বিসিএস পরীক্ষার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা অন্যতম। এই ধাপে ভালো করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সাধারণ ক্যাডারের প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এতে অংশ নিচ্ছেন ২ হাজার ৫৭০ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা চলবে আগামী ১০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। ভাইভায় ভালো করার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ৪১তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. মাসুম কামাল।

কথায় আছে, আগে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারি। তাই বিসিএস ভাইভায় পোশাক-পরিচ্ছদে পরিপাটি ও মার্জিত থাকা জরুরি। আপনার উপস্থাপনা বোর্ড সদস্যদের কাছে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে সহায়তা করে। ভাইভার দিনের পোশাক আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। ছেলেরা মার্জিত রঙের শার্টের সঙ্গে মানানসই প্যান্ট, জুতা ও বেল্ট পড়তে পারেন। চাইলে মার্জিত রঙের একটি টাইও পড়তে পারেন। সাদা শার্ট বা কালো প্যান্ট পরতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে পোশাকের রং যেন সংযত ও ফরমাল হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যাঁরা নিয়মিত পাঞ্জাবি-পায়জামা পরেন, তারা সেটিও পরতে পারেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। নারী প্রার্থীরা শাড়ি কিংবা মার্জিত রঙের সালোয়ার-কামিজ পরতে পারেন। শাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে সালোয়ার-কামিজই ভালো বিকল্প হতে পারে। গরমের দিনে স্যুট পরা বাধ্যতামূলক নয়। বোর্ড কক্ষে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থাকলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে স্যুট পরা যেতে পারে। সব মিলিয়ে এমন পোশাক বেছে নেওয়া উচিত, যা আপনাকে ফরমাল, পরিচ্ছন্ন ও আত্মবিশ্বাসী দেখায়। সম্ভব হলে আগে থেকেই দুই সেট পোশাক প্রস্তুত রাখুন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন। প্রতিটি কাগজপত্রের অন্তত এক সেট অতিরিক্ত ফটোকপি সঙ্গে রাখা ভালো। যাঁরা চাকরিতে আছেন, তাঁরা অবশ্যই এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) সঙ্গে নিয়ে যাবেন। কোনো কারণে এনওসি সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে আবেদনের ফরওয়ার্ডিং কপি সঙ্গে রাখুন। ছবি, প্রবেশপত্র, আবেদনকারীর কপি, ফরম-৩, সব শিক্ষাগত সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী বাসিন্দার সনদ এবং এনওসিসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সত্যায়িত করে অন্তত এক কপি অতিরিক্ত রাখুন। কোনো কাগজপত্র বাদ পড়ে গেলে অযথা দুশ্চিন্তা না করে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলুন। এ ক্ষেত্রে পিএসসি সাধারণত সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখায়।
প্রস্তুতির শুরুতে দুটি আলাদা নোট খাতা রাখতে পারেন। একটি খাতায় বিসিএস ভাইভায় নিয়মিত আসা সাধারণ প্রশ্নগুলো লিখে রাখুন। অন্য খাতায় সেসব প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর লিখুন। এভাবে প্রস্তুতি নিলে মক ভাইভা ও শেষ মুহূর্তের রিভিশনে সুবিধা হবে। পাশাপাশি নিজের দুর্বল জায়গাগুলোও সহজে চিহ্নিত করা যাবে।
আপনি যে ক্যাডারগুলো পছন্দক্রমে রেখেছেন, সেগুলোর সিরিয়াল ভালোভাবে মনে রাখুন। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দের ক্যাডার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যাবেন। পদোন্নতির ধাপ, কাজের ধরন, সুযোগ-সুবিধা, চ্যালেঞ্জ, কেন সেই ক্যাডারে যেতে চান কিংবা নিজের বিষয়ের সঙ্গে ওই ক্যাডারের সম্পর্ক—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ও আত্মবিশ্বাসী উত্তর প্রস্তুত রাখুন। এ ছাড়া সুযোগ পেলে কী ধরনের উদ্যোগ নিতে চান বা কোনো তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন, এ ধরনের প্রশ্নও আসতে পারে। তাই আগে থেকেই কিছু পরিস্থিতিভিত্তিক প্রস্তুতি রাখা ভালো। নিজের অনার্স বিষয়ের মৌলিক ধারণাগুলোও ঝালিয়ে নিন।
ভাইভায় ভালো করতে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে সমসাময়িক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়। বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও অন্য উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে রাখুন। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন সংকট ও সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর দিকেও নজর রাখুন। যেমন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ফিলিস্তিন সংকট, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট কিংবা প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা জরুরি। ভাইভার দিনও পত্রিকা পড়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে অনলাইনেও গুরুত্বপূর্ণ খবর দেখে নিতে পারেন। পাশাপাশি সেদিনের আলোচিত ঘটনাগুলো সম্পর্কেও আপডেট থাকুন। নিয়মিত নোট করলে প্রস্তুতি আরও গোছানো হবে।
