শাহ আলম খান, ঢাকা

বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র তিন দিনব্যাপী শুল্ক আলোচনা শেষ হয়েছে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক মৌলিক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকায়, আলোচনার ফলাফল এখনই স্পষ্ট নয়। ফলে মার্কিন বাজারে পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের যে আশাবাদ ছিল, তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর-এর নেতৃত্বে অংশ নেয় দেশটির কৃষি, পরিবেশ, মেধাস্বত্ব, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিভাগ।
শেষ দিনে রাত সাড়ে তিনটায় আলোচনার অগ্রগতি জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, “দ্বিপক্ষীয় আলোচনাটি মোটের উপর সফল। মার্কিন প্রস্তাবের ৮০ শতাংশ বিষয়ে আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি। তারা আমাদের অবস্থানে সন্তুষ্ট। তবে কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতে এখনো মতৈক্য হয়নি।”
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কাছে যেসব দাবি এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে—মার্কিন পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া এবং শুল্ক ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা কমানো। এছাড়া কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, গম, তুলা, এলএনজি, ভোজ্যতেল, যানবাহন, বোয়িং বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তাবেও বাংলাদেশ সম্মতি দিয়েছে।
তবে আলোচনায় কিছু স্পর্শকাতর শর্তে বাংলাদেশ আপত্তি তুলেছে। যেমন—যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো দেশকে নিষেধাজ্ঞা দেয়, তবে বাংলাদেশকেও তা মেনে চলতে হবে, কিংবা যেসব মার্কিন পণ্যকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে, সেগুলো অন্য কোনো দেশকে না দেওয়ার শর্ত। এসব বিষয় বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় বলেই জানানো হয়েছে।
এছাড়াও মার্কিন প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের চীন ও ভারতের সঙ্গে অতিমাত্রার বাণিজ্যিক নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াচ্ছে। জবাবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে, বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় তারা আন্তরিক এবং ইতোমধ্যে পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশকে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়—এ কারণে একতরফা শর্ত পূরণ সব সময় সম্ভব নয়।
সংলাপের শেষে ইউএসটিআরের প্রতিনিধিরা আলোচনা সংশ্লিষ্ট সব বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তা হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা আজকের পত্রিকা'কে বলেন, “আলোচনাটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট আলোচনা হয়েছে। এখনো কিছু বিষয় অসমাপ্ত থাকলেও আলোচনা আবার শুরু হবে—তা সরাসরি নাকি ভার্চুয়ালি, তা দু-এক দিনের মধ্যেই নির্ধারণ হবে।”
সব মিলিয়ে, আলোচনার ফল এখনো অনিশ্চিত হলেও, বাংলাদেশ মার্কিন আগ্রহের বেশিরভাগ প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ায় একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির পথ কিছুটা সুগম হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও খবর পড়ুন:

বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র তিন দিনব্যাপী শুল্ক আলোচনা শেষ হয়েছে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক মৌলিক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকায়, আলোচনার ফলাফল এখনই স্পষ্ট নয়। ফলে মার্কিন বাজারে পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের যে আশাবাদ ছিল, তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর-এর নেতৃত্বে অংশ নেয় দেশটির কৃষি, পরিবেশ, মেধাস্বত্ব, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিভাগ।
শেষ দিনে রাত সাড়ে তিনটায় আলোচনার অগ্রগতি জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, “দ্বিপক্ষীয় আলোচনাটি মোটের উপর সফল। মার্কিন প্রস্তাবের ৮০ শতাংশ বিষয়ে আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি। তারা আমাদের অবস্থানে সন্তুষ্ট। তবে কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতে এখনো মতৈক্য হয়নি।”
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কাছে যেসব দাবি এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে—মার্কিন পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া এবং শুল্ক ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা কমানো। এছাড়া কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, গম, তুলা, এলএনজি, ভোজ্যতেল, যানবাহন, বোয়িং বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তাবেও বাংলাদেশ সম্মতি দিয়েছে।
তবে আলোচনায় কিছু স্পর্শকাতর শর্তে বাংলাদেশ আপত্তি তুলেছে। যেমন—যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো দেশকে নিষেধাজ্ঞা দেয়, তবে বাংলাদেশকেও তা মেনে চলতে হবে, কিংবা যেসব মার্কিন পণ্যকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে, সেগুলো অন্য কোনো দেশকে না দেওয়ার শর্ত। এসব বিষয় বাংলাদেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় বলেই জানানো হয়েছে।
এছাড়াও মার্কিন প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশের চীন ও ভারতের সঙ্গে অতিমাত্রার বাণিজ্যিক নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াচ্ছে। জবাবে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে, বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় তারা আন্তরিক এবং ইতোমধ্যে পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশকে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়—এ কারণে একতরফা শর্ত পূরণ সব সময় সম্ভব নয়।
সংলাপের শেষে ইউএসটিআরের প্রতিনিধিরা আলোচনা সংশ্লিষ্ট সব বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তা হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা আজকের পত্রিকা'কে বলেন, “আলোচনাটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট আলোচনা হয়েছে। এখনো কিছু বিষয় অসমাপ্ত থাকলেও আলোচনা আবার শুরু হবে—তা সরাসরি নাকি ভার্চুয়ালি, তা দু-এক দিনের মধ্যেই নির্ধারণ হবে।”
সব মিলিয়ে, আলোচনার ফল এখনো অনিশ্চিত হলেও, বাংলাদেশ মার্কিন আগ্রহের বেশিরভাগ প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ায় একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির পথ কিছুটা সুগম হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও খবর পড়ুন:

১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দেশের দুই শীর্ষ খাত—বস্ত্রকল ও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। দেশীয় সুতাশিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সুবিধা তুলে নেওয়ার পথে হাঁটলেও, তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা
৬ ঘণ্টা আগে
২০২৫-২৬ অর্থবছরের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যত স্থবিরতা কাটেনি। পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এস
৬ ঘণ্টা আগে
পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হবে—সমালোচিত ও বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত আবুল খায়ের হিরুর এমন বার্তার পরই দেশের পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে। গতকাল রোববার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৭ গুণ।
৬ ঘণ্টা আগে
বন্ড সুবিধার আড়ালে কেএলডি অ্যাপারেলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে শুল্ক-কর ফাঁকি ও রপ্তানি জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে কাস্টমসের এক তদন্তে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৭৯ টন কাপড় ও অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনে ব্যবহার না করে ইসলামপুরসহ বিভিন্ন অনুমোদনহীন বাজারে
৬ ঘণ্টা আগে