Ajker Patrika

শুল্কের কারণে আমদানি কমাচ্ছেন মার্কিন ক্রেতারা

রোকন উদ্দীন, ঢাকা
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২: ৫৪
গ্রাফিক্স: আজকের পত্রিকা
গ্রাফিক্স: আজকের পত্রিকা

গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা পাল্টা শুল্কের বাড়তি বোঝা শুধু মার্কিন অর্থনীতির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তৈরি পোশাকের ব্র্যান্ড ক্রেতারা আমদানি কমিয়েছেন ১৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ প্রায় সব রপ্তানিকারক দেশের ওপর। বিশেষ করে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে গেছে ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের আওতাধীন সংস্থা অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাণিজ্য বিশ্লেষক ও রপ্তানিকারকদের মতে, এই প্রবণতা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্কজনিত চাপেরই বাস্তব প্রতিফলন।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই সময়ে মার্কিন বাজারে পোশাক সরবরাহের শীর্ষ উৎস ভিয়েতনাম থেকে আমদানি কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীন থেকে আমদানি কমেছে ৫৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ ছাড়া ভারত থেকে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ, মেক্সিকো থেকে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ কম আমদানি হয়েছে।

উচ্চ শুল্কের প্রভাবে মার্কিন ব্র্যান্ড ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার বিরূপ প্রতিফলন পড়েছে পোশাকের দামের ওপরও। এই সময়ে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ইউনিটপ্রতি দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং চীনের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। পাশাপাশি কম্বোডিয়ার ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭২ শতাংশ দাম কমেছে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে; দেশটির পোশাকের ইউনিট দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের চূড়ান্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার প্রভাবে শুধু অক্টোবর মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ক্রেতারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৬৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশের বেশি কম। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১০ শতাংশের বেশি।

তবে সামগ্রিক চিত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। জানুয়ারি-অক্টোবর ২০২৫ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৬৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও বাংলাদেশ থেকে আমদানি বেড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, এই প্রবৃদ্ধি সারা বছরের প্রকৃত প্রবণতা তুলে ধরে না। তাঁর মতে, ট্রাম্প শুল্ক কার্যকরের আগে বড় লটে আমদানি হওয়ায় জানুয়ারি-অক্টোবরের হিসাবে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু আগস্টের পর থেকে রপ্তানির গতি স্পষ্টভাবেই কমছে এবং প্রতি মাসে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বনশ্রীর ছাত্রীকে খুন করেন তার বাবার হোটেলের কর্মচারী: র‍্যাব

বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিল নতুন জরিপ

ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যে সৃষ্ট ধোঁয়াশা পরিষ্কার করল বিসিবি

‘বাংলাদেশকে নিয়ে তিনটি আশঙ্কা, ভারতে খেলার পরিস্থিতি নেই’

সস্ত্রীক ঢাকায় পৌঁছালেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত