
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা এবং রাজস্ব শাখার সাবেক কারিগরি কর্মকর্তা (সার্ভেয়ার) মো. নুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা। সেই মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। কিন্তু একবারও গ্রেপ্তার হননি তিনি।
এদিকে, বছর দেড় আগে চাকরি থেকে অবসরে গেছেন নুর। কিন্তু এখনো তিনি আদালত ভবনের পাশেই জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় পুরোনো কর্মস্থলে নিয়মিত অফিস করছেন। করছেন ভূমি অধিগ্রহণের বিভিন্ন মামলায় তদবির।
সাবেক সার্ভেয়ার মো. নুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত সাড়ে তিন বছরে আদালত একাধিকবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। কিন্তু পুলিশ ওই আসামির একটি ওয়ারেন্টও তামিল (গ্রেপ্তার) করতে পারেনি। এতে আদালত ও পুলিশের খাতায় বছরের পর বছর পলাতক থাকেন ওই আসামি। অথচ আদালত ভবনের পাশেই জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় পুরোনো কর্মস্থলে নিয়মিত অফিস করছেন তিনি।
২০১৪ সালে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গা মৌজায় ভুয়া মালিক সাজিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে নুর চৌধুরীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে ৩ জানুয়ারি দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার আরও চারজন সার্ভেয়ার, দুজন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও একজন কানুনগো রয়েছেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন।
আদালতের তথ্যে, এই মামলায় মোট ১৫ আসামির মধ্যে জামিনে আছেন ১২ জন এবং পলাতক আছেন নুর চৌধুরীসহ তিন আসামি। মামলার সর্বশেষ ধার্য তারিখ ছিল গত ১৪ মে। ওই দিন জামিনে থাকা ১২ আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও পলাতক থাকেন নুর চৌধুরীসহ তিনজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা এবং জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব ছিল। এতে ২০১৯ সালে দুদকের মামলাটি হওয়া থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নুর চৌধুরী গ্রেপ্তার হননি।
এদিকে চাকরি থেকে অবসরে গেলেও নিয়মিত এলএ শাখায় বসছেন নুর চৌধুরী। সেবাপ্রার্থীদের ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দিতে বিভিন্ন ফাইল প্রসেসিংসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদবির করছেন। অথচ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা এই আসামিকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।
বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহেদ বলেন, কোতোয়ালি থানার দুদকের মামলায় ২০২৩ সালে জেবুন্নেছার আদালত আসামি নুর চৌধুরীসহ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন। এর মধ্যে অনেক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু আসামি নুর চৌধুরী পলাতক থাকেন।
মো. শাহেদ আরও বলেন, ‘২০২২-২৪ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার ওয়ারেন্ট জারি হয়। ২০২৫ সালে বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুধু আমি নিজেই ওই আসামির বিরুদ্ধে তিন-চারবার ওয়ারেন্ট জারি করেছি। কিন্তু কোনো ওয়ারেন্ট আজ পর্যন্ত তামিল হয়নি।’ ওয়ারেন্ট কেন তামিল হচ্ছে না সেটা পুলিশ জানে বলে জানান তিনি।
আসামি নুর চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায় হওয়ায় ওয়ারেন্টের কপি পটিয়া থানায় যায়। এ বিষয়ে পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘আমি বাইরে আছি। বিষয়টি আমি পরে দেখছি।’
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি প্রকাশ্যে ঘুরছেন, অবসরের পরও বসছেন অফিসে এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ শাখা) মো. কামরুজ্জামান বলেন, এলএ শাখায় প্রতিদিন শত শত সেবাপ্রার্থী আসেন। সেখানে কে আসামি তা শনাক্ত করা কঠিন। এটা যখন জেনেছি, আমি আমার দপ্তরে দায়িত্বরতদের জানিয়ে রাখব। যাতে এভাবে কেউ অফিসে না আসতে পারেন।’

ফেনীর সদর উপজেলার ভাঙার তাকিয়া এলাকায় তেলাপিয়াবোঝাই একটি পিকআপভ্যান খালে উল্টে পড়ার পর চালক ও তাঁর সহকারীকে উদ্ধারের পরিবর্তে পানিতে ছড়িয়ে পড়া মাছ ধরতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। এ সময় নিজেদের চেষ্টায় গাড়ি থেকে বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পান চালক ও সহকারী।
৩২ মিনিট আগে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁদের খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে। আজ শনিবার সকালেও ওই ১২ জনকে ভারতীয় ভূখণ্ডে, সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরের অংশে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে একটি...
১ ঘণ্টা আগে
বরগুনার পাথরঘাটায় মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক রিকশাচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সফেজ উদ্দিনের ছেলে।
১ ঘণ্টা আগে
রাত ১২টা ৪০ মিনিটে বিএসএফের ৮৮ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ১৫ ব্যক্তিকে (দুজন পুরুষ, আটজন নারী ও পাঁচটি শিশু) নদীপথে নৌকাযোগে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে। এ সময় তাঁরা সীমান্তের শূন্যরেখা বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন।
১ ঘণ্টা আগে