পাবিপ্রবিতে ব্যতিক্রমী আয়োজন

জীবনে কিছু দিন থাকে, যা একবারই আসে, কিন্তু স্মৃতিতে থেকে যায় সারা জীবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পা রাখার ক্ষণটা তেমনই একটি দিন। দীর্ঘ প্রস্তুতি, অসংখ্য পরীক্ষা আর প্রতীক্ষার পর স্বপ্নের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সেই মুহূর্তে একসঙ্গে ভিড় করে আনন্দ, কৌতূহল, অচেনা শঙ্কা আর নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন। নতুন বন্ধু, নতুন শিক্ষক, নতুন শ্রেণিকক্ষ, নতুন পরিবেশ—সব মিলিয়ে শুরু হয় জীবনে এক নতুন অধ্যায়। প্রথম দিনের ছোট ছোট সেই মুহূর্তই একসময় হয়ে ওঠে আজীবনের সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি।
উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পা রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। কেউ পরিবার ছেড়ে প্রথমবারের মতো আবাসিক জীবনে প্রবেশ করেন, কেউ পরিচিত হন নতুন শহরের সঙ্গে। অচেনা মুখগুলো ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে আপন। নতুন গল্প নিয়েই শুরু হয় উচ্চশিক্ষার যাত্রা।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৮০০ নবীন শিক্ষার্থীর কাছেও দিনটি ছিল ঠিক তেমনই এক নতুন শুরুর দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতেই চোখে পড়ছিল উচ্ছ্বসিত নবীনদের ভিড়। কারও চোখে বিস্ময়, কারও মুখে হাসি। কেউ নতুন বন্ধু খুঁজছিলেন, কেউ বিভাগের সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলেন। আবার কেউ মুঠোফোনে বন্দী করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম দিনের স্মৃতি।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠান যেন হয়ে উঠেছিল এক প্রাণবন্ত উৎসব। সকাল থেকে নবীনদের পদচারণে মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস। নতুন পোশাক, উজ্জ্বল মুখ আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা একে একে জড়ো হন অনুষ্ঠানে। শিক্ষকদের আন্তরিক অভ্যর্থনা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ে দিনটি হয়ে ওঠে আরও আনন্দময়।
তবে এবারের আয়োজনকে আলাদা করেছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রত্যেক নবীন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ইনডোর প্ল্যান্টের চারা এবং সোনালি আঁশের পাট দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ। উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে প্রশান্তির হাসি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম দিনটি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা। সেই দিনকে স্মরণীয় করতেই প্রত্যেকের হাতে একটি ইনডোর প্ল্যান্ট তুলে দেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, একটি গাছ যেমন প্রতিদিনের যত্নে ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে, তেমনি স্বপ্নও সফল হয় নিয়মিত পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। এই ছোট্ট চারা শিক্ষার্থীদের সেই বার্তাই মনে করিয়ে দেবে।
উপাচার্য আরও বলেন, চারদেয়ালের শ্রেণিকক্ষের বাইরেও প্রকৃতি একটি বড় শিক্ষালয়। পড়ার টেবিলে রাখা একটি সবুজ গাছ শুধু পরিবেশের প্রতি ভালোবাসাই শেখাবে না, বরং ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও যত্নশীলতার মতো মানবিক গুণও গড়ে তুলবে। একজন দক্ষ পেশাজীবীর পাশাপাশি সংবেদনশীল মানুষ হয়ে উঠতে এসব মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
একটি ছোট্ট গাছ। একটি নতুন স্বপ্ন। দুটোরই বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন যত্ন ও ভালোবাসা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনে সেই বার্তাই পৌঁছে দিল পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই ছোট্ট চারাগুলোই একদিন বড় হবে। আর তাদের সঙ্গে বড় হবে আরও সবুজ, আরও সচেতন এক প্রজন্ম।

স্কুলের বেঞ্চ, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডর, ক্যানটিনের ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা; কিংবা গভীর রাতে হঠাৎ বেজে ওঠা একটি ফোন। জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতিগুলোর অনেকটাই জড়িয়ে থাকে বন্ধুদের ঘিরে।
৪ মিনিট আগে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সমাজকর্ম বিভাগ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে (ফল) এক বছর মেয়াদি প্রফেশনাল স্পেশালাইজড মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এ বছর তিনটি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
৯ মিনিট আগে
বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্টার্স (এমফিল) ও পিএইচডি প্রোগ্রামে সম্পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তির সুযোগ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার মারডক ইউনিভার্সিটি। এ বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
১৮ মিনিট আগে
ছোট্ট একটা মেয়ে। মা তখন তার কপালে হাত রেখে স্বপ্ন দেখতেন—এই মেয়ে একদিন জয় করবে পুরো পৃথিবী। সেই বিশ্বাসের ওপর আস্থা রেখেই নাম রাখা হয়েছিল পৃথ্বী। প্রায় দুই যুগ পর আজ সেই নামের অর্থ যেন সত্যি হয়ে উঠতে শুরু করেছে বাস্তবে। চুয়েট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে কানাডার...
১ ঘণ্টা আগে