Ajker Patrika

ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের নতুন পরিকল্পনা

বিনিয়োগ আনায় সহযোগী পাবে ১.২৫% প্রণোদনা

  • ১৮০ দিনের পরিকল্পনার অগ্রগতি প্রকাশ।
  • সম্ভাব্য বিনিয়োগে আগ্রহ প্রস্তাব।
  • এসেছে ১৩০ কোটি ডলারের প্রস্তাব।
  • ৪০ কোটি ডলার সিদ্ধান্তের পর্যায়ে।
  • ১৫ অক্টোবর থেকে প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিনিয়োগ আনায় সহযোগী পাবে ১.২৫% প্রণোদনা
ফাইল ছবি

দেশে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) খরা চলছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের অংশ হিসেবে সরকার দেশে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সরকারি-বেসরকারি ফোরামে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সেই ধারাবাহিকতার কিছুটা সুফল এখন স্পষ্ট হচ্ছে। গত ছয় মাসে বিভিন্ন পর্যায়ে ১৩০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগ্রহ প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ ইতিমধ্যে সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিকে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারি তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি এই কাজে দেশি-বিদেশি মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকেও সরকার পাশে রাখতে চায়। এ লক্ষ্যে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করা যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এদের ইতিবাচক তৎপরতায় কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে যে পরিমাণ ইক্যুইটি বা মূলধন আনবেন, তার ওপর ভিত্তি করে মধ্যস্থতাকারীকে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

গতকাল মঙ্গলবার ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রকাশ করা ১৮০ দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়নে চলতি বছর ১৬ মার্চ এই সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে নেওয়া ১৬টি কর্মধারার মধ্যে ১৪টির আওতায় ২০টি উদ্যোগের অগ্রগতি হয়েছে। কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর কাজ এগোলেও সেগুলো বাস্তবায়নে আরও সময় প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয় অগ্রগতি পর্যালোচনার চিত্রে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, সম্ভাব্য ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের মধ্যে চীন থেকে ৬০ কোটি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০ কোটি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ কোটি এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। খাতভিত্তিকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৩০ কোটি ডলার করে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র খাতে ২০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

বড় বিনিয়োগ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৫৫ কোটি ডলারের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে। এপিএম টার্মিনালস ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে। চালু হলে ৭০০ জনের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ৪৪ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ১৫ বছরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তরও সম্পন্ন হয়েছে। এ অঞ্চলের সম্ভাব্য বিনিয়োগ ১৩০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৫০ কোটি ডলারের সক্রিয় বিনিয়োগ রয়েছে। মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে ৬৫ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বিনিয়োগসেবা সহজ করতে বিডা, বেজা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাবিজে তিন দিনের বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ চালু হয়েছে। ১৪ দিনের বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ তৈরির কাজ চলছে। ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে দুই দফা সংলাপে ওঠা ২৮টি বিষয়ের মধ্যে ২১টিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সিইপিএ সম্পন্ন হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে। চীনের দক্ষিণাঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয় চালুর প্রস্তুতিও এগিয়েছে।

সরকারি পর্যটন স্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগের প্রথম পাইলট পিপিপি প্রকল্প হিসেবে হোটেল শৈবালকে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ১০ হাজার একরের বেশি শিল্পজমিতে বেসরকারি বিনিয়োগের ৪৪টি সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত