
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের একটি বাঁশের হাসপাতাল থেকে শুরু হওয়া স্বপ্ন আজ পরিণত হয়েছে গ্রামীণ বাংলার এক ব্যতিক্রমী বিদ্যাপীঠে। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাশেই গড়ে ওঠা গণ বিশ্ববিদ্যালয় পা রেখেছে প্রতিষ্ঠার ২৮ বছরে। ১৯৯৮ সালের ১৪ জুলাই যাত্রা শুরু করা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রান্তিক মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং প্রতিষ্ঠাতাদের সংগ্রামী জীবনের এক অনন্য দলিল।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকড় প্রোথিত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। সে সময় লন্ডনে এফআরসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তরুণ চিকিৎসক জাফরুল্লাহ চৌধুরী। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানি পাসপোর্ট পুড়িয়ে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেন এবং চলে আসেন ভারতে। আগরতলার মেলাঘরে মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে বাঁশ ও চট দিয়ে গড়ে তোলেন ৪৮০ শয্যার একটি ফিল্ড হাসপাতাল। নাম দেওয়া হয় ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’। সেখানে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জটিল অস্ত্রোপচারও সম্পন্ন হতো।
এই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম, ডা. এম এ মবিন, ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেক চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবী। অল্প সময়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে সাধারণ নারীরাও সেবিকার দায়িত্ব পালন করতেন সেখানে। যুদ্ধের ৯ মাসে হাজারো মুক্তিযোদ্ধা এবং শরণার্থীর জীবনরক্ষার সাক্ষী হয়ে আছে সেই বাঁশ-চটের হাসপাতাল।
স্বাধীনতার পর হাসপাতালটি প্রথমে ঢাকার ইস্কাটনে স্থানান্তরিত হয়। পরে ১৯৭২ সালের এপ্রিলে ‘চল গ্রামে যাই’ স্লোগান সামনে রেখে এটি সাভারে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় মানুষের জমি এবং নির্মাণসামগ্রী দান করার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
একই বছর একটি নিবন্ধিত পাবলিক চ্যারিটেবল ট্রাস্ট হিসেবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র যাত্রা শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য বিমোচন করা এবং নারীর ক্ষমতায়ন। স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিক্ষাকে একসূত্রে গেঁথে গ্রামীণ উন্নয়নের যে মডেল গড়ে ওঠে, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১৪ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় গণ বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৪ জুলাই তারিখটি বেছে নিয়েছিলেন বিশেষ এক তাৎপর্যের কারণে। ১৭৮৯ সালের এই দিনে ফরাসি বিপ্লবের সূচনার মধ্য দিয়ে নিপীড়িত মানুষের মুক্তির নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছিল। সেই মানবমুক্তির চেতনা থেকে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু।
নিম্নমধ্যবিত্ত এবং প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই ছিল গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। ‘ইউনিভার্সিটি উইথ আ ডিফারেন্স’—এই নীতিবাক্যকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়টি বেসরকারি উচ্চশিক্ষায় একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।
বর্তমানে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, প্রাণী চিকিৎসা, প্রাণিবিজ্ঞানসহ পাঁচটি অনুষদের অধীনে ১৭টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নারীশিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নে অবদান রাখাই হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তি।
শিক্ষার্থীদের সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য প্রাণচাঞ্চল্য। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম শিক্ষার্থী সাংবাদিক সমিতি গড়ে ওঠে এখানে। এটিই একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ডিবেটিং সোসাইটি, মিউজিক কমিউনিটিসহ ১৮টি শিক্ষার্থী পরিচালিত সংগঠন সক্রিয়। জাতীয় পর্যায়ের খেলাধুলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন।
আড়াই দশকের বেশি সময় পার হয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ এবং গণমানুষের জন্য শিক্ষা—এর ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি এগিয়ে চলছে।
জন্মলগ্ন থেকে শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে সাভারের এই বিদ্যাপীঠ।
‘গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ১১ জুলাই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদামতলা থেকে বেলুন উড়িয়ে র্যালির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মিলনায়তনে আলোচনা সভা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. তমিজ উদ্দিন এবং ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অনাড়ম্বর জীবনযাপন, মানবকল্যাণে নিবেদিত কর্ম এবং শিক্ষাবিষয়ক দর্শনের কথা স্মরণ করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাত আজ বিশ্বব্যাপী একটি বৃহৎ বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে, সেখানে গণমানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষায় একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার সেই আদর্শ আজও সমানভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অর্ধেকের কম টিউশন ফিতে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা অনেক শিক্ষার্থীও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত স্নাতকোত্তর (এমএসসি) প্রোগ্রামে রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএস কোর্সের ষষ্ঠ ব্যাচে ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ৩১ জুলাই সকাল ১০টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
৩ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে কানাডার অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান টরন্টো ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্যাদাপূর্ণ ‘লেস্টার বি. পিয়ারসন ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত...
৩ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ বাঁশির অপেক্ষায় এখন গোটা বিশ্ব। আজ (রোববার দিবাগত রাত ১টা) শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন। এই মহারণ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতেও উৎসবের আমেজ।
৫ ঘণ্টা আগে
একটি খালি প্লাস্টিকের বোতল। সাধারণত এর ঠিকানা হয় ডাস্টবিন, ড্রেন কিংবা খোলা মাঠে। তবে সেই বোতলের বিনিময়ে যদি পাওয়া যায় গাছের চারা, কেমন হয়? এমন ভাবনা থেকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) পরিবেশবিষয়ক সংগঠন গ্রিন ভয়েস। তাদের আয়োজন ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছ
৬ ঘণ্টা আগে