Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: নতুন নিয়মে বদলাবে থাকার সময় বাড়বে আনুষ্ঠানিকতা

শিক্ষা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: নতুন নিয়মে বদলাবে থাকার সময় বাড়বে আনুষ্ঠানিকতা
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের লাখো শিক্ষার্থী। সেই স্বপ্নের পথে এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন শর্ত। প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে আগের তুলনায় বেশি কাগজপত্র জমা দিতে হবে, মানতে হবে নির্ধারিত সময়সীমা। একই সঙ্গে বাড়বে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও। পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস (ডি/এস)’ ব্যবস্থা। এটি বাতিল করে এখন থেকে এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থানের অনুমতি চালু করা হচ্ছে।

অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এটি ছাত্র ভিসার নিয়মে বড় কোনো পরিবর্তন নয়। পরিবর্তন এসেছে শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার নিয়মে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা চালিয়ে গেলে তাঁরা যত দিন প্রয়োজন, তত দিন দেশটিতে থাকতে পারতেন। এখন সেই সুযোগ আর থাকবে না। অবস্থানের মেয়াদ আগে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সাধারণভাবে তা হবে শিক্ষাক্রমের মেয়াদ অথবা সর্বোচ্চ চার বছর—যেটি কম।

বদলেছে থাকার নিয়ম

অনেকে মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্র ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছে। বাস্তবে তা নয়। পরিবর্তন এসেছে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কত দিন বৈধভাবে থাকতে পারবেন, সেই নিয়মে। ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার একটি নথি। দেশটিতে পৌঁছানোর পর কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) একজন শিক্ষার্থীর অনুমোদিত অবস্থানের সময় নির্ধারণ করে। সেই তথ্য সংরক্ষিত থাকে আই-৯৪ নথিতে। এত দিন এই নথিতে সাধারণত ‘ডি/এস’ উল্লেখ থাকত। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চালিয়ে গেলে আলাদা সময়সীমার হিসাব রাখতে হতো না। নতুন নিয়মে সেই স্বস্তির জায়গাটি আর থাকছে না।

চার বছর সবার জন্য নয়

চার বছরের সীমা নির্ধারণ করা হলেও সবাই চার বছরের অনুমতি পাবেন, এমনটি নয়। একজন শিক্ষার্থী কত দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর ফর্ম আই-২০-এ উল্লেখ করা শিক্ষাক্রমের মেয়াদের ওপর। অর্থাৎ দুই বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হলে অনুমতিও মিলবে দুই বছরের জন্য। এরপর থাকবে আরও ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড। এ ছাড়া কোর্স শুরুর ৩০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং শেষ হওয়ার পর আরও ৩০ দিন থাকার সুযোগ থাকবে।

এক ডিগ্রি থেকে আরেক ডিগ্রি, বাড়বে আনুষ্ঠানিকতা

নতুন নিয়মের প্রভাব সবচেয়ে বেশি বোঝা যাবে এক শিক্ষাক্রম শেষ করে আরেক শিক্ষাক্রমে গেলে। আগে বিশ্ববিদ্যালয় এসইভিআইএস রেকর্ড হালনাগাদ করেই শিক্ষার্থীর বৈধ অবস্থান বজায় রাখতে পারত। এখন অনেক ক্ষেত্রে শুধু সেটুকু যথেষ্ট হবে না। নতুন শিক্ষাক্রম শেষ করার জন্য অনুমোদিত সময় যথেষ্ট না হলে শিক্ষার্থীকে ইউএসসিআইএসে ফর্ম আই-৫৩৯ জমা দিয়ে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে।

সবচেয়ে বেশি চাপে পিএইচডি শিক্ষার্থীরা

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ পিএইচডি প্রোগ্রামের মেয়াদ পাঁচ থেকে সাত বছর। এত দিন পুরো গবেষণাকালে তাঁরা বৈধভাবে অবস্থান করতে পারতেন। নতুন নিয়মে সর্বোচ্চ চার বছরের অনুমতি মিলবে। এরপর অবস্থান বাড়াতে নতুন আবেদন করতে হবে, যা সময় ও অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা বাড়াবে।

ওপিটির পথও হবে আরও দীর্ঘ

পড়াশোনা শেষে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্যও বাড়ছে আনুষ্ঠানিকতা। আগে ওপিটিতে যেতে আলাদা করে অভিবাসন-স্থিতি বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না। নতুনি নিয়মে ওপিটি করতে অনেক শিক্ষার্থীকে কর্মসংস্থানের অনুমতির পাশাপাশি অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও করতে হবে।

পড়াশোনা শেষে থাকা যাবে মাত্র ৩০ দিন

পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়ার সময়ও কমে আসছে। আগে শিক্ষার্থীরা ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পেতেন। নতুন নিয়মে তা কমে হয়েছে ৩০ দিন। ফলে পরবর্তী পরিকল্পনার জন্য শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় কম সময় পাবেন।

দেশে গেলে লাগবে নতুন ভিসা

কোনো শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করলেও দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর যদি তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাহলে ফিরে আসতে নতুন ভিসা নিতে হবে। তবে স্ট্যাটাস বাড়ানোর আবেদন অনুমোদনের পর তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করেন, তাহলে নতুন ভিসার প্রয়োজন হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হলেও দ্বিতীয় ডিগ্রি, ওপিটি বা দীর্ঘমেয়াদি পিএইচডি গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ আরও জটিল হতে পারে।

সূত্র: ইকোনমিক টাইমস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত