Ajker Patrika

গাউনে মোড়া সাফল্যে সোনার পদক ৪১ কৃতীর

শিক্ষা ডেস্ক
গাউনে মোড়া সাফল্যে সোনার পদক ৪১ কৃতীর

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর উৎসবমুখর ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রথম সমাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। সমাবর্তনে ৩২তম থেকে ৪৪তম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে অসামান্য একাডেমিক ফলের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪১ জন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা গ্র্যাজুয়েটদের হাতে এই সম্মানজনক পদক তুলে দেন। স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কয়েকজন কৃতী শিক্ষার্থীর অনুভূতি তুলে ধরেছেন মো. রিফাত খান

অপ্রত্যাশিত, কিন্তু মূল্যবান প্রাপ্তি

বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মো. রাশেদুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির একই বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক। নিজের অসামান্য ফলের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘স্নাতক সম্পন্ন করার ১৩ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে এসে স্বর্ণপদক পাওয়া আমার জন্য সত্যিই বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। এটি শুধু শিক্ষাজীবনের ফল নয়, বরং পুরো একাডেমিক যাত্রার একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘পড়াশোনার সময় কখনোই গোল্ড মেডেল পাওয়ার কথা ভাবিনি। অনেক বছর পর এই অর্জন আমার ঝুলিতে আসবে, তা-ও কল্পনা করিনি। তবে এটি আমার জন্য অপ্রত্যাশিত, কিন্তু অত্যন্ত মূল্যবান প্রাপ্তি।’

জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে মা

বুটেক্সের সঙ্গে মারজিয়া দুলালের পথচলা শুরু হয়েছিল স্নাতক পর্যায়ে। তিনি বুটেক্সের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি নিজ বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে স্বর্ণপদক প্রাপ্তি আমার জন্য বড় সম্মানের। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে প্রথম স্বর্ণপদক অর্জনকারী হওয়ায় এটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমার জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছেন মা। শুরুতে তিনি চেয়েছিলেন, আমি যেন চিকিৎসক হই। পরে যখন বুঝলেন, আমি যে পথে এগোচ্ছি, তাতেই সফল হতে পারব, তখন তিনিই হয়ে ওঠেন আমার সবচেয়ে বড় শক্তি ও নিঃশর্ত সমর্থক।’

এই অর্জনে বাবা সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন

তানিয়া আক্তার বুটেক্সের ৪১তম ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। নিজের অসাধারণ মেধা ও দক্ষতায় পরে তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক। তিনি বলেন, “স্বর্ণপদক অর্জন আনন্দের হলেও এ মুহূর্তে বাবার অনুপস্থিতি আমাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো এই অর্জনে তিনিই সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে বাবার অবদান ছিল সবচেয়ে বড়। পাশাপাশি মা নীরবে অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছেন।’

শিক্ষক বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত

মো. কায়কোবাদ বুটেক্সের ৪১তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে বুটেক্সের নিজ বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বাবা, যিনি একজন শিক্ষক। খুব কাছ থেকে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা, দায়বদ্ধতা ও সামাজিক দায়িত্ব দেখেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। এমন পরিবেশে প্রথম স্থান অর্জন করে গোল্ড মেডেল পাওয়া কখনোই পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। সব সময় শুধু নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আল্লাহর রহমত এবং সবার দোয়ায় সেই চেষ্টার ফল আজ এই সাফল্য।’

লক্ষ্য ছিল ধারাবাহিকভাবে ভালো করা

তাসফিয়া জামান বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক। তিনি বুটেক্সের ৪৪তম ব্যাচের টেক্সটাইল অ্যান্ড ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তাসফিয়া জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে লক্ষ্য ছিল ধারাবাহিকভাবে ভালো করা। প্রথম সেমিস্টারেই বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনের পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।’ স্মৃতিচারণা করে তিনি আরও বলেন, ‘বাবা হাতে ধরে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যেতেন, মা টিফিন বানিয়ে দিতেন। এই খুশির দিনে মনে হয়, বাবা এখনো আমার সঙ্গে আছেন। নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে প্রতিভা ও পরিশ্রম মানুষকে এগিয়ে নিতে পারে।’

স্বর্ণপদক পাওয়া স্বপ্নের মতো

মো. আরিফুল ইসলাম বুটেক্স অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি সমাবর্তনে অংশ নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যাচের স্বর্ণপদক জয়ী। তিনি জানান, স্বর্ণপদক পাওয়ার এই অনুভূতি ছিল সত্যিই অসাধারণ। বাবা-মা, বোন, স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির আনন্দ দেখে অনুভূতিটা আরও গভীর হয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমার চেষ্টা ছিল পড়াশোনায় মনোযোগী থাকার। বাবা-মা সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন, আর স্ত্রী আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। গোল্ড মেডেল পাওয়া আমার কাছে মনে হয়েছে স্বপ্নের মতো।’

বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মো. রাশেদুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির একই বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক। নিজের অসামান্য ফলের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘স্নাতক সম্পন্ন করার ১৩ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে এসে স্বর্ণপদক পাওয়া আমার জন্য সত্যিই বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। এটি শুধু শিক্ষাজীবনের ফল নয়, বরং পুরো একাডেমিক যাত্রার একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘পড়াশোনার সময় কখনোই গোল্ড মেডেল পাওয়ার কথা ভাবিনি। অনেক বছর পর

এই অর্জন আমার ঝুলিতে আসবে, তা-ও কল্পনা করিনি। তবে এটি আমার জন্য অপ্রত্যাশিত, কিন্তু অত্যন্ত মূল্যবান প্রাপ্তি।’

জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে মা

বুটেক্সের সঙ্গে মারজিয়া দুলালের পথচলা শুরু হয়েছিল স্নাতক পর্যায়ে। তিনি বুটেক্সের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি নিজ বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে স্বর্ণপদক প্রাপ্তি আমার জন্য বড় সম্মানের। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে প্রথম স্বর্ণপদক অর্জনকারী হওয়ায় এটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমার জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছেন মা। শুরুতে তিনি চেয়েছিলেন, আমি যেন চিকিৎসক হই। পরে যখন বুঝলেন, আমি যে পথে এগোচ্ছি, তাতেই সফল হতে পারব, তখন তিনিই হয়ে ওঠেন আমার সবচেয়ে বড় শক্তি ও নিঃশর্ত সমর্থক।’

এই অর্জনে বাবা সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন

তানিয়া আক্তার বুটেক্সের ৪১তম ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। নিজের অসাধারণ মেধা ও দক্ষতায় পরে তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক। তিনি বলেন, “স্বর্ণপদক অর্জন আনন্দের হলেও এ মুহূর্তে বাবার অনুপস্থিতি আমাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো এই অর্জনে তিনিই সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে বাবার অবদান ছিল সবচেয়ে বড়। পাশাপাশি মা নীরবে অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছেন।’

শিক্ষক বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত

মো. কায়কোবাদ বুটেক্সের ৪১তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে বুটেক্সের নিজ বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বাবা, যিনি একজন শিক্ষক। খুব কাছ থেকে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা, দায়বদ্ধতা ও সামাজিক দায়িত্ব দেখেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। এমন পরিবেশে প্রথম স্থান অর্জন করে গোল্ড মেডেল পাওয়া কখনোই পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। সব সময় শুধু নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আল্লাহর রহমত এবং সবার দোয়ায় সেই চেষ্টার ফল আজ এই সাফল্য।’

লক্ষ্য ছিল ধারাবাহিকভাবে ভালো করা

তাসফিয়া জামান বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক। তিনি বুটেক্সের ৪৪তম ব্যাচের টেক্সটাইল অ্যান্ড ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তাসফিয়া জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে লক্ষ্য ছিল ধারাবাহিকভাবে ভালো করা। প্রথম সেমিস্টারেই বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনের পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।’ স্মৃতিচারণা করে তিনি আরও বলেন, ‘বাবা হাতে ধরে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যেতেন, মা টিফিন বানিয়ে দিতেন। এই খুশির দিনে মনে হয়, বাবা এখনো আমার সঙ্গে আছেন। নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে প্রতিভা ও পরিশ্রম মানুষকে এগিয়ে নিতে পারে।’

স্বর্ণপদক পাওয়া স্বপ্নের মতো

মো. আরিফুল ইসলাম বুটেক্স অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি সমাবর্তনে অংশ নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যাচের স্বর্ণপদক জয়ী। তিনি জানান, স্বর্ণপদক পাওয়ার এই অনুভূতি ছিল সত্যিই অসাধারণ। বাবা-মা, বোন, স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির আনন্দ দেখে অনুভূতিটা আরও গভীর হয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমার চেষ্টা ছিল পড়াশোনায় মনোযোগী থাকার। বাবা-মা সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন, আর স্ত্রী আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। গোল্ড মেডেল পাওয়া আমার কাছে মনে হয়েছে স্বপ্নের মতো।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত