
শৈশব মানে হাসি, খেলা আর রঙিন স্বপ্নের এক পৃথিবী। কিন্তু সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য সেই শৈশব খুব দ্রুত হারিয়ে যায় দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অবহেলার কঠিন বাস্তবতায়। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক শিশু ছিটকে পড়ে শিক্ষার মূলধারা থেকে।
এমন বাস্তবতায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের হাতে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে এগিয়ে এসেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একদল তরুণ-তরুণী। ‘লুমিনারি’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে তাঁরা গড়ে তুলছেন স্বপ্ন দেখার নতুন ঠিকানা।
নোবিপ্রবির প্রশান্তি পার্কে প্রতি সপ্তাহে বসে লুমিনারির ব্যতিক্রমী পাঠশালা। ক্যাম্পাস-সংলগ্ন শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে এখানে নিয়মিত পাঠদান করানো হয়। তবে এই কার্যক্রম শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে শেখানো হয় গান, কবিতা, গল্প, নৈতিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম।
প্রতি শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হয় পাঠদানের এই আয়োজন। খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল বিছিয়ে ছোট ছোট শিক্ষার্থীকে নিয়ে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীরা। দিনের শেষ বিকেলে শিশুদের কণ্ঠে ভেসে ওঠে অনুপ্রেরণার গান, আর সেই সুরে যোগ দেন স্বেচ্ছাসেবীরাও। হাসি, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
সংগঠনটির সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘প্রতিটি শিশু মানুষ হোক আলোর ঝরনাধারায়’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২০১৫ সালে লুমিনারির যাত্রা শুরু হয়। আমরা বিশ্বাস করি, একটি জাতির অগ্রগতির মূল ভিত্তি শিক্ষা এবং কোনো শিশুই সেই আলো থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে না। সেই লক্ষ্যেই আমরা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুশিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।’
মেহেদী হাসান জানান, নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিশুদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে চিত্রাঙ্কন, খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমও রয়েছে তাদের উদ্যোগের অংশ হিসেবে।
লুমিনারিতে পড়তে আসা আট বছর বয়সী সোহাগি বলে, ‘প্রতি শুক্রবার এখানে পড়তে আসতে আমার খুব ভালো লাগে। এখন আমি অনেক কিছু শিখছি, স্কুলেও ভালোভাবে পড়তে পারি।’
১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রাহীমের কণ্ঠে ফুটে ওঠে বাস্তবতার গল্প। সে বলে, ‘আমরা গরিব মানুষ, খেতে-পড়তে কষ্ট হয়। একসময় পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। এখানে আবার পড়া শুরু করেছি। সপ্তাহে আরও কয়েক দিন ক্লাস হলে আমাদের জন্য আরও ভালো হতো।’
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আহাম্মদ বলেন, ‘এই এলাকার অনেক শিশু এখনো শিক্ষার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেওয়া নয়; তাদের ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানো, প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গড়ে তুলতে সহায়তা করে যাওয়া।’
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগে লুমিনারি এখন আশার এক উজ্জ্বল নাম। তরুণদের এই ধরনের মানবিক উদ্যোগই হয়তো একদিন গড়ে তুলবে একটি আলোকিত সমাজ—যেখানে প্রতিটি শিশুই খুঁজে পাবে তার স্বপ্নের ঠিকানা।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষা গন্তব্য হয়ে উঠতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে চীন। দেশটির ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শিক্ষা খাতে উচ্চমানের উন্মুক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘চীনে পড়াশোনা করুন’ ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৩ মিনিট আগে
শিশু সুরক্ষা, মানবতা আর সাহসিকতার এক উজ্জ্বল নাম মাহমুদুর রহমান নাঈম। মাত্র ২১ বছর বয়সে গাজীপুরের টঙ্গীর ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল থেকে উঠে এসে তিনি সমাজ পরিবর্তনের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন।
৪৩ মিনিট আগে
পোলট্রি, গবাদিপশু এবং মাছের খাদ্য প্রস্তুতে খরচ কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক ‘বাউ-ফিড সার্ভিস’ (বাউ-এফএস) নামে একটি স্মার্ট সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
জাপান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপের আওতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নের সুযোগ দিচ্ছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। আবেদনের শেষ সময় ৩১ মে ২০২৬।
৩ ঘণ্টা আগে