
রোজা শুরু হওয়ার দুই দিন আগে থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম চড়তে শুরু করেছে। তবে দামের এই অস্বস্তি সত্ত্বেও রোজায় মাংস কেনার প্রতি ক্রেতা-ভোক্তার ঝোঁক আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে দোকানগুলোতে গরুর মাংসের চাহিদা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। মুগদাপাড়া, কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি মাংসের দোকানে ভিড়। গত শুক্রবার ও গতকাল বাজারগুলোতে এই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
মুগদাপাড়া বাজারের সালাম এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে জানান, রোজার আগে প্রতিদিন একটি গরু জবাই করে বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হতো, আর এখন দুটো গরুর মাংস বিক্রি করেও চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে, সপ্তাহের শেষ ও শুরুর দিনগুলোতে, শুক্র ও শনিবার, দুপুরের আগেই দোকানের সব মাংস বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
শুধু মুগদাপাড়া নয়, রাজধানীর অন্যান্য বাজারেও গরুর মাংসের চাহিদা অনেক বেড়েছে। যাত্রাবাড়ী বাজারের বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, রোজার শুরুতে মাংসের বিক্রি সাধারণত বেড়ে যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে দামের কারণে অনেক ক্রেতা আগের মতো সহজে কিনতে পারছেন না। অনেকে কিনতে এলেও নিচ্ছেন পরিমাণে কম।
একই ধরনের কথা জানান খিলগাঁওয়ের আরেক ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, আগে যাঁরা তিন কেজি মাংস কিনতেন, তাঁরা এখন এক বা দেড় কেজির বেশি নিতে পারছেন না। এতে নিম্নমধ্যবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরা পড়েছেন বিপাকে।
বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি কিছুটা কম হলেও রোজার আগের তুলনায় বেশ ভালো চলছে। তবে ক্রেতাদের তৃপ্তির জায়গাটি এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে, কারণ, মাংসের দাম বাড়তি থাকায় অনেকেই অসন্তুষ্ট।
বর্তমানে রাজধানীর অধিকাংশ বাজারে গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা কেজি, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০ টাকা। কিছু বাজারে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে রোজার আগে ছিল ৭০০ টাকা। আবার একই বাজারে বিভিন্ন দোকানে দামে তারতম্য দেখা যাচ্ছে। মানিকনগর বাজারের পুকুরপাড় মোড়ে গরুর মাংস ৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু একই বাজারের আরেকটি দোকানে ৭৫০ টাকায় মিলছে।
গতকাল শনিবার সেগুনবাগিচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলোর সামনে ভিড় লেগে আছে। চারটি দোকানের মধ্যে একটির মালিক মো. খোকন জানান, রোজার আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় তিনি গরুর বাড়তি মূল্যের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ভালো মানের গরু কেনার জন্য কিছুটা বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
খোকন বলেন, ‘প্রতিটি গরুর জন্য আমাদের ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। কারণ, রোজায় সবাই একটু ভালো খেতে চায়, তাই আমরাও ভালো মানের গরু কিনছি। বিশেষ করে, তাজা ষাঁড়ের মাংস, যা গাভির তুলনায় দাম বেশি। এতে আমাদের খরচ বাড়ছে, তাই দাম বেশি রাখতে হচ্ছে।’
তবে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর গত বছর ফেব্রুয়ারিতে হিসাব করেছিল, প্রতি কেজি গরুর মাংসের উৎপাদন খরচ গড়ে ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। তখন ১৭ শতাংশ মুনাফা ধরে যৌক্তিক মূল্য ধরা হয়েছিল ৬৫৬ টাকা। কিন্তু বাস্তবে বাজারে এই দামে মাংস বিক্রি হয়নি।
করোনার আগে, প্রতি রোজার আগে সিটি করপোরেশন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে মাংসের দাম নির্ধারণ করত। কিন্তু মহামারির পর নানা জটিলতায় সেই নিয়ম আর কার্যকর হয়নি। ফলে বাজারে দামের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, যা ক্রেতাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারের ন্যায্যমূল্যে মাংস বিক্রির উদ্যোগ কার্যকর নয়। ক্রেতারা জানেন না কোথায় কখন বিক্রি হয় এবং স্টক শেষ হওয়ার আগে তাঁরা পৌঁছাতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত অনেক ক্রেতা মাংসের বিকল্প হিসেবে ব্রয়লার মুরগি কিনছেন। এক ক্রেতা জানান, ‘আগে প্রতি শুক্রবার গরুর মাংস খেতাম, এখন ব্রয়লার কিনতে হচ্ছে।’ ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সরবরাহ ঠিক থাকলে রোজার মাঝামাঝি চাহিদা কমে গেলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।

মুনাফা, পরিচালন দক্ষতা ও ব্যালেন্স শিটের সম্প্রসারণসহ সব সূচকেই ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে শক্তিশালী আর্থিক ফল অর্জন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। বহুমুখী ব্যবসায়িক কার্যক্রম, দৃঢ় সুশাসন এবং গ্রাহক কেন্দ্রিক সেবা কৌশলই এই সফলতার মূল ভিত্তি এনে দিয়েছে...
৬ ঘণ্টা আগে
কার্যক্রমের ১৩তম বছর পূর্ণ করেছে এনআরবি ব্যাংক পিএলসি। এ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে কেক কেটে ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়।
৮ ঘণ্টা আগে
২০০৮ সালে স্পেকট্রাম বরাদ্দের সময় ১৮ বছরের জন্য স্পেকট্রাম দেওয়া হয়েছিল এবং তখন থেকে এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল স্পেকট্রাম থেকে রাজস্ব আহরণ করা। তবে গত ১৫–১৮ বছরের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, টেলিযোগাযোগ খাত দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে—যেমন সীমিত স্পেকট্রাম হোল্ডিং
৯ ঘণ্টা আগে
গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেনের সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের চুক্তি করেছে ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ। এই চুক্তির আওতায় ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি অ্যাড মানি, রেমিট্যান্স, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)
১১ ঘণ্টা আগে