Ajker Patrika

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: কাঙ্ক্ষিত আসন পেতে প্রস্তুতি যেভাবে

মো. আরিফুল ইসলাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: কাঙ্ক্ষিত আসন পেতে প্রস্তুতি যেভাবে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন দেখছেন অনেক শিক্ষার্থী। কাঙ্ক্ষিত আসন পেতে শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, দরকার পরিকল্পিত প্রস্তুতি। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ, নিয়মিত অনুশীলন, মডেল টেস্ট ও সময়ের সঠিক ব্যবহারে প্রস্তুতি আরও গোছানো যায়।

বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করুন

বিগত বছরের প্রশ্ন নিয়মিত পড়ুন ও সমাধান করুন। যে অধ্যায় বা বিষয় থেকে বারবার প্রশ্ন এসেছে, সেগুলো ভালোভাবে পড়ুন। পাশাপাশি নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করুন। শুধু প্রশ্ন সমাধান করলেই হবে না, প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণও করতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন দেখলে বোঝা যায়, একই ধরনের ধারণা বা প্রশ্নের ধরন অনেক সময় ঘুরেফিরে আসে। এটিকে সরাসরি ‘কমন’ বলা যাবে না। তবে প্রশ্নের ধরন বা বিষয় নির্বাচনে মিল থাকতে পারে। প্রশ্নের ভাষা বদলে যেতে পারে। কিন্তু মূল ধারণা একই থাকতে পারে। তাই প্রশ্নব্যাংক ও বিগত বছরের প্রশ্ন ভালোভাবে বিশ্লেষণ করুন। পরিকল্পনা করে নিয়মিত রিভিশন দিন। কোন বিষয় ভুলে যাচ্ছেন, কোন অধ্যায়ে বারবার ভুল হচ্ছে কিংবা কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করুন। এরপর সেসব বিষয়ে বারবার অনুশীলন করুন।

মনে রাখবেন, সবার শেখার ও বোঝার ধরন এক নয়। তাই অন্যের রুটিন হুবহু অনুসরণ করবেন না। নিজের সক্ষমতা ও দুর্বলতা অনুযায়ী রুটিন তৈরি করুন।

আত্মবিশ্বাস রাখুন

নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখুন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লক্ষ্য নিয়েই আপনি পরীক্ষা দিচ্ছেন। তাই শুরু থেকে নিজের মধ্যে বিশ্বাস রাখুন, ‘আমি পারব’। তবে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত প্রস্তুতিও দরকার। নিয়মিত পড়াশোনা, অনুশীলন ও মডেল টেস্টের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে।

সময় ব্যবস্থাপনা

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, মডেল টেস্ট ও মূল পরীক্ষা—সব ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা জরুরি। ‘আমি প্রশ্নটি পারি’, এটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নির্ধারিত সময়ে উত্তর দিতে পারাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী উত্তর জানা সত্ত্বেও সময়ের অভাবে ভালো করতে পারেন না। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে প্রশ্ন সমাধানের অভ্যাস করুন।

মডেল টেস্ট দিন

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মডেল টেস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বুঝতে পারবেন, কোন বিষয়গুলো ভালোভাবে প্রস্তুত হয়েছে। কোন অধ্যায়ে দুর্বলতা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কতটি প্রশ্ন সমাধান করতে পারছেন। কোন ধরনের প্রশ্নে বেশি সময় লাগছে। ভুলের হার কতটা।

নিয়মিত মডেল টেস্ট দিলে পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। কারণ প্রশ্ন বুঝলেও নির্দিষ্ট সময়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সঠিক উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত উত্তর করার দক্ষতাও গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ করে নেগেটিভ মার্কিং থাকলে অল্প নম্বরের ব্যবধানেও মেধাক্রমে পার্থক্য তৈরি হতে পারে। তাই এ সময়ে বেশি বেশি মডেল টেস্ট দেওয়া জরুরি। এতে সময় ব্যবস্থাপনা ঠিক হবে। নিজের দুর্বলতা ধরা পড়বে। পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।

যেভাবে উত্তর দাগাবেন

ভর্তি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং থাকলে উত্তর দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন। যেসব প্রশ্নের উত্তর শতভাগ জানেন, সেগুলোর উত্তর আগে দিন। কঠিন প্রশ্ন বা দুটি অপশনের মধ্যে দ্বিধা থাকলে সেগুলো প্রথমবার এড়িয়ে যেতে পারেন। পরে সময় থাকলে সেসব প্রশ্নে ফিরে আসুন। নেগেটিভ মার্কিংয়ের কারণে বেশি প্রশ্নের উত্তর করার চেয়ে নির্ভুল উত্তর দেওয়ায় গুরুত্ব দিন। পরীক্ষার হলে তিন ধাপে উত্তর করার কৌশল অনুসরণ করতে পারেন।

প্রথম ধাপ: শতভাগ নিশ্চিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন।

দ্বিতীয় ধাপ: যেসব প্রশ্নে সামান্য চিন্তা করলে উত্তর বের করতে পারবেন, সেগুলো করুন।

তৃতীয় ধাপ: যেসব প্রশ্নে বেশি সময় লাগছে বা প্রচণ্ড দ্বিধা রয়েছে, সেগুলো শেষে বিবেচনা করুন।

কোনো একটি অধ্যায় দুর্বল বলে হতাশ হবেন না। যেসব বিষয় ভালো পারেন, সেগুলো আরও শক্তিশালী করুন। পাশাপাশি দুর্বল জায়গাগুলো ধীরে ধীরে ঠিক করুন।

যত বেশি সম্ভব প্রশ্ন নির্ভুলভাবে উত্তর করার চেষ্টা করুন। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। নিয়মিত পড়ুন। সময়কে কাজে লাগান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যান।

কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার আসনটিই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। সেটি অর্জনের জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি ও নিয়মিত অনুশীলন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত