মাহফুজুল ইসলাম, ঢাকা

আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সবচেয়ে বড় বোঝাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ পরিশোধ। পুরো বাজেটের ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে এ খাতে, যার পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি ৬.৫ টাকায় ১ টাকা যাচ্ছে সুদ মেটাতে।
এই বিপুল বরাদ্দের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ২২ হাজার কোটি টাকা। অথচ চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) সংশোধিত বাজেটে সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় বাড়ছে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর কিছু বৈদেশিক ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় শুধু সুদ নয়, আসল অর্থও পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। ফলে চাপ বেড়েছে দ্বিগুণ। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের হার বেড়েছে, আর মুদ্রার অবমূল্যায়নে বৈদেশিক ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি ঋণনির্ভর অর্থনীতির একটি সতর্কসংকেত। সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দেশি ও বৈদেশিক উভয় ঋণই বেড়েছে, কিন্তু রাজস্ব আয় বাড়েনি। ফলে সুদ পরিশোধের বোঝা বেড়েছে। সরকার এ দায় এড়াতে পারবে না। তবে ঋণ পরিশোধে অগ্রাধিকার দেওয়াটা ইতিবাচক দিক।’
গত কয়েক বছরের সুদ পরিশোধের হিসাবও বড় ঋণনির্ভরতার আভাস দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল ৭০ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। পরবর্তী বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭ হাজার ৭৭৯ কোটি, ২০২২-২৩ সালে ৯০ হাজার ১৩ কোটি এবং ২০২৩-২৪ সালে ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকায়। এবার তা লাফিয়ে ১ লাখ ২২ হাজার কোটিতে পৌঁছাতে চলেছে।
আগামী বাজেট হবে আর্থিক শৃঙ্খলার বাজেট। ঋণের জাল থেকে বেরিয়ে আসাই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য। ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায়, যেখানে এক বছর আগে এই অঙ্ক ছিল ৮ লাখ ২২ হাজার কোটি। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ বেড়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮৯ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান অর্থবছরে সরকারের আরও ১ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঋণ পরিশোধে খরচ হয়েছে ৩২১ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২৫৭ কোটি ডলার (২৮ হাজার ২৮১ কোটি টাকা)। অর্থাৎ পরিশোধের চাপ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আগামী বাজেট হবে আর্থিক শৃঙ্খলার বাজেট। ঋণের জাল থেকে বেরিয়ে আসাই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘যদি ব্যয়ের তুলনায় আয় কম হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ঋণ নিতে হবে। কিন্তু ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ব্যাহত হবে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আবার বৈদেশিক ঋণ বেশি হলে ভবিষ্যতে বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ বাড়বে।’
মোস্তফা কে মুজেরী আরও বলেন, ‘ডলার ও সুদের হার বৃদ্ধি এবং মেগা প্রকল্পের কিস্তি শোধের সময় শুরু হওয়ায় বাজেটের ঋণের বোঝা শুধু বাড়ছেই। এখন সুদ দিচ্ছি, সামনে আসলও দিতে হবে।’
সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেটের সবচেয়ে বড় সংকেত হলো, বৃদ্ধির চেয়ে বোঝা বেশি। যেখানে উন্নয়ন কমছে, সেখানেই ঋণের সুদের ফাঁদে আটকে পড়ছে জাতীয় বাজেট। আর এই ফাঁদ থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে সরকারকে রাজস্ব আদায়, ব্যয়ের দক্ষতা ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে আমূল সংস্কার।

আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সবচেয়ে বড় বোঝাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ পরিশোধ। পুরো বাজেটের ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে এ খাতে, যার পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি ৬.৫ টাকায় ১ টাকা যাচ্ছে সুদ মেটাতে।
এই বিপুল বরাদ্দের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ২২ হাজার কোটি টাকা। অথচ চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) সংশোধিত বাজেটে সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় বাড়ছে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর কিছু বৈদেশিক ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় শুধু সুদ নয়, আসল অর্থও পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। ফলে চাপ বেড়েছে দ্বিগুণ। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের হার বেড়েছে, আর মুদ্রার অবমূল্যায়নে বৈদেশিক ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি ঋণনির্ভর অর্থনীতির একটি সতর্কসংকেত। সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দেশি ও বৈদেশিক উভয় ঋণই বেড়েছে, কিন্তু রাজস্ব আয় বাড়েনি। ফলে সুদ পরিশোধের বোঝা বেড়েছে। সরকার এ দায় এড়াতে পারবে না। তবে ঋণ পরিশোধে অগ্রাধিকার দেওয়াটা ইতিবাচক দিক।’
গত কয়েক বছরের সুদ পরিশোধের হিসাবও বড় ঋণনির্ভরতার আভাস দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল ৭০ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। পরবর্তী বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭ হাজার ৭৭৯ কোটি, ২০২২-২৩ সালে ৯০ হাজার ১৩ কোটি এবং ২০২৩-২৪ সালে ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকায়। এবার তা লাফিয়ে ১ লাখ ২২ হাজার কোটিতে পৌঁছাতে চলেছে।
আগামী বাজেট হবে আর্থিক শৃঙ্খলার বাজেট। ঋণের জাল থেকে বেরিয়ে আসাই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য। ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায়, যেখানে এক বছর আগে এই অঙ্ক ছিল ৮ লাখ ২২ হাজার কোটি। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ বেড়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮৯ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান অর্থবছরে সরকারের আরও ১ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঋণ পরিশোধে খরচ হয়েছে ৩২১ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২৫৭ কোটি ডলার (২৮ হাজার ২৮১ কোটি টাকা)। অর্থাৎ পরিশোধের চাপ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আগামী বাজেট হবে আর্থিক শৃঙ্খলার বাজেট। ঋণের জাল থেকে বেরিয়ে আসাই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘যদি ব্যয়ের তুলনায় আয় কম হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ঋণ নিতে হবে। কিন্তু ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ব্যাহত হবে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আবার বৈদেশিক ঋণ বেশি হলে ভবিষ্যতে বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ বাড়বে।’
মোস্তফা কে মুজেরী আরও বলেন, ‘ডলার ও সুদের হার বৃদ্ধি এবং মেগা প্রকল্পের কিস্তি শোধের সময় শুরু হওয়ায় বাজেটের ঋণের বোঝা শুধু বাড়ছেই। এখন সুদ দিচ্ছি, সামনে আসলও দিতে হবে।’
সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেটের সবচেয়ে বড় সংকেত হলো, বৃদ্ধির চেয়ে বোঝা বেশি। যেখানে উন্নয়ন কমছে, সেখানেই ঋণের সুদের ফাঁদে আটকে পড়ছে জাতীয় বাজেট। আর এই ফাঁদ থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে সরকারকে রাজস্ব আদায়, ব্যয়ের দক্ষতা ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে আমূল সংস্কার।

ব্যাংক খাতকে ঘিরে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের ভয় ও অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। অনিয়ম-দুর্নীতি আর লুটপাটের অভিযোগে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গা থেকে মানুষ আবার ব্যাংকমুখী হচ্ছে। একসময় আতঙ্কে তুলে নেওয়া নগদ টাকা এখন ফের জমা পড়ছে ব্যাংকে।
৬ ঘণ্টা আগে
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বড় ধরনের কাটছাঁটের মুখে পড়ছে আটটি মেগা প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে মোট ১৩ হাজার ৩৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অবকাঠামো খাতেই এই সংকোচন সবচেয়ে বেশি।
৬ ঘণ্টা আগে
দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেওয়ায় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এ ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা।
৭ ঘণ্টা আগে
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও টানা দুই প্রান্তিকে বাংলাদেশে প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) গতকাল রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে