Ajker Patrika

আদ-দ্বীন হাসপাতাল: ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৬ নবজাতকের মরদেহ হস্তান্তর, মামলা প্রক্রিয়াধীন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ২১: ২০
আদ-দ্বীন হাসপাতাল: ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৬ নবজাতকের মরদেহ হস্তান্তর, মামলা প্রক্রিয়াধীন
ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে এই অবস্থায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ বুধবার রাতে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ছয় নবজাতকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা শিশুদের ময়নাতদন্ত করাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন এবং লিখিত আবেদন দেন। সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়েই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কীভাবে নির্ধারণ করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে পারিবারিক আবেগের বিষয় জড়িত। ময়নাতদন্ত হলে তদন্তের জন্য ভালো হতো। তবে পরিবারের লিখিত আবেদনের কারণে তা করা হয়নি।

ইতিমধ্যে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিএমপির বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হবে বলে উল্লেখ করেন ডিসি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে ডিসি বলেন, রমনা মডেল থানায় এক অভিভাবকের বাদী হয়ে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তবে কাউকে আটক করা হয়নি। মামলা দায়ের সম্পন্ন হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে অথবা আজ ভোরে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে অব্যবস্থাপনা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আরও পাঁচ নবজাতক হাসপাতালের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তবে তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, এনআইসিইউতে থাকা শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কয়েকটি শিশুর শরীরে নীলচে বর্ণ দেখা গেছে বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, আদ-দ্বীন হাসপাতাল অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন’-এর মালিকানাধীন। এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সেখ মহিউদ্দিন। তিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সেখ আকিজ উদ্দিনের বড় ছেলে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত