Ajker Patrika

রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ ও ঝালকাঠি

তিনটি খুন, পেছনে মাদকাসক্ত ছেলেরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৫২
তিনটি খুন, পেছনে মাদকাসক্ত ছেলেরা
প্রতীকী ছবি

পৃথক তিনটি ঘটনাস্থল। তিনটি খুন। দুই ঘটনায় প্রাণ গেছে দুই নারীর। আরেক স্থানে খুন হয়েছেন এক পুরুষ। তিনটি হত্যাকাণ্ডই ঘটিয়েছেন তাঁদের ছেলেরা। পুলিশ, এলাকাবাসী ও স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে, খুনের ঘটনায় জড়িত তিনজনই মাদকাসক্ত। মাদকের অর্থ পেতে মা-বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের নজিরও রয়েছে এই তিন ছেলের। গত শনিবার রাত থেকে গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ ও ঝালকাঠিতে এ তিনটি খুনের ঘটনা ঘটে।

শনিবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার খড়খড়ি এলাকায় সোহাগী খাতুন (৫৫) নামের এক নারী খুন হন। ঘটনার পর পুলিশ তাঁর ছেলে মো. সুমনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে। মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছেলে টাকার জন্য প্রায়ই মাকে অত্যাচার করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে সুমন মায়ের কাছে মাদক কেনার জন্য টাকা দাবি করেন। কিন্তু মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে মায়ের বুকে ও পেটে গুরুতর জখম হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর লাশ নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে আসেন সুমন। হাসপাতালে যাওয়ার জন্য তিনি অটোরিকশা ডাকছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পারলে সুমন লাশ ফেলে ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি সুমন। তাঁকে গতকাল সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দড়িজাহাঙ্গীর মধ্যপাড়া গ্রামে গতকাল ভোররাত ৪টার দিকে বাবা রমজান আলীকে (৪৫) দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন জুয়েল (২৬)। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন করতেন। ঘটনার রাতে বাবা-ছেলে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে জুয়েল দা দিয়ে বাবার ওপর হামলা চালান।

গতকাল ভোরে রমজান আলীর চিৎকার শুনে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে জুয়েলকে ধরে ফেলেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় রমজান আলীকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত জুয়েলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বৈদারাপুর এলাকায় গতকাল দুপুরে শেফালী আক্তারকে (৬৫) শ্বাসরোধে হত্যা করেন ছেলে মো. সাগর (৩২)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শেফালী তাঁর ছেলে সাগরের সঙ্গে একই ঘরে বসবাস করতেন। সাগর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিকভাবে অসুস্থ। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই সে তাঁর মায়ের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ ও মারধর করতেন। দুপুরে নেশার টাকা না পেয়ে ক্ষোভের জেরেই শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করেন। সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন বলেন, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী এবং কিশোরগঞ্জ ও ঝালকাঠি প্রতিনিধি]

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত