জয়নাল আবেদীন খান, ঢাকা

মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যসহ অর্থনীতির প্রধান নির্দেশকগুলো নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (আইএমএফ) জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে আগামী বছরের মধ্যে ডলারের দাম ১২৪ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের।
গতকাল মঙ্গলবার আইএমএফকে এসব পরিকল্পনার কথা জানানো হয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
বাজেটের আগে ঋণের শর্ত পূরণে অগ্রগতি দেখতে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল।
প্রতিনিধিদলটি অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ডলারের দর ও মূল্যস্ফীতি কমানোসহ অর্থনীতির প্রধান নির্দেশকসমূহ সম্পর্কে জানতে চান আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আইএমএফের প্রতিনিধিদলকে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে এবং দেশে ফসল উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হলে পণ্যের দাম কমে যাবে। এতে আগামী বছর থেকে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। আর ডলারের সরবরাহ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিদেশ থেকে অফশোর ব্যাংকিংসহ প্রবাসীদের কাছ থেকে বেশি মাত্রায় ডলার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ডলারের জোগান বাড়লে ক্রমান্বয়ে ডলারের দর বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে তা পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হবে না। ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে আগামী বছর থেকে ডলারের দর ১২৪ টাকা করার প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফকে আরও জানায়, রাজস্ব আদায়ে ডিজিটাল পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হচ্ছে করদাতার সংখ্যা। দুই-তিন বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়বে। আর ঋণখেলাপি কমাতে ক্রাশ প্রোগাম হাতে নেওয়া হয়েছে। খেলাপি কমলে তারল্য বাড়বে। ব্যাংক খাতে দুর্বল ব্যাংক কমাতে ১০ ব্যাংককে দুর্বল ব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু ব্যাংকের লাল, হলুদ এবং সবুজ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে ব্যাংকে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরের মধ্যেই গতকাল সিঙ্গাপুর থেকে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার আরও নমনীয় করার পরামর্শ দিয়েছেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, একবার এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশের বাহ্যিক হিসাবে বড় আকারের স্থিতিশীলতা আসবে।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডলারের দাম আগামী বছর ১২৪ টাকা না করে উপায় থাকবে না। এটা বাজারের চাহিদার কাছাকাছি। দর আটকে রাখলে হুন্ডি আরও বাড়বে এবং অর্থ পাচারের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। তবে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ করা সম্ভব না। বিষয়টি আইএমএফের সদস্যরাও উপলব্ধি করতে পারেন। এটা নিয়ম রক্ষার পরিকল্পনা বলা যায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, ‘ডলার, মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ, খেলাপি ঋণসহ অর্থনৈতিক নির্ধারকসমূহ নিয়ে তথ্য লেনদেন হচ্ছে। এসব নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য অংশীজনদের বৈঠক চলমান রয়েছে। ৮ মে বৈঠক শেষে ব্রিফ করলে বিস্তারিত জানানো হবে।’

মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যসহ অর্থনীতির প্রধান নির্দেশকগুলো নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (আইএমএফ) জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে আগামী বছরের মধ্যে ডলারের দাম ১২৪ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের।
গতকাল মঙ্গলবার আইএমএফকে এসব পরিকল্পনার কথা জানানো হয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
বাজেটের আগে ঋণের শর্ত পূরণে অগ্রগতি দেখতে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল।
প্রতিনিধিদলটি অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ডলারের দর ও মূল্যস্ফীতি কমানোসহ অর্থনীতির প্রধান নির্দেশকসমূহ সম্পর্কে জানতে চান আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আইএমএফের প্রতিনিধিদলকে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে এবং দেশে ফসল উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হলে পণ্যের দাম কমে যাবে। এতে আগামী বছর থেকে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। আর ডলারের সরবরাহ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিদেশ থেকে অফশোর ব্যাংকিংসহ প্রবাসীদের কাছ থেকে বেশি মাত্রায় ডলার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ডলারের জোগান বাড়লে ক্রমান্বয়ে ডলারের দর বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে তা পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হবে না। ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে আগামী বছর থেকে ডলারের দর ১২৪ টাকা করার প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফকে আরও জানায়, রাজস্ব আদায়ে ডিজিটাল পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হচ্ছে করদাতার সংখ্যা। দুই-তিন বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়বে। আর ঋণখেলাপি কমাতে ক্রাশ প্রোগাম হাতে নেওয়া হয়েছে। খেলাপি কমলে তারল্য বাড়বে। ব্যাংক খাতে দুর্বল ব্যাংক কমাতে ১০ ব্যাংককে দুর্বল ব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু ব্যাংকের লাল, হলুদ এবং সবুজ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে ব্যাংকে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরের মধ্যেই গতকাল সিঙ্গাপুর থেকে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার আরও নমনীয় করার পরামর্শ দিয়েছেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, একবার এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশের বাহ্যিক হিসাবে বড় আকারের স্থিতিশীলতা আসবে।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডলারের দাম আগামী বছর ১২৪ টাকা না করে উপায় থাকবে না। এটা বাজারের চাহিদার কাছাকাছি। দর আটকে রাখলে হুন্ডি আরও বাড়বে এবং অর্থ পাচারের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। তবে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ করা সম্ভব না। বিষয়টি আইএমএফের সদস্যরাও উপলব্ধি করতে পারেন। এটা নিয়ম রক্ষার পরিকল্পনা বলা যায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, ‘ডলার, মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ, খেলাপি ঋণসহ অর্থনৈতিক নির্ধারকসমূহ নিয়ে তথ্য লেনদেন হচ্ছে। এসব নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য অংশীজনদের বৈঠক চলমান রয়েছে। ৮ মে বৈঠক শেষে ব্রিফ করলে বিস্তারিত জানানো হবে।’

সরকারিভাবে দাম বাড়ানোর পরও রাজধানীসহ দেশে বেসরকারি খাতের এলপিজি বাজারে নৈরাজ্য বন্ধ হয়নি। সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০-৭০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বরং দাম বাড়ানোর পর সরবরাহব্যবস্থার সংকট আরও বেড়েছে। অনেকেই দোকানে গিয়ে গ্যাস পাচ্ছেন না।
১ ঘণ্টা আগে
পুঁজিবাজারের গভীরতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে লাভজনক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান (এসওই) ও সরকারি অংশীদারিত্ব থাকা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর (এমএনসি) শেয়ার পুঁজিবাজারে আনার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে সরকার। লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আনা
৪ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সম্প্রসারণের গতি আগের মাস নভেম্বরের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। যদিও এই গতি খুব শক্তিশালী নয়, তবু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যবসায়িক চাপের মধ্যেও অর্থনীতি যে এখনো সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে, তা সাম্প্রতিক পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই)
৭ ঘণ্টা আগে
লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের শেয়ার থাকা বহুজাতিক কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ১০টি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
৮ ঘণ্টা আগে