জয়নাল আবেদীন খান, ঢাকা

ঝুঁকি বিবেচনায় লাল তালিকাভুক্ত এবি ব্যাংক পিএলসিতে ঘটেছে গুরুতর অনিয়ম ও ব্যাপক লুটপাট। আগ্রাসী ঋণ বিতরণ করে তা আদায়ে খাবি খাচ্ছে ব্যাংকটি। খেলাপি ঋণ হয়ে পড়েছে লাগামছাড়া। এতে ব্যাংকের সম্পদের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। এবি ব্যাংকের সমন্বিত মূলধন দেখানো হয়েছে ৩৭ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। ব্যাংকিং নীতিমালার ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ (রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট) দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান আজকের পত্রিকা'কে বলেন, এবি ব্যাংকের অনিয়মের শেষ নেই। ব্যাংকটিতে ঋণ নীতিমালার ব্যাপক অনাচার ঘটেছে। আগ্রাসী ঋণ দিয়ে তা আদায় করতে পারছে না। ঋণের জামানত ঠিকঠাক নেই। আর ঋণের বিপরীতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে হাবুডুবু খাচ্ছে। মোট ঋণকে ছাড়িয়ে গেছে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ। ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন ঋণ প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ব্যাংকটির অগ্রগতি নিয়ে আশার কিছু নেই। আর কোনো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হবে কি না তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে ৷ বিষয়টি পরে পরিষ্কার করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি বছরের হালনাগাদ পরিদর্শন প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরভিত্তিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এবি ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম উঠে এসেছে। ব্যাংকটি বিশেষ বিবেচনায় ১১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ নিয়মিত দেখিয়েছে, যা আইনে ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখানো প্রয়োজন ছিল। আর ঝুলে থাকা মামলায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ (রিস্ক ওয়েটেড) ১ হাজার ৮১৪ কোটি টাকাও খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এই দুই খাতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পত্তি ১৩ হাজার ৫৮৪ কোটি খেলাপি সত্ত্বেও নিয়মিত দেখানো গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছেন পরিদর্শকেরা। এমন ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ২০ শতাংশের কম প্রভিশন সংরক্ষণ করায় দেড় গুণ জরিমানাসহ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ দাঁড়ায় ২০ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বকেয়া ঋণ বিবেচনায় (স্পেশাল হিসেবে ও খেলাপি) একক ও সমন্বিত ঋণ হিসেবে ৩৭ হাজার ৯৯ কোটি টাকার সঙ্গে যোগ হয়। পরিশেষে ব্যাংকটির একক ও সমন্বিত হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নীতিমালার মানদণ্ড ব্যাসল-৩ গাইড লাইন অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের (রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট) নির্ধারিত ২০ শতাংশের কম প্রভিশন সংরক্ষণ করলে সে ক্ষেত্রে বকেয়ার জন্য ১৫০ শতাংশ হারে প্রভিশন হিসাব করতে হবে। এবি ব্যাংকের বকেয়া প্রভিশনের জন্য সম্পদের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেশি হয়েছে।
এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও বিভিন্ন শাখা ঘুরে জানা গেছে, এবি ব্যাংক ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক। ভালোভাবেই চলছিল ব্যাংকটি। কিন্তু ২০১৭ সালে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো হয়। এতে ব্যাংকটিতে একটা বড় ধাক্কা লাগে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু পরিস্থিতি যেন যেই লাউ সেই কদু। ঋণ বিতরণে ব্যাংকিং নীতি উপেক্ষার অনেক ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, এশিয়ান সিটি, বিল্ডট্রেড গ্রুপ ও মাহিন গ্রুপের কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া হয়ে পড়ে। এসব ঋণ আদায়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে এবি ব্যাংক। আর গত মার্চ শেষে ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ৩৩ হাজার ৫৮২ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৮৪০ কোটি বা ২৬ শতাংশ। প্রকৃত খেলাপি ৫০ শতাংশের বেশি বলে জানান খোদ ব্যাংকটির কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ব্যাংকে ঋণের নামে লুটপাট হয়েছে। কিছু ব্যাংক ফাঁকা হয়েছে। কিছু ব্যাংক ঝুঁকি বিবেচনায় লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনেক ব্যাংকের ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাহলে এসব ব্যাংক কার্যত ব্যাংকিং করছে না। ঘুরে দাঁড়াবে সে রকমটা দেখা যাচ্ছে না। দুর্নীতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছেছে। কারা অপকর্মে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এবিসহ ঝুঁকিতে থাকা সব ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এবি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের রক্ষিতব্য সংস্থান (মার্জিন ঋণের বিপরীতে) ৪৭৫ কোটি টাকা, যার বিপরীতে সংরক্ষণ করা হয় মাত্র ৩৪ কোটি টাকা। সেখানে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪১ কোটি টাকা। আর এবি সিকিউরিটিজ লিমিটেডোর প্রয়োজনীয় রক্ষিতব্য সংস্থান (মার্জিন ঋণের বিপরীতে) ৪৪ কোটি টাকা। যার বিপরীতে রক্ষিত সংস্থান পাওয়া গেছে মাত্র ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এখানে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। পাশাপাশি নিজস্ব বিনিয়োগ ও মার্জিন ঋণের বিপরীতে রক্ষিত সংস্থান ঘাটতি ৪৭০ কোটি টাকা। তবে সর্বমোট সংস্থান ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৭৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চলতি দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর খান বলেন, ‘দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংকটি নির্দিষ্ট ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে বিগত সরকারের সময়ে কিছু নীতির ব্যাঘাত ঘটেছে। আমরা সবকিছু ভালো করার চেষ্টা করছি। গ্রাহকেরা টাকা পাচ্ছে। কোনো গ্রাহক চেক দিয়ে টাকা পায়নি সে রকম একটি নজিরও নেই। আমানত বাড়ছে।’ ব্যাংকটির বিপুল সম্পদ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কবে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানা গেছে, ঝুঁকির শীর্ষে থাকায় বিগত সরকারের সময় লাল তালিকাভুক্ত ছিল এবি ব্যাংক। এরপর দিন দিন অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। আর ঋণের নামে ব্যাংক খালির ঘটনায় ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে ১৬ হাজার কোটি টাকার খেলাপি গোপন করেছিল ব্যাংকটি। প্রভিশন ঘাটতি ছিল। বারবার দিতে হয়েছে জরিমানা। সবশেষে বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ, যা নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, সরকারের উচিত ব্যাংকের ওপর নিরপেক্ষ অডিট (নিরীক্ষা) করা। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত না। তাহলে কারা ব্যাংক খালি করল, তাদের নাম বের হয়ে আসবে। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। চিহ্নিত বড় খেলাপিদের সম্পদ ক্রোক করতে হবে। আর যেসব ব্যাংক তা করবে না, তাদের বিরুদ্ধে হার্ড লাইনে (কঠোর অবস্থান) যেতে হবে।
আরও খবর পড়ুন:

ঝুঁকি বিবেচনায় লাল তালিকাভুক্ত এবি ব্যাংক পিএলসিতে ঘটেছে গুরুতর অনিয়ম ও ব্যাপক লুটপাট। আগ্রাসী ঋণ বিতরণ করে তা আদায়ে খাবি খাচ্ছে ব্যাংকটি। খেলাপি ঋণ হয়ে পড়েছে লাগামছাড়া। এতে ব্যাংকের সম্পদের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। এবি ব্যাংকের সমন্বিত মূলধন দেখানো হয়েছে ৩৭ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। ব্যাংকিং নীতিমালার ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ (রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট) দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান আজকের পত্রিকা'কে বলেন, এবি ব্যাংকের অনিয়মের শেষ নেই। ব্যাংকটিতে ঋণ নীতিমালার ব্যাপক অনাচার ঘটেছে। আগ্রাসী ঋণ দিয়ে তা আদায় করতে পারছে না। ঋণের জামানত ঠিকঠাক নেই। আর ঋণের বিপরীতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে হাবুডুবু খাচ্ছে। মোট ঋণকে ছাড়িয়ে গেছে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ। ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন ঋণ প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ব্যাংকটির অগ্রগতি নিয়ে আশার কিছু নেই। আর কোনো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হবে কি না তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে ৷ বিষয়টি পরে পরিষ্কার করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি বছরের হালনাগাদ পরিদর্শন প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরভিত্তিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এবি ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম উঠে এসেছে। ব্যাংকটি বিশেষ বিবেচনায় ১১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ নিয়মিত দেখিয়েছে, যা আইনে ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখানো প্রয়োজন ছিল। আর ঝুলে থাকা মামলায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ (রিস্ক ওয়েটেড) ১ হাজার ৮১৪ কোটি টাকাও খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এই দুই খাতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পত্তি ১৩ হাজার ৫৮৪ কোটি খেলাপি সত্ত্বেও নিয়মিত দেখানো গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছেন পরিদর্শকেরা। এমন ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ২০ শতাংশের কম প্রভিশন সংরক্ষণ করায় দেড় গুণ জরিমানাসহ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ দাঁড়ায় ২০ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বকেয়া ঋণ বিবেচনায় (স্পেশাল হিসেবে ও খেলাপি) একক ও সমন্বিত ঋণ হিসেবে ৩৭ হাজার ৯৯ কোটি টাকার সঙ্গে যোগ হয়। পরিশেষে ব্যাংকটির একক ও সমন্বিত হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নীতিমালার মানদণ্ড ব্যাসল-৩ গাইড লাইন অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের (রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট) নির্ধারিত ২০ শতাংশের কম প্রভিশন সংরক্ষণ করলে সে ক্ষেত্রে বকেয়ার জন্য ১৫০ শতাংশ হারে প্রভিশন হিসাব করতে হবে। এবি ব্যাংকের বকেয়া প্রভিশনের জন্য সম্পদের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেশি হয়েছে।
এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও বিভিন্ন শাখা ঘুরে জানা গেছে, এবি ব্যাংক ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক। ভালোভাবেই চলছিল ব্যাংকটি। কিন্তু ২০১৭ সালে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো হয়। এতে ব্যাংকটিতে একটা বড় ধাক্কা লাগে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু পরিস্থিতি যেন যেই লাউ সেই কদু। ঋণ বিতরণে ব্যাংকিং নীতি উপেক্ষার অনেক ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, এশিয়ান সিটি, বিল্ডট্রেড গ্রুপ ও মাহিন গ্রুপের কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া হয়ে পড়ে। এসব ঋণ আদায়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে এবি ব্যাংক। আর গত মার্চ শেষে ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ৩৩ হাজার ৫৮২ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৮৪০ কোটি বা ২৬ শতাংশ। প্রকৃত খেলাপি ৫০ শতাংশের বেশি বলে জানান খোদ ব্যাংকটির কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ব্যাংকে ঋণের নামে লুটপাট হয়েছে। কিছু ব্যাংক ফাঁকা হয়েছে। কিছু ব্যাংক ঝুঁকি বিবেচনায় লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনেক ব্যাংকের ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাহলে এসব ব্যাংক কার্যত ব্যাংকিং করছে না। ঘুরে দাঁড়াবে সে রকমটা দেখা যাচ্ছে না। দুর্নীতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছেছে। কারা অপকর্মে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এবিসহ ঝুঁকিতে থাকা সব ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এবি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের রক্ষিতব্য সংস্থান (মার্জিন ঋণের বিপরীতে) ৪৭৫ কোটি টাকা, যার বিপরীতে সংরক্ষণ করা হয় মাত্র ৩৪ কোটি টাকা। সেখানে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪১ কোটি টাকা। আর এবি সিকিউরিটিজ লিমিটেডোর প্রয়োজনীয় রক্ষিতব্য সংস্থান (মার্জিন ঋণের বিপরীতে) ৪৪ কোটি টাকা। যার বিপরীতে রক্ষিত সংস্থান পাওয়া গেছে মাত্র ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এখানে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। পাশাপাশি নিজস্ব বিনিয়োগ ও মার্জিন ঋণের বিপরীতে রক্ষিত সংস্থান ঘাটতি ৪৭০ কোটি টাকা। তবে সর্বমোট সংস্থান ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৭৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চলতি দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর খান বলেন, ‘দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংকটি নির্দিষ্ট ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে বিগত সরকারের সময়ে কিছু নীতির ব্যাঘাত ঘটেছে। আমরা সবকিছু ভালো করার চেষ্টা করছি। গ্রাহকেরা টাকা পাচ্ছে। কোনো গ্রাহক চেক দিয়ে টাকা পায়নি সে রকম একটি নজিরও নেই। আমানত বাড়ছে।’ ব্যাংকটির বিপুল সম্পদ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কবে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানা গেছে, ঝুঁকির শীর্ষে থাকায় বিগত সরকারের সময় লাল তালিকাভুক্ত ছিল এবি ব্যাংক। এরপর দিন দিন অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। আর ঋণের নামে ব্যাংক খালির ঘটনায় ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে ১৬ হাজার কোটি টাকার খেলাপি গোপন করেছিল ব্যাংকটি। প্রভিশন ঘাটতি ছিল। বারবার দিতে হয়েছে জরিমানা। সবশেষে বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ, যা নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, সরকারের উচিত ব্যাংকের ওপর নিরপেক্ষ অডিট (নিরীক্ষা) করা। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত না। তাহলে কারা ব্যাংক খালি করল, তাদের নাম বের হয়ে আসবে। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। চিহ্নিত বড় খেলাপিদের সম্পদ ক্রোক করতে হবে। আর যেসব ব্যাংক তা করবে না, তাদের বিরুদ্ধে হার্ড লাইনে (কঠোর অবস্থান) যেতে হবে।
আরও খবর পড়ুন:

চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে ৮৫৬টি প্রকল্প রয়েছে; কিন্তু এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) এ চিত্র দেখা গেছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ৪১৩, বৈদেশিক অর্থায়নে ১৫৭, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫, পিপিপির আওতাভুক্ত প্রকল্প ৮১ এবং জলবায়ু
১০ ঘণ্টা আগে
রাজস্ব আয়, উদ্বৃত্ত ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অবদান—এই তিন ক্ষেত্রেই গত পাঁচ বছরে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২১ থেকে ২০২৫—এই পাঁচ বছরে গড়ে ১৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ রাজস্ব আয় প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি গড়ে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ রাজস্ব উদ্বৃত্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি।
১১ ঘণ্টা আগে
সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের দুর্বলতা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অদক্ষ পরিচালনার কারণে দেশের অনিশ্চিত দায় বা কনটিনজেন্ট লায়াবিলিটি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ মুহূর্তে সরকারের এই দায় ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮২ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এর বড় অংশই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান
১১ ঘণ্টা আগে
দারিদ্র্য যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানে নতুন ফসল হয়ে উঠেছে মুক্তির পথ। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার হাজেরা বেগম (৪৫) ব্রকলি চাষ করে প্রমাণ করেছেন—সঠিক পরামর্শ ও সহায়তা পেলে গ্রামীণ নারীরাও লাভজনক কৃষিতে সফল হতে পারেন।
১১ ঘণ্টা আগে