Ajker Patrika

পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন: উন্নয়ন ব্যয়ে স্থবিরতা কাটেনি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন: উন্নয়ন ব্যয়ে স্থবিরতা কাটেনি

জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিপুল সমর্থন নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। আর নির্বাচিত সরকারের এ উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি পূরণের পথ খোলে সাধারণত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) যথাযথ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। এরই মধ্যে সরকারের মেয়াদ সাত মাস ও চলতি অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটের তিন মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। কিন্তু এখনো এডিপি বাস্তবায়নে সেই পুরোনো সীমাবদ্ধতা থেকে বের হওয়া যায়নি। দরপত্র আহ্বান, ঠিকাদার নিয়োগ, অর্থছাড়, খরচের প্রশাসনিক অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজে দীর্ঘসূত্রতা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন স্পৃহাকেও চেপে ধরেছে। এটি ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার উন্নয়ন লক্ষ্যের সময়াবদ্ধ দৌড়ে শুধু পিছুই টানছে, ইতিমধ্যে এডিপি মূল্যায়নের দুই মাস পেরোলেও এখনো তার বাস্তবায়নের সীমা ২ শতাংশের ঘরে পৌঁছানো যায়নি।

পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন তথ্য বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাত্র ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা; যা গত পাঁচ অর্থবছরের একই সময়ের মধ্যে এবারই বাস্তবায়নের হার সর্বনিম্ন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাঁচ বছর আগে জুলাই-আগস্টে যে হারে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ খরচ হয়েছিল, এবার তা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

অর্থ খরচের সক্ষমতাও কমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে প্রায় ৫ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সেই ব্যয় নেমেছে ৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ব্যয় সক্ষমতা কমেছে ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৭০ হাজার ২২৯ কোটি ৮৬ টাকা।

একক মাস হিসেবে আগস্টেও উন্নয়নের গতি ফেরেনি। এই মাসে ৩ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, যা মোট এডিপির ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। আগের বছর আগস্টে ব্যয়ের হার ছিল ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। মাসের হিসাবেও এক বছরের ব্যবধানে অগ্রগতি কমেছে শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, অর্থবছরের শুরুতে প্রকল্পের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে কিছুটা সময় লাগে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্পে প্রশাসনিক বা অর্থছাড়সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইএমইডির তথ্য বলছে, ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ১৭টি সংস্থা তাদের বরাদ্দের ১ শতাংশের কম অর্থ ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি সংস্থার কোনো ব্যয়ই হয়নি।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রকল্প নেওয়ার আগে অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং অনুমোদনের পর দ্রুত বাস্তবায়ন পর্যায়ে নেওয়া জরুরি। প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা কমানো না গেলে বছরের শুরুতে যে ঘাটতি তৈরি হয়, পরে তা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রকল্পের মানেও তার প্রভাব পড়ে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত