Ajker Patrika

সিঙ্গাপুরের কথা বলে চট্টগ্রামে নামিয়ে দেওয়া হলো যুবককে

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৫ মে ২০২২, ০৫: ০৭
সিঙ্গাপুরের কথা বলে চট্টগ্রামে নামিয়ে দেওয়া হলো যুবককে

ভাতিজাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আপন ভাইয়ের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আলেয়া বেগম ও তাঁর ছেলের প্রতারক চক্র। সিঙ্গাপুরের ফ্লাইট বলে ভাতিজাকে উড়োজাহাজে চড়িয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম নিয়ে, এরপর ঢাকায় রেখে লাপাত্তা প্রতারক চক্র। প্রতারণার শিকার ব্যক্তি পরে বোন ও এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। 

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বটগাছতলা এলাকায়। ভুক্তভোগী শহীজল মাঝি। পেশায় জেলে। আর তাঁর প্রতারক বোন আলেয়া বেগম ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার কুদবা ইউনিয়নের কুদবা গ্রামের পল্লি পশু চিকিৎসক বশির আহমেদের স্ত্রী। 

এ ঘটনায় আলেয়া বেগমসহ ছয়জনের নামে লক্ষ্মীপুর জজ আদালতে মামলা করেছেন শহীজল মাঝি। শনিবার (১৪ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুনসুর আহমেদ দুলাল। 

গত ৯ মে মামলাটি করা হয়। এর আগে ২৮ এপ্রিল শহীজলের ছেলে জুয়েলকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার কথা বলে উড়োজাহাজে চড়িয়ে নেওয়া হয় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম। ঘটনার সঙ্গে শহীজলের বোন আলেয়া, তাঁর ছেলে আওলাদসহ আত্মীয় পরিচয়ের আরও চারজন জড়িত ছিল। 

দেনা করে বোনকে দেওয়া ৪ লাখ টাকার পাওনাদারদের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শহীজল মাঝি। 

প্রতারণার শিকার শহীজল মাঝি জানান, বোন আলেয়া বেগম দীর্ঘদিন তাঁর বাড়িতে বেড়াতে আসেননি। বাবা মারা যাওয়ার খবর শুনেও আসেননি। ঘটনার ছয় মাস আগে ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার কুদবা গ্রাম থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন গ্রামে বেড়াতে আসেন আলেয়া। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর বোনকে কাছে পেয়ে সাধ্যমতো আদরযত্ন করেন শহীজল মাঝি। অভাবের সংসারে বোনের আদর যত্নের কমতি রাখেননি। এর কয়েক দিন পর শহীজলের বাড়িতে বেড়াতে আসেন আলেয়ার ছেলে আওলাদ হোসেন। ভাগনেকেও সমাদর করেন তিনি। 

আপন বোন আর ভাগনে প্রতারণার শিকার হলেন জেলে শহীজল মাঝি।ভাগনে আসার দুই দিনের মধ্যে আলেয়া শহীজলকে জানান, তাঁর ছেলে আগের স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। এখন ছেলেকে লক্ষ্মীপুর জেলায় দ্বিতীয় বিয়ে দিতে চান। বোনের আবদারে ভাগনের জন্য পাত্রী দেখে কয়েক দিনের মধ্যে বিয়ে দেন শহীজল ও তাঁর পরিবার। 

ভাগনের দ্বিতীয় বিয়ের দুতিন দিন পর বোন আলেয়া শহীজলকে আবার জানান, ছেলের আগের শ্বশুর ছেলের জন্য সিঙ্গাপুরের একটা ভিসা দিয়েছেন। দুতিন দিনের মধ্যে ছেলেকে সিঙ্গাপুর যেতে হবে। খরচের জন্য চার লাখ টাকা লাগবে। সেই টাকা দ্বিতীয় শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে দিতে হবে। বোনের কথায় ভাগনের দ্বিতীয় শ্বশুর বাড়ি থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে দেন। এর পরদিনই ভাগনে শহীজলদের বাড়ি থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা বলে বিদায় নেন। মামার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার একদিন পর ভাগনে অপরিচিত নম্বর থেকে শহীজলকে কল দিয়ে জানান তিনি এখন সিঙ্গাপুরে। এখন শহীজলের ছেলে জুয়েলকেও সিঙ্গাপুর নিতে চান। মায়ের সঙ্গে শহীজলকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনুরোধ করেন। 

বোন আলেয়া তার শহীজল মাঝির ছেলে জুয়েলকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার জন্য ১২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে নয় লাখ টাকায় চুক্তি হয়। এর মধ্যে শহীজল দেবেন ৫ লাখ বাকি ৪ লাখ টাকা বোন আলেয়া দেবেন বলে ভাইকে জানান। দ্রুত টাকা জোগাড় করতে বলেন তিনি। ভাগনে আওলাদও বারবার ফোনে তাগাদা দিতে থাকেন। 

শহীজলের ছোট ভাই মাহে আলম জানান, ভাগনে আর বোনের চাপাচাপিতে শহীজল মাঝি ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে রাজি হন। বোনের পরামর্শে শহীজল এনজিও থেকে ১ লাখ টাকা, তিন মেয়ের জামাইয়ের কাছ থেকে আড়াই লাখ এবং নিজের ৫০ হাজারসহ মোট ৪ লাখ টাকা জোগাড় করেন। 

গত ২৯ এপ্রিল জুয়েলের সিঙ্গাপুরের ফ্লাইট আছে বলে জানান বোন আলেয়া। সকালে নগদ ৪ লাখ টাকাসহ বোন আর ছেলেকে নিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন শহীজল মাঝি। বিমানবন্দরে বোন আলেয়ার কথা মতো সানী নামের এক ব্যক্তির ব্যাগে টাকা দেন। সানী শহীজলের ছেলে জুয়েলের হাতে বিমানের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত বিমানে উঠতে বলেন। 

আপন বোন আর ভাগনে প্রতারণার শিকার হলেন জেলে শহীজল মাঝি। শহীজলের ছেলে জুয়েল বলেন, বিমানবন্দরের দুটি গেট অতিক্রম করার পরপরই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় ‘সিঙ্গাপুর’ যাওয়া ফুফুতো ভাই আওলাদের। থমকে যান জুয়েল। জুয়েল ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে উড়োজাহাজে ওঠান। সেই উড়োজাহাজ গিয়ে থামে চট্টগ্রামে। 

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে শামীম নামের একজন আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা জুয়েলকে নিয়ে একটি হোটেলে ওঠেন। হোটেলে কক্ষে নিয়ে তাঁরা জুয়েলকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান, তাঁদের কথামতো চলার নির্দেশ দেন। তাঁর হাতে ফোন ধরিয়ে দিয়ে সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন বলে বাবাকে জানাতে বলেন। সিঙ্গাপুরের পরিচয়পত্রের জন্য ফুফুকে (আলেয়া) আরও দেড় লাখ টাকা দেওয়ার জন্য বলতে বাধ্য করেন।

পরদিন সকালে হোটেলের এক ব্যক্তির ফোন থেকে বাবাকে সব ঘটনা খুলে বলেন জুয়েল। কিছুক্ষণ পর ভাগনে ও তাঁর সহযোগী শামীম তাঁকে বাস যোগে ঢাকায় নিয়ে আসেন। ঢাকার সায়েদাবাদ ফেলে রেখে তাঁরা উধাও হয়ে যান।

শহীজলের প্রতিবেশী আবদুল হালিম জানায়, শহীজলকে পাওনাদারেরা চাপ দিচ্ছেন। টাকার জন্য এক জামাই মেয়েকে শহীজলের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অন্য জামাইরাও চাপাচাপি করছেন।

এ ঘটনায় গত ৯ মে শহীজল মাঝি বাদী হয়ে প্রতারণা ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বোন আলেয়া বেগম, ভাগনে আওলাদ হোসেন, আওলাদের শালা সানী, ভাগনি জামাই শামীম, ভাগনের স্ত্রী আয়েশাসহ ছয়জনকে আসামি করে লক্ষ্মীপুর জজ আদালতে মামলা করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

৩৬৩টি আইফোনসহ তিন চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ২৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন মডেলের ৩৬৩টি আইফোন ও আইফোনের খুচরা যন্ত্রাংশসহ তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম জানায়নি ডিবি।

আজ বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র তালেবুর রহমান।

ডিএমপি বলছে, এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ

পুলিশের নজরদারিতে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

  • গত দেড় বছরে অন্তত পাঁচটি হত্যাকাণ্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম এসেছে।
  • নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা, চাঁদাবাজিসহ অপরাধ বাড়ছে।
  • পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি নিবিড় নজরদারিতে।
রাসেল মাহমুদ, ঢাকা
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জামিনে মুক্তি পান ঢাকার বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। পলাতক এসব সন্ত্রাসী ও তাঁদের অনুসারীরা আবারও চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একের পর এক গুলি ও হত্যাকাণ্ডে এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ অবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জামিনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গতিবিধি এবং সম্ভাব্য কার্যক্রম নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রেখে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সাড়ে আট মাসে জামিনে মুক্তি পান বিশেষ ক্ষমতা আইনে জেলে থাকা ৪২৬ জন। তাঁদের পাশাপাশি আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বেশ কয়েকজনও জামিনে মুক্তি পান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, মগবাজারের এস এম আরমান ওরফে আরমান, মিরপুরের আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস, ধানমন্ডির খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, বাড্ডার খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসু ও সোহেল রানা চৌধুরী ওরফে ফ্রিডম সোহেল, তেজগাঁওয়ের শেখ মোহাম্মদ আসলাম ওরফে সুইডেন আসলাম এবং হাজারীবাগ এলাকার সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন। তাঁদের অধিকাংশ এক দশক থেকে দেড় দশক কারাগারে ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১২ আগস্ট আদালত থেকে জামিন পান শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্বাস আলী ওরফে আব্বাস। মুক্তির পর থেকে তিনি পলাতক এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। ১৩ আগস্ট জামিন পাওয়া খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসু, ১৪ আগস্ট জামিন পাওয়া এস এম আরমান ওরফে আরমান এবং ১৫ আগস্ট জামিন পাওয়া ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালও মুক্তির পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০১২ সালে জামিনে মুক্ত খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটনও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে রাজধানীতে অন্তত পাঁচটি হত্যাকাণ্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম এসেছে। ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রায়েরবাজারে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়। গত বছরের এপ্রিলে হাতিরঝিলে যুবদল নেতা আরিফ শিকদার এবং মে মাসে বাড্ডায় বিএনপি নেতা কামরুল আহসান হত্যাকাণ্ডের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, পুরান ঢাকায় আদালত এলাকায় তারিক সাঈদ মামুন হত্যাকাণ্ডের পেছনে ইমনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ফোর স্টার গ্রুপসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বে সক্রিয় হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তাঁদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনকে গত বছরের ২৭ মে কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ বাড়ছে। গত নভেম্বরে চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হন। ডিসেম্বরে ঢাকার পুরানা পল্টনে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি, যিনি পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জামিনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাঁদের সহযোগীদের, যাঁরা জাতীয় নির্বাচনের জন্য ভীতি সঞ্চার করতে পারেন বা আতঙ্ক তৈরি করতে পারেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জামিনে থাকা ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারি রয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের গ্রেপ্তার করতেই হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ: জেএমবির সঙ্গে জড়িতের অভিযোগে পরিচালক গ্রেপ্তার হন দুবার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২: ৫৪
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণ। ছবি: আজকের পত্রিকা
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় গত শুক্রবার সকালে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারী, শিশুসহ চারজন আহত হয়েছে। মাদ্রাসাটি শেখ আল আমিন নামের এক ব্যক্তি পরিচালনা করতেন। যিনি এর আগে নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। পুলিশ বলছে, ভবনটি বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।

আজ শনিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, হাসনাবাদ বাজারের ফলপট্টি গলিতে উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা। মাদ্রাসায় শিশুদের পাঠদান করা হয়। বিস্ফোরণে চার কক্ষের একতলা ভবনটির পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, সিঁড়ির পাশের ছাদের একাংশ উড়ে গেছে এবং সব কটি কক্ষের পিলার ও দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ঘটনাস্থলে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগের ক্রাইম সিন ইউনিটের কর্মীরা আলামত সংগ্রহ করছেন। তাঁরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছেন। ভবনের পাশের একটি ভবনের দোতলার দেয়ালে বিস্ফোরণে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বিস্ফোরণে পাশের একটি অটোরিকশার গ্যারেজের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। টিনের নিচে চাপা পড়েছিলেন গ্যারেজের ম্যানেজার আবুল কালাম।

আবুল কালাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এত বিকট শব্দ হয়েছে যে আমার কানে তব্দা লেগে যায়। আমি টিনের নিচে চাপা পড়ি। পরে হামাগুড়ি দিয়ে বের হই। এরপর দেখি মাদ্রাসার মধ্যে আগুন জ্বলছে। যারা ভেতরে ছিল, তারা দ্রুত বাচ্চাদের নিয়ে বের হয়ে চলে যায়।’

গ্যারেজের মালিক মোশাররফ হোসেন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আমিও বাসা থেকে দৌড়ে আসি। আমার গ্যারেজের দুজন অটোচালক দুই শিশুকে ওই ভবন থেকে বের করেন। এক নারী আর এক শিশুকে নিয়ে চলে যায়। এ সময় আল আমিনও দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আধা ঘণ্টার মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের লোকজন এসে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

মাদ্রাসার পাশের ৫ তলা বাড়ির বাসিন্দা মনোয়ার বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। মনে হয়েছিল ভূমিকম্প। কারণ, বিস্ফোরণে সব ভবনে কাঁপুনি লাগে। সবাই চিৎকার করেছিল।’

ওই বাসিন্দা আরও বলেন, ‘মাদ্রাসাটিতে ৩০-৩৫ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। এ কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।’

ভবনটির পশ্চিম পাশের এক পাশে তিনটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অপর পাশের একটি কক্ষে পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তাঁর স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাঁদের তিন সন্তান নিয়ে সেখানেই থাকতেন। বিস্ফোরণে দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আবদুল্লাহ (৭) আহত হয়। এর মধ্যে আছিয়া ও তাঁর দুই সন্তানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পাশের ভবনের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিস্ফোরণে আমাদের ভবনের কিছু অংশ ফেটে গেছে। ঘরের ভেতরের আসবাবও ভেঙে পড়েছে।’

ঘটনাস্থলেই পুলিশ হেফাজতে বসে ছিলেন ভবনমালিক পারভীন বেগম। ভবনের জমি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। সেখানে লিবিয়ায় থাকা তাঁর দুই ছেলে এই ভবন ২০২২ সালে তৈরি করেন। এরপর হারুন অর রশীদ নামের এক ব্যক্তি এটি মাদ্রাসা করবেন বলে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া নেন। পারভীন বেগম বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে মুফতি হারুন অর রশীদ মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। হারুন তাঁর শ্যালক আল আমিন ও শ্যালকের স্ত্রী আছিয়াকে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব দেন। তিনি মাঝেমধ্যে মাদ্রাসায় আসতেন। আমি নিয়মিত খোঁজখবর নিতাম। কিন্তু মাদ্রাসার আড়ালে কী কার্যক্রম চলছিল, তা বুঝতে পারিনি। আজ এসে দেখি, ভবনের চারপাশ উড়ে গেছে।’

পারভীন বেগমের পাশেই ছিলেন তাঁর ছোট মেয়ে সোহানা। তিনি বলেন, ‘ভাড়া নেওয়ার সময় শুধু হারুন অর রশীদ একাই এসেছিলেন। এরপর তাঁরা মাদ্রাসা পরিচালনা শুরু করেন। তবে তাঁরা আশপাশের কারও সঙ্গে তেমন মিশতেন না।’

পুলিশ ভবনের ভেতর থেকে কেমিক্যাল, ককটেল, ভেস্ট ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস, কম্পিউটার ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, কোনো বিস্ফোরক তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে গতকাল বিকেলে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শেখ আল আমিন পলাতক রয়েছেন। তবে কেরানীগঞ্জ থেকে তাঁর স্ত্রী আছিয়া বেগম, আছিয়ার ভাই হারুনের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার এবং ঢাকার বাসাবো থেকে আসমানী খাতুন নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আল আমিনের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে ২০১৭ ও ২০২০ সালে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন থানায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার আসমানী খাতুনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ডেভিল হান্ট-২: এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৮ হাজার ৫৯৭

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ডেভিল হান্ট-২: এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৮ হাজার ৫৯৭

অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮ হাজার ৫৯৭ জনকে। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এ সারা দেশে ৮ হাজার ৫৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৮টি মোটরসাইকেল ও ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪১১টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে ৩ হাজার ৩৯৪টি অবৈধ মোটরসাইকেল আটক করা হয়।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ‘ফ্যাসিস্টদের’ দমনে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে দেশজুড়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী।

বিষয়:

অপরাধ
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত