বন্ড সুবিধা বহাল ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চান দেশের তৈরি পোশাক কারখানা মালিকেরা। ভারত থেকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই দাবি জানান তাঁরা।
আন্তর্জাতিক মানের ও প্রতিযোগিতামূলক দরে দিতে পারলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের স্পিনিং মিল থেকেই সুতা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পোশাক শিল্পমালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
জ সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের প্রতিবাদে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারকদের সমিতি-বিজিএমইএ এবং নিটওয়্যার প্রস্তুতকারকদের সমিতি-বিকেএমইএ যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
এ সময় বিজিএমইএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশি স্পিনিং মিলের কাছ থেকে সুতা নিলে আমদানির তুলনায় প্রতি কেজি ৪৬ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এখন দেশীয় শিল্পরক্ষার নামে আমদানি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কৃত্রিম সুরক্ষার আড়ালে সুতার একচেটিয়া বাজার তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।’
প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে সুতা আমদানির খরচ কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের ও প্রতিযোগিতামূলক দরে সুতা দিতে পারলে আমরা প্রতি কেজিতে ১০-১৫ সেন্ট (১২ টাকা থেকে সাড়ে ১৮ টাকা) বেশি দিয়ে হলেও নেব।’
এ সময় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমরা অল্প প্রফিটে (মুনাফা) ব্যবসা করি। সেখানে বেশি দামে কেন কিনব? আমাদের পোশাকশিল্পকে ক্ষতি করে আরেক শিল্পকে রক্ষা করার মানে হয় না।’ প্রয়োজনে স্পিনিং মিল মালিকদের ভিন্ন সুবিধা দিয়ে এই শিল্পরক্ষার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘পোশাক খাত এখন আইসিইউতে আছে। পাটের পর এখন পোশাকশিল্প ধ্বংস হবে।’
বিজিএমইএ পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ‘যেখানে কাঁচামালের দাম কম পাব, সেখানেই যাব। আমাদের বাজার উন্মুক্ত করতে হবে আমদানিতে।’
মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ সুতা স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে নিয়ে থাকে পোশাক খাত। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ আমদানির কারণ জানিয়ে বিজিএমইএ পরিচালক ফজলে শামিম এহসান বলেন, ‘অনেক সুতা আছে যা দেশে হয় না। তারা দিতে পারবে না। এখন এই সুতা কই পাব। আরেকটি কারণ হলো বায়াররা (ক্রেতা) কাঁচামালের আন্তর্জাতিক দাম দেখে পোশাকের দাম ঠিক করে। বিদেশে কম, বাংলাদেশে বেশি দাম হলে তো তারা মানবে না।’
স্থানীয় শিল্পকে রক্ষার যুক্তি তুলে ধরে দেশীয় স্পিনিং ও বস্ত্রকল ব্যবসায়ীদের দাবিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে সরকার শুল্কারোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
তৈরি পোশাক খাতে ব্যবহৃত সুতার সর্বোচ্চ কাউন্ট হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২। কোন ধরনের কাপড় তৈরি বা কোন কাজে ব্যবহৃত হবে তার ওপর নির্ভর করে সুতার মান নির্ণয়ের মাধ্যম হচ্ছে সুতার কাউন্ট গণনা। সুতার কাউন্ট ধরা হয় সর্বোচ্চ ১০০। কাউন্টের ওপর সুতার ওজন ও মান নির্ভর করে। কাউন্ট যত বেশি হবে সুতা তত চিকন হবে। অন্যদিকে কাউন্ট যত কম হবে ওজন তত বেশি ও সুতা মোটা হবে।
গত বছরের শুরুর দিকে স্থলবন্দর নিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করে দেয় সরকার। অভিযোগ ছিল, স্থলবন্দর দিয়ে তৈরিপোশাক খাতের নামে উচ্চ কাউন্ট অর্থাৎ ৩২-এর ওপরে ৬০ থেকে ৮০ কাউন্টের সুতা আমদানি হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে।
রপ্তানিমুখী শিল্পের নামে কম শুল্কে এসব সুতা আমদানি করে উচ্চ দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগের পাশাপাশি স্থলবন্দর দিয়ে আনা একই রকমের সুতার দাম নদীপথে আনার চেয়ে কম মূল্য দেখানো হচ্ছে।
বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের পরই সরকার সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় স্থলবন্দর দিয়ে। এখন দুই পথেই আমদানিতে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যবহারের শর্তে আনা কাঁচামাল হিসেবে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা পান রপ্তানিকারকেরা। বন্ড সুবিধা থাকলে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে কোনো শুল্ক দিতে হয় না।
সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করে বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আবেদনে এবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সাড়া দিয়ে চিঠি লিখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অবশ্য চায় না সব মানের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল হোক। সবচেয়ে বেশি আমদানি হওয়া ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতার বন্ড সুবিধা বাতিল করতে চায় মন্ত্রণালয়।
তবে সরকারের কাছে সুতা আমদানিতে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, বস্ত্র খাতকে ভিন্ন সুবিধা—যেমন নগদ অর্থ সহায়তার প্রণোদনা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছেন তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীরা।
বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ‘শুল্ক আরোপ করা সমাধান না। সবার সঙ্গে আলোচনা করে উইন-উইন সিচুয়েশনে যেতে চাই। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই সমাধান করতে চাই শিল্প বাঁচাতে।’
নতুন শুল্কারোপ করলে সুতা আমদানিতে খরচ ২৯ শতাংশের বেশি বাড়বে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

তীব্র গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং কাঁচামাল সংকটে চট্টগ্রামের তিনটিসহ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি সার কারখানাই বন্ধ রয়েছে। শুধু একটি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। এতে সামনের আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে সেখান থেকে সার...
১ ঘণ্টা আগে
বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, একচেটিয়া ব্যবসা ও যোগসাজশ ঠেকানো এবং প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের (বিসিসি)। অথচ সেই কমিশনেরই গত দুই অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পরও ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড কমেনি। বরং জুন শেষে ব্যাংক খাতের গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ৪ শতাংশ সীমার চেয়ে ১ দশমিক ৭০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। কোনো কোনো বিদেশি ব্যাংকে এ ব্যবধান ৮ শতাংশের বেশি।
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে...
৭ ঘণ্টা আগে