Ajker Patrika

কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আইএফআইসি-সুইসকন্ট্যাক্টের নতুন উদ্যোগ

বিজ্ঞপ্তি
কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আইএফআইসি-সুইসকন্ট্যাক্টের নতুন উদ্যোগ
ছবি: আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির সৌজন্যে

বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা বাড়াতে ভ্যালু চেইনভিত্তিক নতুন অর্থায়ন মডেল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা সুইসকন্ট্যাক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের সবজি খাতে স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) মানদণ্ড পরিপালন জোরদার এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে।

এ উদ্যোগের আওতায় কৃষক, কৃষিভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, পণ্যের উৎস ও সরবরাহপথ শনাক্তকরণ, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং অর্থায়নকে একটি সমন্বিত ভ্যালু চেইন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। প্রচলিত ঋণ মূল্যায়নের পাশাপাশি ঋণগ্রহীতার উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ ও রপ্তানির প্রস্তুতিকেও অর্থায়নের সিদ্ধান্তে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টনের বেশি সবজি উৎপাদিত হয়। এ খাতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি কৃষক। অথচ মোট উৎপাদিত সবজির ০.৩ শতাংশেরও কম, অর্থাৎ প্রায় ৪০ হাজার টন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়।

উন্নত কৃষিচর্চা (জিএপি) অনুসরণের সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যবিধি ও বালাই ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণের অভাব, পরীক্ষাগার সুবিধার স্বল্পতা এবং পণ্যের উৎস শনাক্তকরণে দুর্বলতা রপ্তানি সম্প্রসারণের বড় বাধা। এ ছাড়া ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী অপচয়, পরিবহন ব্যয় ও অপর্যাপ্ত প্যাকেজিংয়ের কারণেও উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ কঠিন হচ্ছে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এগ্রি-এসএমই) জন্য বিশেষায়িত ঋণ, রপ্তানি ঋণসুবিধা, ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা এবং পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন পণ্য চালুর পরিকল্পনা রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক ও সুইসকন্ট্যাক্টের। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে যশোর ও নরসিংদীর কৃষি ক্লাস্টারগুলোতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব এলাকার কৃষকদের উন্নত কৃষিচর্চা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের এসপিএস মানদণ্ড পরিপালন, হ্যাজার্ড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কন্ট্রোল পয়েন্টস (হাসপ) অনুসরণ, সনদ অর্জন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি এবং পণ্যের উৎস শনাক্তকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।

আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. মেহমুদ হোসেন বলেন, ‘এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানো নয়; বরং উন্নত মানদণ্ড, শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা ও উপযুক্ত আর্থিক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের সঙ্গে বৈশ্বিক ক্রেতাদের সংযুক্ত করে অর্থায়ন-সমর্থিত একটি রপ্তানি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।’

প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় ২০২৭ সালে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পর্যায়ে সনদ অর্জন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, প্যাকেজিং, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং বাণিজ্য মিশন আয়োজনে সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং রপ্তানিকারকদের আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ ও পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

কর্মসূচির আওতায় ৫০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং কৃষককে আর্থিক সাক্ষরতা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ জন রপ্তানিকারককে সনদ অর্জনের প্রস্তুতিতে সহায়তা, আইএফআইসি ব্যাংকে ৫০০টি নতুন হিসাব খোলা এবং অন্তত ১০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে অর্থায়ন পণ্যের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত