
চট্টগ্রাম বন্দরের আলোচিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছে সাইফ পাওয়ারটেক। আগামী ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বন্দরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন করবে না বন্দর কর্তৃপক্ষ। আপাতত বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকছে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব।
জানা গেছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় আপাতত নিজেদের তত্ত্বাবধানে এই টার্মিনাল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে টার্মিনাল বুঝে নেওয়ার প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৭ জুলাই থেকে এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রাজত্ব করা সাইফ পাওয়ারটেকের বিদায়ঘণ্টা বাজছে।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, এনসিটির বিষয়ে ১৮ জুন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে টার্মিনালটি বন্দর কর্তৃক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। যেহেতু নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনার জন্য বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই আমদানি-রপ্তানি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসার ও মুখপাত্র নাসির উদ্দিন বলেন, মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তের পর টার্মিনাল পরিচালনা করতে ব্যয় নির্বাহের অনুমতির জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুমতি পেলে চূড়ান্ত কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে বন্দরের মেকানিক্যাল এবং ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা সাইফ পাওয়ারটেক থেকে কাজ বুঝে নেওয়া শুরু করেছেন।
এর আগে এনসিটি বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন পক্ষ সরব হয়। তবে তাদের দাবির আড়ালে সাইফ পাওয়ারটেককে রক্ষা করতেই এই আন্দোলন চালিয়েছে বলে অভিযোগ অনেকের।
সাইফ পাওয়ারটেক ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে বন্দরের যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংসহ নানা খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
সরকারের উচ্চ মহলের সিদ্ধান্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ টেন্ডার না দিয়েই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বছরের পর বছর চুক্তি নবায়ন করে। আবার কোনো সময় টেন্ডার হলেও নীতিমালায় এমন সব শর্ত দেওয়া হয়, যাতে সাইফ পাওয়ারটেক ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। এই ঘনিষ্ঠতাই ছিল তাঁর প্রধান সম্পদ। এর মাধ্যমে তিনি কেবল বন্দর নয়, দেশের আরও অনেক বড় সরকারি প্রকল্পে প্রবেশাধিকার পান।
আরও খবর পড়ুন:

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে...
৪ ঘণ্টা আগে
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৮৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
৭ ঘণ্টা আগে
১৭ কর্মকর্তাকে একযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এতসংখ্যক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক....
১১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সার্বিক আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তর সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সার্বিক আধুনিকায়ন....
১২ ঘণ্টা আগে