ভাইভা বোর্ডে ভালো করার জন্য নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। কীভাবে প্রশ্নের উত্তর দেবেন, তা বাসায় নিজে নিজে, আয়নার সামনে কিংবা অন্য কারও সঙ্গে অনুশীলন করুন। এতে জড়তা কাটবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়বে। অনুশীলনের সময় নিজের ভুলগুলো নোট করে রাখুন এবং পরে অনুশীলন করুন। সম্ভব হলে অনলাইন বা অফলাইনে মক ভাইভায় অংশ নিন। এই অনুশীলন ভাইভা বোর্ডে অনেক কাজে দেয়।
ভাইভা বোর্ডে অনেক সময় কিছু প্রশ্ন ইংরেজিতে করা হয়। বিশেষ করে নিজের পরিচয়, শক্তি-দুর্বলতা, ক্যাডার পছন্দ বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা–সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর ইংরেজিতে প্রস্তুত রাখা ভালো। যেকোনো প্রশ্নের উত্তর অনুশীলনের সময় বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই বলার চেষ্টা করুন। অনেকে ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই আগে থেকে সহজ ও স্পষ্ট ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
বোর্ড সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তাঁদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। মাঝে মাঝে অন্য সদস্যদের দিকেও নজর দিন। সঠিক আই কন্ট্যাক্ট আত্মবিশ্বাস ও আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটায়। তাই পুরো সময়টাতেই স্বাভাবিক ও মনোযোগী থাকার চেষ্টা করুন।
যেকোনো প্রশ্নের উত্তর এমনভাবে দিন, যাতে বোর্ড সদস্যরা আপনার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হন। তবে সন্তুষ্ট করার জন্য ভুল বা মনগড়া উত্তর দেওয়া যাবে না। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে বিনয়ের সঙ্গে ‘দুঃখিত’ বলুন। কোনো অবস্থাতেই তর্কে জড়াবেন না। বোর্ড সদস্যরা আপনার যুক্তি, আচরণ ও উপস্থাপনায় যত বেশি সন্তুষ্ট হবেন, ভালো নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীর উপস্থিত বুদ্ধি ও মানসিক স্থিরতা যাচাই করতে বিভিন্ন কঠিন প্রশ্ন বা পরিস্থিতি তৈরি করা হতে পারে। তাই কোনো অবস্থাতেই বিচলিত হওয়া যাবে না। আত্মবিশ্বাস ও ভদ্রতা বজায় রেখে উত্তর দিতে হবে। ভাইভার দিন নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। বের হওয়ার আগে পরিবারের সদস্য বা কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এতে মানসিক চাপ কিছুটা কমে। অন্য প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা বা প্রশ্ন শুনে আতঙ্কিত হবেন না। মনে রাখবেন, প্রত্যেকের ভাইভা আলাদা। বোর্ড কক্ষে প্রবেশের আগে অনুমতি নিন, সালাম দিন এবং বসার পর ধন্যবাদ জানান। যা জানেন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিন। না জানলে বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করুন। পুরো সময়টায় হাসিমুখ, স্বাভাবিক আচরণ ও আই কন্ট্যাক্ট বজায় রাখুন। ভাইভা শেষে কাগজপত্র নিয়ে সালাম বা ধন্যবাদ জানিয়ে বের হয়ে আসুন। প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ধীরে দরজা ব্যবহার করুন।
সবশেষে মনে রাখুন, ভাইভায় কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকেই। কী প্রশ্ন করা হবে, তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। তাই অন্যের অভিজ্ঞতা শুনে ভয় না পেয়ে নিজের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিন। আত্মবিশ্বাস নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান। সবার জন্য শুভকামনা।
অনুলিখন: আনিসুল ইসলাম নাঈম

একের পর এক চাকরির ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন স্ক্রল করলেন, তড়িঘড়ি কয়েকটি আবেদন পাঠালেন। তারপর ল্যাপটপ বন্ধ করে মনে হলো, আজ বেশ কাজ হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই নেমে আসে নীরবতা, কোনো ফোন নেই, ই-মেইল নেই, কোনো সাড়াও নেই।
১ ঘণ্টা আগে
উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্ক এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৫ হাজার বৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক সরকার। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন
৩ ঘণ্টা আগে
বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এক অফিস আদেশে জানায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে...
১৬ ঘণ্টা আগে
দেশব্যাপী ধর্ষণ ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটির (আইএসইউ) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাখালী ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
২ দিন আগে