Ajker Patrika

নিজেকে করুন এই তিন প্রশ্ন

ক্যারিয়ার ডেস্ক
নিজেকে করুন এই তিন প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত

আপনার বয়স ২২। সদ্য স্নাতক শেষ করেছেন। সমাবর্তনের মঞ্চ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা লিঙ্কডইনের ফিড—সবখানেই এক পরামর্শ ঘুরেফিরে আসে: নিজের প্যাশন অনুসরণ করুন, যা ভালোবাসেন, সেটাই করুন।

শুনতে দারুণ লাগে। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় এত সরল নয়। অনেকে বছরের পর বছর নিজের ‘প্যাশন’ খুঁজতে ছুটে বেড়ান। মাঝপথে ভালো সুযোগও ছেড়ে দেন; কারণ, সেটি তাঁদের কাছে ‘ঠিক’ মনে হয় না। এর মধ্যেই চুপিসারে ঢুকে পড়ে এক অস্থিরতা—যদি কোনো দিনই সেই প্যাশন খুঁজে না পাই? সত্যি বলতে বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে প্যাশন শুরুতে স্পষ্ট হয় না; বরং তা সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠে—দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে, কাজের অভিজ্ঞতা থেকে, বাস্তব অবদান রাখার ভেতর দিয়ে।

‘প্যাশন অনুসরণ করুন’—এই জনপ্রিয় পরামর্শ অনেক সময় ক্রমটাই উল্টো করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু প্যাশনের ওপর অতিরিক্ত জোর দিলে মানুষ নতুন আগ্রহ অনুসন্ধানের সুযোগ কমিয়ে ফেলে। এতে সৃজনশীলতা ও সামগ্রিক সাফল্য—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি যখন কেউ স্পষ্ট কোনো প্যাশন খুঁজে পায় না, তখন তা অপ্রয়োজনীয় হতাশা তৈরি করে। তাহলে এখন করণীয় কী? এ ক্ষেত্রে নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করুন—

১. আমি কিসে কৌতূহলী

প্যাশন অনেকটা বজ্রপাতের মতো। হঠাৎ আসে, তীব্রভাবে আঘাত করে। কিন্তু সবার জীবনে এমন মুহূর্ত আসে না। আর না এলে মনে হতে পারে, নিজের মধ্যেই যেন কোনো ঘাটতি আছে।

কৌতূহল ভিন্ন জিনিস। তা নীরব, ধীর, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী। এমন কোনো বিষয়, যেটি নিয়ে আপনি অকারণেই পড়তে থাকেন। এমন কোনো সমস্যা, যা বারবার ভাবায়। এমন কোনো ক্ষেত্র, যা বোঝার ইচ্ছা জাগে; যদিও তাতে আপাতত সরাসরি লাভ নেই।

শুরু করার জন্য কৌতূহলই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জায়গা। এখনই জানা দরকার নেই, এটি কোথায় নিয়ে যাবে। সময় নিয়ে অনুসরণ করলে পথ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা একটি পছন্দের মধ্যে নিজেদের আটকে না রেখে খোলা মন ও অনুসন্ধিৎসা ধরে রাখেন, তাঁরা তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্ভাবনী ও সফল হন। কৌতূহল চিন্তার পরিসর বাড়ায়; অন্ধ প্যাশন অনেক সময় সেটি সংকুচিত করে।

২. আমি কিসে ক্রমে দক্ষ হয়ে উঠছি

আমরা প্রায়ই ভাবি, কোনো কাজ ভালো লাগলেই তাতে দক্ষ হব। বাস্তবে অনেক সময় উল্টোটা ঘটে। দক্ষতা বাড়তে থাকলে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও গভীর হয়। কোনো বিষয়ে দখল তৈরি হলে তাতে মতামত গড়ে ওঠে। কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে ইচ্ছা করে। কাজটি তখন শুধু দায়িত্ব থাকে না; হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।

স্নায়ুবিজ্ঞানও এর ব্যাখ্যা দেয়। নতুন দক্ষতা অর্জনের

সময় মস্তিষ্কের পুরস্কারব্যবস্থা সক্রিয় হয় এবং ডোপামিন নিঃসৃত হয়; যা আমাদের উৎসাহিত করে। অনেক সময় আমরা এই অনুভূতিকেই প্যাশন বলে ধরে নিই। অর্থাৎ প্যাশন সব সময় অসাধারণ কাজের কারণ নয়; অনেক সময় সেটাই অসাধারণ কাজের ফল।

৩. কোথায় আমি অবদান রাখতে পারছি

সবাই কাজ করতে গিয়ে আবেগে ভেসে যান না। কিন্তু প্রায় সবাই কিছু অনুভব করেন, যখন দেখেন—তাঁদের কাজ কারও জীবনে বাস্তব উপকার করছে। সেটাই অবদান। জার্নাল অব অ্যাপ্লাইড সাইকোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যাঁরা বুঝতে পারেন, তাঁদের কাজ অন্যদের কীভাবে উপকার করছে, তাঁরা শুধু বেশি সন্তুষ্টই হন না, তাঁদের উৎপাদনশীলতাও বাড়ে।

উদাহরণ হিসেবে দেখা গেছে, যেসব তহবিল সংগ্রহকারী জানতেন, তাঁদের কাজ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি নিশ্চিত করে, তাঁদের সাফল্য দ্বিগুণের বেশি হয়েছিল। আর যেসব লাইফগার্ড নিজেদের বাঁচানো মানুষের গল্প পড়েছিলেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি সময় কাজ করেছিলেন। আপনি যদি প্যাশন খুঁজে না পান, অবদান খুঁজে দেখুন। খেয়াল করুন, আপনার কাজ কোথায় কার জীবনে পার্থক্য তৈরি করছে। সেই অনুভূতিটা কেমন?

বড় প্রশ্নটি

এর মানে এই নয় যে কোন কাজ আপনাকে প্রাণিত করে, সেটি উপেক্ষা করতে হবে। যদি কোনো কাজের প্রতিটি দিকই ভীতিকর বা বিরক্তিকর মনে হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। ভুল পথে দীর্ঘ সময় বিনিয়োগ করার আগে থামা দরকার। তবে ‘প্যাশন অনুসরণ করুন’—এই পরামর্শ অনেক সময় এমন এক মানদণ্ড দাঁড় করায়, যা অধিকাংশ তরুণ পেশাজীবীর পক্ষে শুরুতেই পূরণ করা কঠিন। আর না পারলেই মনে হয়, আমি পিছিয়ে পড়ছি। ক্যারিয়ারের শুরুটা কোনো অজানা ‘ডাক’ খুঁজে পাওয়ার সময় নয়; বরং পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়। শেখার সময়। নিজেকে জানার সময়।

এমন একটি দিক বেছে নিন, যা অন্তত সামান্য হলেও আপনার আগ্রহ জাগায়। তাতে দক্ষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকার করতে হবে। অর্থপূর্ণ অবদান রাখার চেষ্টা করুন। আর পথজুড়ে কৌতূহল ধরে রাখুন। প্যাশন অনেক সময় গন্তব্য নয়—পথচলার ফল।

তথ্যসূত্র: ফোর্বস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ইরান যুদ্ধে পালানটিরের ‘মেভেন’ যেন ১২ ঘণ্টায় ৯০০ আজরাইল

নেপালের নির্বাচন: এগিয়ে বালেন শাহর দল, পাত্তা পাচ্ছেন না ওলি

ইরানকে গোপনে মার্কিন সামরিক গতিবিধির তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

৪০ বছর ধরে যে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল, ঘোল খাইয়েছে পশ্চিমাদের

অতিথির রণতরি ডুবল মার্কিন হামলায়, প্রশ্নের মুখে ‘মহাসাগরের রক্ষক’ মোদি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত