Ajker Patrika

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন: সবুজ বিনিয়োগে বড় মন্দা

মৃত্তিকা সাহা, ঢাকা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন: সবুজ বিনিয়োগে বড় মন্দা

দেশে সবুজ বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থায়নের গতি থমকে গেছে। এ দুই খাতে অর্থায়ন আশঙ্কাজনক কমেছে। এতে ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতিও দুর্বল হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ ও দূষণ কমিয়ে সবুজ উৎপাদন ও টেকসই শিল্পায়নের পথেও বড় বাধা তৈরি হয়েছে।

টেকসই অর্থায়নসংক্রান্ত সবশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা থেকে এমন বার্তা উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি বছরের জুন প্রান্তিকের প্রতিবেদন তথ্য বলছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ চিত্রে এ মন্দা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে সবুজ অর্থায়নে ঋণ বিতরণ কমেছে ১ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং টেকসই অর্থায়নে কমেছে ৪৫ হাজার ১২১ কোটি টাকা।

তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ সবুজ অর্থায়নে ঋণ বিতরণ কমেছে ১ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণ কমার হার প্রায় ২১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

একই সময়ে টেকসই অর্থায়নে মোট বিনিয়োগ হয়েছে ৯৬ হাজার ৪ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। বছরের ব্যবধানে টেকসই অর্থায়নে ঋণ বিতরণ প্রায় ৩২ শতাংশ বা ৪৫ হাজার ১২১ কোটি টাকা কমে গেছে।

ব্যাংকাররা অবশ্য এর জন্য নিজেদের কোনো দায় দেখছেন না। বরং দাবি করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে। মূলত নানা কারণে দেশে বিনিয়োগ চাহিদা তৈরি হচ্ছে না। এতে বেসরকারি খাতেও ঋণের চাহিদা বাড়ছে না। তা ছাড়া একদিকে কিছু ব্যাংক তারল্যসংকটে রয়েছে, অন্যদিকে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ব্যাপক হারে ঋণ নেওয়া বাড়িয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর অন্য খাতে ঋণ বিতরণও কমেছে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী, ঋণ সরবরাহ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে বেসরকারি খাত থেকেই সেই ঋণের চাহিদা খুব বেশি তৈরি হচ্ছে না।

এদিকে সবুজ বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থায়ন খাতে বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ ও বিনিয়োগ কমলেও, যে অর্থায়ন হচ্ছে তার যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঋণ নিয়ে উদ্যোক্তারা তা নির্ধারিত খাতে ব্যবহার করছেন কি না এবং ব্যাংকগুলো সেই অর্থের ব্যবহার যথাযথভাবে নজরদারি করছে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

টেকসই অর্থায়ন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো ১১টি ক্যাটাগরির আওতায় ৬৮ ধরনের টেকসই পণ্যে ঋণ বিতরণ করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ২০ শতাংশ টেকসই খাতে এবং মোট মেয়াদি ঋণের ৫ শতাংশ পরিবেশবান্ধব বা সবুজ প্রকল্পে বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে। সবুজ প্রকল্পের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন, পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদনসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অর্থায়ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক টেকসই ও সবুজ অর্থায়ন বাড়াতে নিয়মিতভাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে প্রতিবছর টেকসই (সাসটেইনেবল) রেটিংও প্রকাশ করছে। আশা করছি এই খাতে ঋণ বিতরণ দ্রুত বাড়বে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত