
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এই মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে সে বছর সংশোধিত বাজেটে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩৭১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বাজেট বরাদ্দ কমেছে ১৭৫ কোটি টাকা।
অতীতের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু গত বছর নয়, তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চেয়েও এবার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমাণ কম। তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫ হাজার ২২২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। এ দিন বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়। বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বীক্রম। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের এটি প্রথম বাজেট।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নই উন্নয়নের নির্দেশক। নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনি ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে আগামী অর্থবছরে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করা হবে। দেশের নতুন ও সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে তাদের একটি ডেটাবেইস তৈরি করা হচ্ছে। যা তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
নারীদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অভিযোজন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে উপজেলা পর্যায়ে’ আয়-বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের অসচ্ছল নারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনেফিট) কার্যক্রমের আওতায় সারা দেশের ৪৯৩টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৬টি ইউনিয়নে ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীকে মাসিক ৩০ কেজি করে চাল ও পুষ্টি চাল দেওয়া হচ্ছে। মাতৃগর্ভ থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর যথাযথ বিকাশ, সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ এবং ‘প্যারেন্টিং’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য’ কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সমন্বিত সেবা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকার ৮০টি দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের সরকার কর্মজীবী নারীদের নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক দিবাযত্নকেন্দ্র স্থাপনের বিশাল কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে বিদেশ ফেরত নারী শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও তাদের যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা শ্রম অভিবাসনের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমান সরকার পথশিশু ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত শিশুদের পরিবারে পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী জানান, আইনের সংঘাতে জড়িত কন্যা শিশুদের সংশোধন ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর গড়ে ৩৫০ জন কন্যা শিশুকে আবাসন প্রদানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা সুবিধাবঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩ টি ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি অনুদানে চলা এই কেন্দ্রগুলোতে ৩ হাজার ৩০০ জন ছেলে ও ৩ হাজার ৩০০ জন মেয়ে শিশুর আলাদা আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া বাক্, শ্রবণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে বাজেট বক্তৃতায় জানান অর্থমন্ত্রী।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশুর পরিবার ও আহত শিশুদের প্রণোদনা কার্যক্রম তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ শিশুদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাদের পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্যে ৮৪টি পরিবারকে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহে এককালীন ৫০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আন্দোলনে আহত শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার থেকে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে।
২ মিনিট আগে
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাবেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন দাখিল করলে কোনো অতিরিক্ত করছাড় বা জরিমানা থাকবে না।
২৬ মিনিট আগে
বন্ধ কলকারখানা চালুকরণ, কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গাকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি স্টিমুলাস প্যাকেজ বা উদ্দীপনা বরাদ্দ ঠিক করেছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বাজেট বক্তব্য এই পরিকল্পনার...
২৮ মিনিট আগে
বাজেটের আকার বড় না ছোট—এ বিতর্ককে গৌণ বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তাঁর মতে, মূল প্রশ্ন হলো—প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করা যাবে কি না এবং সেই অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে কি না।
৩১ মিনিট আগে