
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার যেন আবারও অস্থিরতার আগুনে জ্বলতে শুরু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে—এমন এক প্রতিবেদনের পর বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা যে অচলাবস্থায় আটকে আছে, তা ভাঙা। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইতোমধ্যেই সীমিত হয়ে আসা তেল রপ্তানিতে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ মান সময় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৫টা ২৭ মিনিটে আগামী জুনে যে তেল ডেলিভারি দেওয়া হবে অর্থাৎ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ৬ দশমিক ৮১ ডলার বা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ১২৪ দশমিক ৮৪ ডলারে। আগের সেশনেও এটি ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছিল। টানা নবম দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী থাকা জুন চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে, জুলাই মাসে যে তেল ডেলিভারি দেওয়া হবে তার দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি দাঁড়ায় ১১৩ দশমিক ৭৮ ডলারে, যা আগের দামের তুলনায় ৩ দশমিক ৩৪ ডলার বা ৩ শতাংশ বেশি। আগের সেশনেও এটি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট জুন ফিউচার্স ২ দশমিক ৭৬ ডলার বা ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ১০৯ দশমিক ৬৪ ডলারে। আগের সেশনে এটি ৭ শতাংশ বেড়েছিল এবং গত নয় সেশনের মধ্যে আটটিতেই দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার ইরানে সামরিক হামলার একাধিক পরিকল্পনার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফিং দেওয়া হবে। উদ্দেশ্য, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরানো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ। যদিও একটি যুদ্ধবিরতি সংঘাত থামিয়ে রেখেছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে।
এই সংঘাত নিরসনের জন্য আলোচনা অচলাবস্থায় আটকে আছে। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিশ্লেষকদের মতে এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের কথিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হোক, আর ইরান দাবি করছে হরমুজ প্রণালীর ওপর কিছু নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ।
বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদে ইরান সংঘাতের কোনো সমাধান বা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’
সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য কয়েক মাসব্যাপী মার্কিন অবরোধের প্রভাব কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে বুধবার তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অপরদিকে, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক এবং ওপেক প্লাস আগামী রোববার বৈঠক করে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হতে পারে বলে বুধবার রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে। বর্তমান সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় বিশ্লেষকরা এখন তেলের চাহিদা কমে যাওয়াকেই সবচেয়ে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ দামের কারণে ভোক্তা ও ব্যবহারকারীরা তেলজাত পণ্য ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হওয়ায় দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল চাহিদা কমে যেতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই পরিমাণ কমতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আমরা যে সরবরাহ ঘাটতির মুখোমুখি, তা পূরণ করার জন্য এটি মোটেও যথেষ্ট নয়।’

দেশের বাজারে কমেছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড)-এর দাম কমায় এখন থেকে সবচেয়ে ভালো মানের সোনা প্রতি ভরি পাওয়া যাবে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৫০ টাকায়। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৪৮ টাকা।
৫ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা মাশুল ৪০ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল না। এমন মন্তব্য করে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ ও গতিশীল করতে নীতিগত বাধা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দুর্নীতি আগামী তিন মাসের মধ্যে কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
১৩ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক পণ্যবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাবে চলতি বছরে জ্বালানির দাম গড়ে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। সংস্থাটির সর্বশেষ কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি, সার ও গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর দামের ঊর্ধ্বগতির কার
১৪ ঘণ্টা আগে
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি ও চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটির (সিপিএ) যৌথ উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘সিপিএ-প্রাইম ব্যাংক কো-ব্র্যান্ডেড ভিসা ক্রেডিট কার্ড’। বন্দরসংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৬ ঘণ্টা আগে