যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় অনুষ্ঠিত স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস (এসইউএএস) ২০২৬ প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) এরিয়াল রোবোটিকস টিম (ইউএআরটি)।
আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়েই এই সাফল্য পেয়েছে ইউআইইউর দল। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ১৪-১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টালসায় অবস্থিত স্কাইওয়ে রেঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়।
চার দিনের এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দল অংশ নেয়। প্রতিকূল আবহাওয়া, উচ্চ বাতাসের গতি ও তাপমাত্রার মধ্যেও ইউআইইউর ইউএআরটি প্রযুক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা ও পরিচালন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। এসইউএএস প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথমবার কোনো বাংলাদেশি দল শীর্ষ চারে জায়গা করে নেয়। সেই অর্জনের অংশীদার ইউআইইউর ইউএআরটি।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ইউএআরটির প্রতিনিধিত্বকারী দলে ছিলেন কো-টিম লিড আহমেদ জুনায়েদ। প্রকল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমন্বয়কারী ছিলেন মেকানিক্যাল টিম লিড মুক্তাদিরুল ইসলাম, নেভিগেশন ও আরঅ্যান্ডডি টিম লিড ফাহাদ রহমান এবং কমিউনিকেশন টিম লিড ইফতা ফয়সাল। মেকানিক্যাল টিমের সদস্য ছিলেন দিগন্ত কর্মকার। দলটির মেন্টর ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রিয়াসাত আজিম। পিআর অ্যান্ড মার্কেটিং টিম লিড ছিলেন মাইসুন জহির।
পিআর অ্যান্ড মার্কেটিং টিম লিড মাইসুন জহির বলেন, ‘এটি ছিল এক চ্যালেঞ্জে ভরা যাত্রা। রাত জাগা, অনিশ্চয়তা আর অসংখ্য এমন মুহূর্ত ছিল, যখন আমাদের নিজেদের সীমার বাইরে গিয়ে পরিশ্রম করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের টিমকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা এবং বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই অর্জন ইউআরটির প্রতিটি সদস্যের, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন বা বাংলাদেশে থেকে নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন।’
২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজন হয়ে আসছে এসইউএএস প্রতিযোগিতা। এটি বিশ্বের পরিচিত স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। এবারের প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮১টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬৭টি দল চূড়ান্ত পর্বের ফ্লাইং প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়। পরে ৬৪টি দল ফ্লাইট রেডিনেস অনুমোদন পায়। শেষ পর্যন্ত ৫৮টি দল ফ্লাইট পরিচালনা করে। প্রতিযোগিতার দিন আবহাওয়ার কারণে দলগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। উচ্চ বাতাসের গতি ও তাপমাত্রার কারণে ফ্লাইট পরিচালনাকারী দলগুলোর মধ্যে ২১টি দলের ফ্লাইট ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতিতে ইউআইইউর ইউএআরটি কৌশলগত পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে মিশন সম্পন্ন করে। এর ফলেই আসে চতুর্থ স্থান।
কো-টিম লিড আহমেদ জুনায়েদ বলেন, ‘এই পর্যায়ে পৌঁছানো সহজ ছিল না। আমাদের কঠোর মূল্যায়ন এবং অসংখ্য নিদ্রাহীন রাত পার করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী ও একজন মেন্টর নিয়ে আমাদের প্রতিযোগিতা করতে হয়েছিল, যেখানে অন্য টিমগুলোর ছিল ২৫-৩০ জন সদস্য। চাপ ছিল অত্যন্ত বেশি। বাংলাদেশ থেকে আমাদের টিমের সহায়তায়, সময়ের পার্থক্য সত্ত্বেও আমরা এখানে পৌঁছাতে পেরেছি।’
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ছিল কর্নেল ইউনিভার্সিটি, মোনাশ ইউনিভার্সিটি, দ্য ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং ওয়ারশ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির মতো প্রতিষ্ঠান। এসব দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চতুর্থ স্থান অর্জন করে ইউআইইউর ইউএআরটি। এবারের প্রতিযোগিতায় সেফটি ইন্সপেকশন ও র্যাপিড রেসপন্সে পূর্ণ নম্বর পেয়েছে দলটি। পাশাপাশি একমাত্র দল হিসেবে অটোনোমাসভাবে মিশন সম্পন্ন করার কৃতিত্বও অর্জন করেছে।
টিমটির মেন্টর ড. রিয়াসাত আজিম বলেন, ‘ইউআরটিকে একটি আইডিয়া থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতা করার সক্ষম একটি টিমে পরিণত হতে দেখা সত্যিই এক তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা। এই যাত্রায় নিষ্ঠা, অসংখ্য ঘণ্টার প্রস্তুতি এবং দৃঢ় টিমওয়ার্কের প্রয়োজন ছিল। তাদের এই বিকাশ প্রত্যক্ষ করতে পারা এবং পুরো সময় তাদের পাশে থাকতে পারা আমার জন্য গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা এবং তাদের প্রথম এসইউএএস অংশগ্রহণেই বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করা অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। এই অর্জন পুরো ইউআরটি পরিবারের।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের অধীনে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অন-ক্যাম্পাস রেগুলার মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) প্রোগ্রামের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
১৫ মিনিট আগে
জৈব রসায়নের মূল নায়ক কার্বন পণ করেছিল, সে আর কোনো শিক্ষার্থীকে ভয় দেখাবে না; বরং ছোট্ট বিড়াল হয়ে গল্পের ছলে শেখাবে। অনেক দিন পর সেই কার্বন ভাইয়ার ডাকে সোজা চলে গেছে...
২ ঘণ্টা আগে
একটি সনদ হাতে পেলেই কি শেষ হয় শিক্ষার্থীর পথচলা? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখো শিক্ষার্থীর বাস্তবতা বলছে, প্রশ্নটি আরও গভীর। দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, অনিয়মিত পরীক্ষা, শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতি, প্রয়োজনীয় শিক্ষাসুবিধার ঘাটতি এবং মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার মধ্য দিয়েই এগোতে হচ্ছে অনেককে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে....
২ ঘণ্টা আগে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন দেখছেন অনেক শিক্ষার্থী। কাঙ্ক্ষিত আসন পেতে শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, দরকার পরিকল্পিত প্রস্তুতি। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ, নিয়মিত অনুশীলন, মডেল টেস্ট ও সময়ের সঠিক ব্যবহারে প্রস্তুতি আরও গোছানো যায়।
৫ ঘণ্টা আগে