Ajker Patrika

টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যানের মিল নেই: ডিএমপি কমিশনার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৯: ২৯
টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যানের মিল নেই: ডিএমপি কমিশনার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যানের মিল নেই বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির চিত্রই উঠে এসেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

টিআইবির প্রতিবেদনে রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছি। সেখানে টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে আমাদের বাস্তব তথ্য ও পরিসংখ্যানের কোনো মিল পাইনি।’

কমিশনার বলেন, ‘ছিনতাই প্রতিরোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যদের ২৪ ঘণ্টা মাঠে রাখা হয়েছে। ডিউটির বাইরেও সম্ভাব্য ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত দুই মাসে অসংখ্য ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র। এর ফলে রাজধানীতে ছিনতাই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য এটিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।’

শাহবাগ থানাসহ ডিএমপির বিভিন্ন থানার ব্যারাকের বেহাল অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, বার্ষিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে থানার ডিউটি অফিসার কক্ষ, নারী ও শিশু সার্ভিস ডেস্ক, ফোর্সের ব্যারাক এবং কর্মকর্তাদের আবাসন ঘুরে দেখা হয়েছে। পরিদর্শনে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে। শাহবাগ থানা একটি পুরোনো ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। থানার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৩ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। নতুন ভবনে স্থানান্তর করা গেলে ফোর্স ও কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শাহবাগ থানার চারপাশে দীর্ঘদিন ধরে জব্দ করা শত শত যানবাহন পড়ে থাকার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগে সেখানে আরও বেশি যানবাহন ছিল। এরই মধ্যে কিছু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন জায়গা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ব্যবহৃত ডাম্পিং স্টেশনগুলোর ধারণক্ষমতাও পূর্ণ। জব্দ করা অনেক যানবাহন আদালতের আলামত, আবার কিছু ফিটনেসবিহীন। এসব সংরক্ষণ করা পুলিশের দায়িত্ব, যাতে কোনো যন্ত্রাংশ চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী জব্দ যানবাহনগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত