Ajker Patrika

আবারও সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে সালিসি আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ২০: ৪৮
আবারও সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে সালিসি আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের
গত বছরের এপ্রিলে পেহেলগাম হামলার পর সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছিল ভারত। ছবি: সংগৃহীত

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত বা কোর্ট অব আরবিট্রেশনের দেওয়া সর্বশেষ রায়কে আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। গতকাল শনিবার (১৬ মে) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানায়।

রায়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অবৈধভাবে গঠিত তথাকথিত ‘কোর্ট অব আরবিট্রেশন’ গত ১৫ মে সিন্ধু পানি চুক্তির সাধারণ ব্যাখ্যার পরিপূরক হিসেবে ‘সর্বোচ্চ পণ্ডেজ’ (বাঁধের পানি ধারণক্ষমতা) সংক্রান্ত একটি রায় জারি করেছে। ভারত এই রায়কে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে, যেভাবে পূর্বেও এই অবৈধ আদালতের সমস্ত রায়কে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ভারত কখনোই এই তথাকথিত সালিশি আদালতের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে এই ফোরামের যেকোনো কার্যক্রম, রায় বা সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ছাড়া সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত ভারত নিয়েছিল, তা বহাল রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু অববাহিকার নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এই ঐতিহাসিক ‘আইডব্লিউটি’ বা সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কয়েক দশক ধরে নানা যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যে এই চুক্তি টিকে থাকলেও, গত বছরের এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের পানিবণ্টন চুক্তিতে বড় ধরনের চির ধরে।

পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজের সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে সিন্ধু পানি চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। ভারতের শর্ত ছিল—পাকিস্তান যতক্ষণ পর্যন্ত আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করবে না, ততক্ষণ এই চুক্তি স্থগিত থাকবে।

গত বছরের জুনেও জম্মু-কাশ্মীরের বিতর্কিত কিষাণগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তানের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে হেগের এই আদালত একটি পরিপূরক রায় দিয়েছিল। তখনো ভারত বলেছিল, এই সালিশি আদালতের গঠন প্রক্রিয়াই সিন্ধু পানি চুক্তির লঙ্ঘন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন বলেছিল, ‘যত দিন পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত থাকবে, তত দিন ভারত এই চুক্তির কোনো শর্ত বা বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য নয়। ফলে কোনো সালিশি আদালত, বিশেষ করে আইনি ভিত্তিহীন এই অবৈধ ট্রাইব্যুনালের ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বৈধতা পরীক্ষা করার কোনো এখতিয়ার নেই।’

ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজের দায় এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ভিন্ন খাতে ঘোরাতে মরিয়া হয়ে এই ‘বানানো সালিশি প্রক্রিয়ার’ নাটক সাজিয়েছে। দিল্লির মতে, আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণা ও কূটকৌশল অবলম্বন করা ইসলামাবাদের বহু বছরের পুরোনো অভ্যাস।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চিকিৎসক দম্পতির সন্তানের মৃত্যু: ‘কল দিয়ে ডাক্তার আশীষ স্যারের পা ধরেছি, তাও তিনি আসবেন না’

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন সচিব মিরানা মাহরুখ

লিটনের সঙ্গে তর্কে জড়ালেন রিজওয়ান, আম্পায়ার কী করলেন

শিক্ষা প্রশাসনে বড় রদবদল, সরকারি ১০ কলেজে নতুন অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত