Ajker Patrika

শ্রমিকদের চাঙা রাখতে জমিতে মাইক

মিজান মাহী, দুর্গাপুর (রাজশাহী)  
শ্রমিকদের চাঙা রাখতে জমিতে মাইক
আজ ভোরে পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের মাঠে মাইক বাজিয়ে পেঁয়াজ রোপণ চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাঠে মাঠে এবার পেঁয়াজ রোপণে যুক্ত হয়েছে ভিন্নমাত্রার উৎসব। মাইকে গান বাজিয়ে, কৃষিবন্দনায় উচ্চকণ্ঠে প্রচার আর শ্রমিকদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন—সব মিলিয়ে পেঁয়াজ রোপণ যেন রূপ নিয়েছে এক আনন্দঘন কর্মযজ্ঞে। এতে শ্রমিকদের কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। মূলত শ্রমিকদের চাঙা রাখতে এমন আয়োজন বলে জানিয়েছেন জমির মালিকেরা।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল জমিতে ৪৫-৫০ জন শ্রমিক গানের তালে তালে দ্রুত পেঁয়াজ রোপণ করছেন। পাশে মাইকে কৃষি ও ফসলের বন্দনা তুলে ধরে প্রচার চালাচ্ছেন দুই ব্যক্তি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শ্রমিকদের হাসি-আনন্দে মুখর পুরো মাঠ।

সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকদের জন্য আনা হয় মিষ্টি পাউরুটি। পরে পরিবেশন করা হয় মোরগ পোলাও। আনন্দের সঙ্গে এসব খাবার উপভোগ করেন শ্রমিকেরা। জমির আইলে দাঁড়িয়ে পুরো আয়োজন উপভোগ করছিলেন জমির মালিক কৃষক আব্দুর রশিদ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজই আমাদের সবচেয়ে বড় ফসল। এই ফসল বিক্রি করেই সারা বছরের সংসার চলে। তাই শ্রমিকদের সঙ্গে একটু আনন্দ ভাগাভাগি করছি।’ তিনি জানান, এ বছর তিনি প্রায় তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করছেন। শ্রমিকদের অনুরোধে জমিতে মাইক বসিয়ে গান-বাজনার আয়োজন করা হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর ধরে উপজেলার হরিপুর, উজানখলসী, আমগ্রাম, বড়ইল, দেবীপুর, নামোদুরখালী, বখতিয়ারপুর, শ্রীধরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে পেঁয়াজ রোপণের সময় এমন উৎসবমুখর আয়োজন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এতে শ্রমিকদের আগ্রহ বাড়ে, কাজেও আসে গতি। পাশাপাশি পেঁয়াজ রোপণের দিনে ভালো খাবার পরিবেশন করাও এখন একধরনের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ ভোরে পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের মাঠে মাইক বাজিয়ে পেঁয়াজ রোপণ চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ ভোরে পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের মাঠে মাইক বাজিয়ে পেঁয়াজ রোপণ চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেবীপুর গ্রামের শ্রমিক আমেজ উদ্দিন বলেন, ‘মাঠে গান শুনে আনন্দ করে কাজ করতে ভালো লাগে। আগে এমন ছিল না। এখন পেঁয়াজ মৌসুম এলেই প্রায় সব মাঠে মাইক বাজে।’ একই গ্রামের মুরসালিন বলেন, ‘জীবনে এই প্রথম এত আনন্দ করে পেঁয়াজ রোপণ করছি। কাজ করতে কোনো ক্লান্তি লাগছে না।’

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে অন্য জমিতে রোপণ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘সারা বছর পেঁয়াজের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা উৎসাহ নিয়ে চাষ করছেন। সেই আনন্দ থেকেই মাঠে মাঠে এমন আয়োজন দেখা যাচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত