Ajker Patrika

ভোজ্যতেলের দাম: বিশ্বে কমছে, দেশে বাড়ছে

আয়নাল হোসেন, ঢাকা
ভোজ্যতেলের দাম: বিশ্বে কমছে, দেশে বাড়ছে

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমছে। অথচ দেশের বাজারে নিত্যপণ্যটির দাম বাড়ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৩ টাকা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাসে বাড়তি ফায়দা লুটতেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক নিউজপোর্টাল ইনডেক্স মুন্ডি ডটকম সূত্রে জানা গেছে, গত নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১ হাজার ৬৫১ মার্কিন ডলার। চলতি মার্চ মাসে তা নেমে এসেছে ১ হাজার ৩৩৬ ডলারে। তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ৩১৫ ডলার।

ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ঋণপত্র (এলসি) এবং বিল দেওয়া নিয়ে জটিলতায় দেশে ভোজ্যতেল আমদানি কমেছে। শিগগির এই জটিলতা না কাটলে সরবরাহব্যবস্থা ঠিক রাখা সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে টিকে গ্রুপের পরিচালক সফিকুল আথহার তসলিম বলেন, গত নভেম্বর মাসের আমদানি করা ভোজ্যতেলের বিল এখনো বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিলের জটিলতায় ২৭০ দিনের আগে ব্যাংকগুলো এলসি নিষ্পত্তি করতে পারছে না। এখন পণ্য আমদানি করলে সেটি কী দামে বিক্রি করা হবে, এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

এদিকে, রাজধানী ও আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা যায়, খুচরা পর্যায়ে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি সয়াবিন তেলে দাম বেড়েছে ৩ টাকা পর্যন্ত। আর পাম তেলে ৫ টাকা। আগে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৮৭ টাকা। বর্তমানে তা ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ১৩৫ টাকার পাম তেলের কেজি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকার মুদিদোকানি সৌরভ মাহমুদ জানান, দুই সপ্তাহ আগে তিনি পাম তেল বিক্রি করেছিলেন ১৩৫ টাকা কেজি। গতকাল সোমবার তা ১৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন। আর খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করেছেন ১৯০ টাকা কেজি দরে। যা আগে ছিল ১৮৭ টাকা। পুরান ঢাকার মুদিদোকানি সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি এক সপ্তাহ আগে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করেছিলেন ১৮১ টাকা কেজি। গতকাল তা ১৮৪ টাকায় বিক্রি করেছেন। আর পাম তেল ছিল ১৩২ টাকা। গতকাল তা ১৩৫ টাকায় বিক্রি করেছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, গত রোববার প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১২৫-১৩০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২০-১৩০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এক মাস আগে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৬৯ টাকা। বর্তমানে তা ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১২৭ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ১১৯ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২০ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় ২ লাখ ৩ হাজার টন। দেশে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয় ২০ লাখ টন। রমজান মাসে চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ টন। ভোজ্যতেল আমদানিতে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়া আর কোনো ট্যাক্স-ভ্যাট নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

জরুরি ভিত্তিতে এলপি গ্যাস আমদানি করতে চায় বিপিসি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান এলপি গ্যাসের সরবরাহ সংকট কাটাতে এবার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জরুরি ভিত্তিতে এলপি গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। বিপিসির নিজস্ব সক্ষমতা না থাকায় এলপি গ্যাস আমদানি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সারা দেশে বিপণনের পরিকল্পনা চলছে।

তবে কবে নাগাদ এই আমদানি করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করতে পারেনি বিপিসি অথবা জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলপি গ্যাস আমদানির অনুমতি চেয়ে বিপিসি গত শনিবার জ্বালানি বিভাগে চিঠি পাঠায়। গতকাল বুধবার বিপিসি সেই অনুমোদন পেয়েছে বলে আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের সংগঠন লোয়াবের একজন কর্মকর্তা।

দেশে মাসে প্রায় দেড় লাখ টন এলপি গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এলপি গ্যাসের বাজার প্রায় পুরোটাই বেসরকারি কোম্পানিগুলোর। বিপিসি মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাজারের অংশীদার। গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কয়েকটি কোম্পানি এলপি গ্যাস আমদানি করতে না পারায় প্রায় এক মাস ধরে দেশব্যাপী সরবরাহ সংকট চলছে। সেই সুযোগে দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তা-ও পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও এলপি গ্যাসের দোকানগুলো সিলিন্ডারশূন্য, আবার অনেক দোকান বন্ধ রয়েছে।

এলপি গ্যাসের সরবরাহ সংকট কাটাতে চলতি মাসের শুরু থেকে সরকারের একাধিক সংস্থা দফায় দফায় বৈঠক করেছে। বেসরকারি কোম্পানির আমদানির ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে সংকট শিগগির কেটে যাওয়ার কোনো আভাস মিলছে না।

বিপিসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিপিসির নিজস্ব পর্যায়ে এলপিজি সংরক্ষণ ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো (যেমন: জেটিভিত্তিক পাইপলাইন, ফ্লোমিটার, স্টোরেজ ট্যাংক) নেই। তবে দেশে বিদ্যমান বেসরকারি এলপিজি অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্র এলাকায় এলপিজি বহনকারী জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস এবং পরে নিজস্ব টার্মিনালে সংরক্ষণ করে। বিপিসিও সেই পদ্ধতিতে আগ্রহী বেসরকারি অপারেটর প্রতিষ্ঠানের লাইটারিং জাহাজ ব্যবহার করে এলপিজি খালাস ও বণ্টনের ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে লোয়াবের সঙ্গে আলোচনা করে আগ্রহী অপারেটর প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি, কী পরিমাণ এলপিজি আমদানি করতে হবে, তা নিরূপণ, মূল্য পরিশোধের পদ্ধতি, খালাস ও বণ্টন প্রক্রিয়াসংক্রান্ত বিষয়গুলো নির্ধারণ করা যেতে পারে। অতীতে দেশে জ্বালানি তেলের আকস্মিক চাহিদা বৃদ্ধি বা সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে বিপিসির তালিকাভুক্ত (জি-টু-জি) সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটেশন আহ্বানের মাধ্যমে অতিরিক্ত আমদানির নজির রয়েছে। একইভাবে বিপিসির তালিকাভুক্ত জি-টু-জি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব এ কে এম ফজলুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সরকার হয়তো আনুষ্ঠানিক কিছু জানাবে।

লোয়াবের মহাসচিব মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার জানান, গতকালই বিপিসি এলপি গ্যাস আমদানির জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে বলে জেনেছেন। একই দিন বিইআরসিও এক দফা বৈঠক করেছে। আজ আবারও আলোচনা হবে। বিষয়টি কিছুটা জটিল। কোন কোম্পানির কতটা চাহিদা, এসব নিরূপণ করেই পরে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

প্রথমবার ঢাকা আসছেন আইএফএসি প্রেসিডেন্ট, অংশগ্রহণ করবেন সাফা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে হিসাববিজ্ঞান পেশার ইতিহাসে এক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। ১৭ জানুয়ারি ঢাকার হোটেল লো মেরিডিয়েনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘সাফা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ২০২৬’। এই সম্মেলনে যোগ দিতে প্রথমবারের মতো ঢাকা আসছেন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টসের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ বুকো।

আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আইসিএবি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন এফসিএ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাফা অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন এফসিএ এবং আইসিএবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এবারের সম্মেলনের একটি বিশেষ দিক হলো দক্ষিণ এশীয় হিসাববিদদের আঞ্চলিক সংস্থা সাফার নেতৃত্ব বাংলাদেশের হাতে আসা। আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এফসিএ ২০২৬ সালের জন্য সাফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এ ছাড়া আইসিএবির চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী এফসিএ সাফার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘পরবর্তী প্রজন্মের পেশা: নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টেকসই প্রতিবেদন একীভূতকরণ’। আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন বলেন, ভবিষ্যৎ হিসাববিদদের কেবল আর্থিক হিসাব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং টেকসই প্রতিবেদনের মতো নতুন প্রযুক্তিতেও পারদর্শী হতে হবে। স্মার্ট শাসনব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়তে ‘নৈতিক এআই’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।

সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর পাঁচ শতাধিক পেশাজীবী ও নীতিনির্ধারক এই সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সম্মেলনে তিনটি টেকনিক্যাল সেশনে আলোচনা করা হবে নৈতিকতা ও প্রযুক্তির প্রভাবে পেশাগত পরিবর্তনের রূপরেখা, হিসাববিদদের বিবর্তনশীল ভূমিকা ও টেকসই প্রতিবেদনের ফ্রেমওয়ার্ক ও ফলাফল।

বক্তারা জানান, এই সম্মেলনটি সরকারের ‘নতুন বাংলাদেশ’ রূপকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা পেশাগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে একটি প্রগতিশীল জাতি হিসেবে তুলে ধরবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

এনএসইজেডে ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ০৫
এনএসইজেডে ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজ

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে আজ বুধবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কার্যালয়ে জমি লিজ চুক্তি করেছে।

বেজার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজ জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পাঁচ একর জমিতে একটি পরিবেশবান্ধব ও রপ্তানিমুখী শিল্প ইউনিট স্থাপন করবে, যেখানে তুলনামূলকভাবে কম পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে এবং গ্যাসের প্রয়োজন হবে না। আগামী বছরের মে মাস থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজের উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে থাকবে পলিউরেথেন ফোম, পলিইথিলিন ফোম, রিসাইকেলড ফোম, ম্যাট্রেস, পিলো, কমফোর্টার ও শু ইনসোল। উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশ চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হবে। বর্তমানে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায়ও প্রতিষ্ঠানটির একটি কারখানা রয়েছে।

এই শিল্প ইউনিট স্থাপনের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের রপ্তানি খাতে নতুন সংযোজন ঘটবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও মানসম্মত উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে বেজা কর্তৃপক্ষ।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ বলেন, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের বিনিয়োগ পরিবেশবান্ধব শিল্প উদ্যোগের একটি ভালো উদাহরণ।

সালেহ আহমদ আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্প অন্য দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও এখানে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা টেকসই শিল্পায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বেজার পক্ষে নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ এবং জ্যান্ট অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের পক্ষে চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন জমি লিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বেজা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেজা সূত্র জানায়, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ১৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং আরও ২৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রয়েছে। দেশের বৃহত্তম পরিকল্পিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি আধুনিক নগর সুবিধা, অবকাঠামো ও টেকসই ইউটিলিটি গড়ে তোলা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

দারিদ্র্য আরও বেড়েছে উন্নয়নশীল বিশ্বের এক–চতুর্থাংশ দেশে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ এখনো সাব–সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে। ছবি: এএফপি
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ এখনো সাব–সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে। ছবি: এএফপি

উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রতি চারটি দেশের মধ্যে একটি দেশ এখনো ২০১৯ সালের তুলনায় দরিদ্র। ২০১৯ সাল ছিল কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়। এমনটাই জানিয়েছে, বিশ্ব ব্যাংক। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি বলেছে, নিম্নআয়ের অনেক দেশ গত বছরের শেষ পর্যন্ত ৬ বছরে বড় ধরনের নেতিবাচক ধাক্কা খেয়েছে। এসব দেশের বড় অংশই সাব-সাহারান আফ্রিকায় অবস্থিত।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে—বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, এই তালিকায় রয়েছে বতসোয়ানা, নামিবিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাদ ও মোজাম্বিক। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়াও এই সময়ে গড় আয় বাড়াতে পারেনি। নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতি ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং নাইজেরিয়ার অর্থনীতি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বেড়েছিল। তবুও এই দুই দেশ গড় আয় বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, মহামারির পর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ‘নিম্নমুখী’ হয়েছে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির গতি এতটাই ধীর যে, তা চরম দারিদ্র্য কমানো এবং যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে আগামী বছর ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি স্থিতিশীল প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করায় এই স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। তবে ২০২৬ সালে অগ্রগতি খুব সীমিত হতে পারে। কারণ উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় বিশ্বের অর্থনীতিই তখন নানা চ্যালেঞ্জে পড়বে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২০২৫ সালে ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ২ দশমিক ২ শতাংশ হারে বেড়েছে। জুনে দেওয়া আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এই হার যথাক্রমে দশমিক ৭ ও দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। একই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরো অঞ্চল পিছিয়ে আছে। সেখানে ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি মাত্র দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে তা ১ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, আগামী দুই বছরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মোটামুটি স্থির থাকবে। ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নামতে পারে। এরপর ২০২৭ সালে আবার তা ২ দশমিক ৭ শতাংশে ফিরতে পারে। এটি জুনের পূর্বাভাসের তুলনায় সামান্য ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে প্রতি চারটি উন্নয়নশীল দেশের একটিতে গড় আয় এখনো ২০১৯ সালের নিচে, সেসব দেশের অনেকগুলো যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে গেছে। এসব কারণে মহামারি থেকে তাদের পুনরুদ্ধার দেরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রবৃদ্ধি হলেও, আগের বড় ধস কাটিয়ে ওঠার জন্য তা যথেষ্ট হয়নি।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল বলেছেন, ‘এই প্রবণতাগুলো শুধু দুর্ভাগ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। অনেক উন্নয়নশীল দেশে এগুলো এড়ানো সম্ভব ছিল এমন নীতিগত ভুলের ফল।’ তিনি বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কঠোর বাজেট নীতি মেনে চলা দরকার। দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের সূত্র সব দেশের জন্যই প্রায় একই।

গিল বলেন, ‘স্থবিরতা ও বেকারত্ব এড়াতে উদীয়মান ও উন্নত অর্থনীতির সরকারগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য জোরালোভাবে উদার করতে হবে। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকলেও, তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরির মতো প্রবৃদ্ধি সৃষ্টি করতে পারছে না। আগামী এক দশকে ১৬ বছরের নিচে বয়সী প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে।

গিল বলেন, ‘প্রতিটি বছর পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি তৈরির সক্ষমতা হারাচ্ছে এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার প্রতিও আরও সহনশীল হয়ে উঠছে। কিন্তু অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও স্থিতিশীলতা দীর্ঘদিন আলাদা পথে চলতে পারে না। তা হলে সরকারি অর্থব্যবস্থা ও ঋণবাজারে ভাঙন ধরবে।’ তিনি বলেন, ‘আগামী বছরগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতি ১৯৯০-এর দশকের সংকটময় সময়ের চেয়েও ধীর গতিতে বাড়বে। অথচ এই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি ঋণের পরিমাণ থাকবে রেকর্ড উচ্চতায়।’

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীনের অর্থনীতি চলতি বছরে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আগামী বছরে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়বে। জুনে দেওয়া আগের মূল্যায়নের তুলনায় এই পূর্বাভাস উন্নত করা হয়েছে। তবে এরপরও এটি ৩৫ বছরের মধ্যে চীনের সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি। এই হার ২০২৫ সালের জন্য আগের পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য করা ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির নিচে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বসন্তে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পর থেকে বেইজিং চাপের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা এবং জল্পনাভিত্তিক আবাসন খাতের উত্থান ও পতনের পরবর্তী প্রভাব সামলাতেও চীন হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, সরকারি ব্যয়ের বড় ধরনের বৃদ্ধির ফলে চীনে অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য বাজারে পণ্য পাঠানোর মাধ্যমে রপ্তানিও টিকে ছিল। এসব কারণে প্রত্যাশার চেয়ে চীনের অর্থনীতি বেশি স্থিতিশীল প্রমাণিত হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত