Ajker Patrika

চাকরি খোঁজায় ভুল পথে হাঁটছেন না তো

ক্যারিয়ার ডেস্ক
চাকরি খোঁজায় ভুল পথে হাঁটছেন না তো
প্রতীকী ছবি

একের পর এক চাকরির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন স্ক্রল করলেন, তড়িঘড়ি কয়েকটি আবেদন পাঠালেন। তারপর ল্যাপটপ বন্ধ করে মনে হলো, আজ বেশ কাজ হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই নেমে আসে নীরবতা, কোনো ফোন নেই, ই-মেইল নেই, কোনো সাড়াও নেই।

এ অভিজ্ঞতা এখন অনেক চাকরিপ্রার্থীর পরিচিত বাস্তবতা। আর এই প্রবণতার নাম ‘ডুমজবিং’। অর্থাৎ পরিকল্পনা বা লক্ষ্য ছাড়া একের পর এক চাকরিতে আবেদন পাঠানো।

২০২৫ সালের জব সিকার নেশন রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ চাকরিপ্রার্থী মনে করেন, ১০টি আবেদন করলে একটি চাকরি পাওয়ার কথা। অথচ ৬৬ শতাংশ জানিয়েছেন, চাকরি খোঁজার পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁরা মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অর্থাৎ প্রত্যাশা বাড়ছে, কিন্তু আত্মবিশ্বাস কমছে। ফলে অনেকে ‘যত বেশি আবেদন, তত বেশি সুযোগ’—এই ধারণায় ভরসা করছেন। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, এ পদ্ধতি চাকরি পাওয়ার পথ সহজ করার বদলে অনেক সময় আরও কঠিন করে তুলছে।

লক্ষ্যভিত্তিক আবেদন

ডুমজবিংয়ের মূল ধারণা খুব সহজ, বেশি আবেদন মানে বেশি সম্ভাবনা। কিন্তু বর্তমান চাকরিবাজারে এই সমীকরণ সব সময় কাজ করে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়া ধীরগতির, আবার কর্মীরাও আগের তুলনায় কম চাকরি বদল করছেন। ফলে শুধু আবেদনসংখ্যা বাড়ালে সফলতা আসে না। বরং এতে আবেদনগুলোর মান কমে যায়। প্রতিটি সিভি ও কভার লেটারে আলাদা মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে প্রার্থীর প্রকৃত দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা নিয়োগকর্তার কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায় না।

ভুল চাকরির পেছনে সময় নষ্ট

চাপ ও উদ্বেগ বাড়লে চাকরির সঙ্গে নিজের সামঞ্জস্য বিচারের প্রবণতাও কমে যায়। তখন অনেকে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা বা আগ্রহের সঙ্গে না মিললেও প্রায় সব ধরনের চাকরিতে আবেদন করতে শুরু করেন। ফলে কোথাও তাঁরা অতিরিক্ত যোগ্য, কোথাও আবার প্রয়োজনীয় যোগ্যতার ঘাটতি থাকে। কিছু চাকরি হয়তো তাঁরা আদৌ করতে চান না। গবেষণা বলছে, ৩৬ শতাংশ কর্মী চাকরিতে যোগ দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে চাকরি ছেড়ে দেন, কারণ বাস্তব কাজ তাঁদের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে না। অর্থাৎ ভুল চাকরিতে আবেদন শুধু সময় নষ্টই করে না, ভবিষ্যতে আরও বড় হতাশার কারণও হতে পারে।

ক্লান্তি বাড়ায় ডুমজবিং

চাকরি খোঁজার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য ও মানসিক শক্তি। কিন্তু প্রতিদিন অসংখ্য আবেদন পাঠিয়েও যখন কোনো সাড়া পাওয়া যায় না, তখন হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একসময় কভার লেটার ছোট হয়ে আসে, কোম্পানি সম্পর্কে গবেষণা বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতিতেও মনোযোগ কমে যায়। শুরুতে যা ‘উৎপাদনশীলতা’ মনে হয়েছিল, কিছুদিন পর সেটিই মানসিক চাপের বড় উৎস হয়ে দাঁড়ায়।

এটিএসের ভিড়ে হারিয়ে যায় আবেদন

বর্তমানে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই আবেদন যাচাইয়ের জন্য অ্যাপ্লিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম (এটিএস) ব্যবহার করে। এই সফটওয়্যার নির্দিষ্ট কি-ওয়ার্ড, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিভি বাছাই করে।

কিন্তু ডুমজবিংয়ের কারণে অনেকে একই ধরনের সাধারণ সিভি শত শত প্রতিষ্ঠানে পাঠান। ফলে চাকরির বিজ্ঞাপনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় মিল খুঁজে পায় না এটিএস। অনেক সময় যোগ্য প্রার্থীর আবেদনও মানবসম্পদ বিভাগের টেবিলে পৌঁছানোর আগেই বাদ পড়ে যায়।

নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ কমে যায়

চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্পর্ক ও পরিচিতির গুরুত্ব এখনো অনেক। সহকর্মী, বন্ধু, সাবেক শিক্ষক কিংবা শিল্প খাতের পরিচিতদের মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ডুমজবিং মানুষকে এমন এক চক্রে ফেলে, যেখানে পুরো সময়টা শুধু আবেদন পাঠাতে ব্যয় হয়। ফলে নেটওয়ার্কিং, শিল্প খাত সম্পর্কে আপডেট থাকা কিংবা নিজের উপস্থিতি দৃশ্যমান

রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোআর গুরুত্ব পায় না। কাজের ভান, কিন্তু অগ্রগতি নেইডুমজবিংয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটি ভুয়া অগ্রগতির অনুভূতি তৈরি করে। দিনে ১৫টি আবেদন পাঠালে মনে হতে পারে, অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি বোঝা যায়, কতগুলো সাক্ষাৎকার হলো, কতজনের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হলো কিংবা কতটি অর্থবহ আলোচনা শুরু হলো এসব দিয়ে।

অনেক সময় একটি ভালোভাবে গবেষণা করা আবেদন ১০টি সাধারণ আবেদনের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।

প্রত্যাখ্যান আরও বেশি কষ্ট দেয়

একসঙ্গে অসংখ্য চাকরিতে আবেদন করার পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো উত্তর না এলে, সেই নীরবতা অনেকের কাছে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা মনে হতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চাকরিপ্রার্থী নিয়োগদাতার কাছ থেকে ‘ঘোস্টিং’-এর শিকার হয়েছেন। অর্থাৎ আবেদন বা সাক্ষাৎকারের পর আর কোনো যোগাযোগই পাননি। এভাবে বারবার প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। ফলে যেসব সুযোগ সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, সেখানেও প্রার্থী নিজের সেরাটা তুলে ধরতে ব্যর্থ হতে পারেন।

তাহলে সমাধান কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকরি খোঁজাকে ‘সংখ্যার প্রতিযোগিতা’ নয়, বরং একটি কৌশলগত প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত।

অসংখ্য আবেদন পাঠানোর বদলে—

⬤ লক্ষ্যভিত্তিক আবেদন করুন।

⬤ প্রতিটি সিভি ও কভার লেটার আলাদাভাবে সাজান।

⬤ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আগে থেকে গবেষণা করুন।

⬤ পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান।

⬤ দক্ষতা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করুন।

এসব চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। চাকরির বাজার কঠিন হতে পারে। তবে অযথা দৌড়ানোর বদলে সঠিক পথে এগোনোই শেষ পর্যন্ত বেশি কার্যকর।

তথ্যসূত্র: ফোর্বস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, অভিযোগের বিষয়ে যা বলছে বিএনপি

এজেন্সির প্রতারণা: রাশিয়ায় গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত ৩ বাংলাদেশি

আগামীকাল থেকেই বন্ধ প্রাথমিক বিদ্যালয়

যুবদল ও ছাত্রদলের ৮ নেতা-কর্মীর নামে মামলা দিয়ে ঝিনাইদহ ছাড়লেন পাটওয়ারী

পদত্যাগ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত