় উচ্চশিক্ষার যাত্রা।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৮০০ নবীন শিক্ষার্থীর কাছেও দিনটি ছিল ঠিক তেমনই এক নতুন শুরুর দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতেই চোখে পড়ছিল উচ্ছ্বসিত নবীনদের ভিড়। কারও চোখে বিস্ময়, কারও মুখে হাসি। কেউ নতুন বন্ধু খুঁজছিলেন, কেউ বিভাগের সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলেন। আবার কেউ মুঠোফোনে বন্দী করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম দিনের স্মৃতি।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠান যেন হয়ে উঠেছিল এক প্রাণবন্ত উৎসব। সকাল থেকে নবীনদের পদচারণে মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস। নতুন পোশাক, উজ্জ্বল মুখ আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা একে একে জড়ো হন অনুষ্ঠানে। শিক্ষকদের আন্তরিক অভ্যর্থনা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ে দিনটি হয়ে ওঠে আরও আনন্দময়।

তবে এবারের আয়োজনকে আলাদা করেছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রত্যেক নবীন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ইনডোর প্ল্যান্টের চারা এবং সোনালি আঁশের পাট দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ। উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে প্রশান্তির হাসি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম দিনটি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা। সেই দিনকে স্মরণীয় করতেই প্রত্যেকের হাতে একটি ইনডোর প্ল্যান্ট তুলে দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, একটি গাছ যেমন প্রতিদিনের যত্নে ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে, তেমনি স্বপ্নও সফল হয় নিয়মিত পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। এই ছোট্ট চারা শিক্ষার্থীদের সেই বার্তাই মনে করিয়ে দেবে।

উপাচার্য আরও বলেন, চারদেয়ালের শ্রেণিকক্ষের বাইরেও প্রকৃতি একটি বড় শিক্ষালয়। পড়ার টেবিলে রাখা একটি সবুজ গাছ শুধু পরিবেশের প্রতি ভালোবাসাই শেখাবে না, বরং ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও যত্নশীলতার মতো মানবিক গুণও গড়ে তুলবে। একজন দক্ষ পেশাজীবীর পাশাপাশি সংবেদনশীল মানুষ হয়ে উঠতে এসব মূল্যবোধের বিকল্প নেই।

একটি ছোট্ট গাছ। একটি নতুন স্বপ্ন। দুটোরই বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন যত্ন ও ভালোবাসা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনে সেই বার্তাই পৌঁছে দিল পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই ছোট্ট চারাগুলোই একদিন বড় হবে। আর তাদের সঙ্গে বড় হবে আরও সবুজ, আরও সচেতন এক প্রজন্ম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত