বিদেশি মুদ্রার বৈশ্বিক মজুত দ্রুত গতিতে নামছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত থেকে শুরু করে চেক রিপাবলিক পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ নিজ মুদ্রার সুরক্ষায় হস্তক্ষেপ করছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে তা সংকটের নমুনা, সামনে বিপদ বাড়তে থাকবে।
এ বছর রিজার্ভ প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার বা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১২ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ২০০৩ সালে ব্লুমবার্গ বৈশ্বিক রিজার্ভের ডেটা সংকলন শুরু করার পর এটাই সর্বোচ্চ পতন বলে সম্প্রতি সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
এই কমার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ মূল্যায়নের পরিবর্তন। ইউরো ও ইয়েনের মতো বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়ে এক লাফে দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠায় এসব মুদ্রা অ্যাকাউন্টে থাকা সম্পদের মূল্যও ব্যাপক কমেছে। রিজার্ভের এই পতন চলমান মুদ্রা বাজারের অস্থিরতাকেও প্রতিফলিত করে। পরিস্থিতি এমন যে বেশ কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঠেকাতে লড়াইয়ে নেমেছে।
এ বছর ভারতের রিজার্ভ ৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলার কমে এ বছর ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে নেমেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এপ্রিল থেকে পুরো অর্থবছরে তাদের হিসাব যতটা কমেছে, তার ৬৭ শতাংশই সম্পদের মূল্য কমার ফল। এ থেকেই ইঙ্গিত মিলছে, রিজার্ভ কমার জন্য বাকি দায়টা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের। এ বছর ডলারের বিপরীতে রুপি ৯ শতাংশ দর হারিয়েছে, শুধু তা-ই নয়, গত মাসে কমতে কমতে সর্বোচ্চ পর্যায়েও নেমেছিল।
ইয়েনের পতনের গতি কমাতে সেপ্টেম্বরে জাপান ২ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে। ১৯৯৮ সালের পর মুদ্রার সমর্থনে এটাই জাপানের প্রথম পদক্ষেপ। এই কারণে এবার ১৯ শতাংশ রিজার্ভ হারিয়েছে। একইভাবে চেক রিপাবলিকের মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের কারণে সেখানে ফেব্রুয়ারির পর ১৯ শতাংশ রিজার্ভ কমেছে।
রিজার্ভ কমার বিষয়ে মার্ক ইনভেস্টমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা অ্যাক্সেল মার্ক বলেন, এটা উপসর্গমাত্র, এখন ফাটল দেখা দিচ্ছে। বিপদ দেখা দেবে তীব্র গতিবেগে।
রিজার্ভ কমার এই পরিমাণ ব্যাপক হলেও রিজার্ভ দিয়ে মুদ্রার মান রক্ষার চর্চা নতুন নয়। বিদেশি পুঁজির বন্যার তোড়ের সময় মুদ্রার অতিমূল্যায়নের গতি থামাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে তাদের মজুত বাড়াতে থাকে। বাজে সময়ে পুঁজি পাচারের ধাক্কা সামলাতে তারা রিজার্ভ ব্যবহার করে থাকে।
ভারতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এখনো ২০১৭ সালের পর্যায়ের ওপরে আছে। তাদের নয় মাসের মতো আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা আছে। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে এটা দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। এ বছর ৪২ শতাংশ কমার পর পাকিস্তানের রিজার্ভ এখন ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে ঠেকেছে। এটা দিয়ে তিন মাসের আমদানি দায় মেটানোও সম্ভব নয়।

এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এই ঘাটতি ছিল ১১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ২ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
৯ ঘণ্টা আগে
ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা প্রায় দ্বিগুণ করে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এ ধরনের ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ শতাংশ। আগে গ্রাহকেরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা পেতেন।
১০ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টানা ১০ দিন জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং চালুর পর তা প্রত্যাহার করেছে সরকার। তবে রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে জ্বালানিস্বল্পতা ও সরবরাহ সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সারা দেশের দোকান এবং বিপণিবিতানগুলোয় আলোকসজ্জা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার দোকান মালিক সমিতি ও অন্য ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
১৬ ঘণ্টা আগে