Ajker Patrika

পদ্মার চরে দুই মাসের মাথায় আবারও দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক খুন

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি      
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৩৪
নিহত সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত
নিহত সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের সীমান্তবর্তী পদ্মার চরে আবারও গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে এনায়েতপুর গ্রামের সোহেল রানা (৩৫) নামের ওই যুবককে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে হত্যা করে। নিহত সোহেল রানা পলাশী ফতেপুর করালি নওশারা গ্রামের কালু মন্ডলের ছেলে। এই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী স্বাধীনা খাতুনও আহত হন এবং তাঁকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সোহেল রানার স্ত্রী স্বাধীনা খাতুন জানান, রাতে বাড়ির টিনের বেড়ায় আঘাত করে বাইরে থেকে বলা হচ্ছিল, তারা প্রশাসনের লোক। একপর্যায়ে তারা টিনের বেড়া ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। তিনি তাঁর স্বামীকে কম্বল দিয়ে জড়িয়ে লুকিয়ে রাখেন। তারপরও তারা কম্বলের ওপর দিয়ে উপর্যুপরি গুলি করে। তিনি শতচেষ্টা করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। তিনি তাদের কাছে হাতজোড় করে বলেছেন, তার স্বামী আগে যা-ই করুক, এখন ভালো হয়ে গেছেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাঁর কোনো কথাই শোনেনি। যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের কাউকে তিনি চিনতেও পারেননি।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হুমায়রা খাতুন জানান, রাত দেড়টার দিকে সোহেল রানাকে মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক রোববার সকালে জানান, ঘটনাস্থলটি বাঘা ও লালপুর থানার সীমান্তবর্তী এলাকায়। ঘটনাস্থল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ঘটনার পরে নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা তাঁকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসেন। সে কারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর কাজটি বাঘা থানা-পুলিশই করছে। কোন থানার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা নির্ধারণের জন্য তাঁরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। তদন্ত করে যে থানার মধ্যে জায়গাটি পড়বে, সেই থানায় মামলা হবে।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর চরে ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে গুলিতে তিন কৃষক নিহত হন। বাঘা উপজেলার চর পলাশী ফতেপুরে এই ঘটনা ঘটেছিল।

তখন লাশ উদ্ধার করে বাঘা থানায় আনা হয়েছিল। পরে ঘটনাস্থল নির্ধারিত হয় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায়। ওই ঘটনায় হাসিনুজ্জামান কাকনসহ বাহিনীর সদস্যদের নামে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় একটি মামলা হয়।

ওই ঘটনা পর পদ্মার চরে পুলিশ, র‌্যাব ও এপিবিএন সদস্যদের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইটে’ ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র।

অভিযান শেষে রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শকের (ডিআইজি) সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেছিলেন, পদ্মার চরে কাকন বাহিনীসহ মোট ১১টি বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এই অভিযানে তাদের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা চরের সক্রিয় সন্ত্রাসী ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত