মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি বা ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জ্বালানি খরচ কমাতে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর এএফপিকে জানান, টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার এখন তিন দফা কৌশল নিয়েছে। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এর একটি অংশ হলো ঋণ নিশ্চিত করা।’
তিতুমীর জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ১৩০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাজেট সহায়তা হিসেবে ৫০ কোটি ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। দ্রুত অর্থ ছাড়ের জন্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছেও যেতে পারে। তিতুমীর বলেন, ‘আমরা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। তাই ঋণ নেওয়া ছাড়া আমাদের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই।’ তিনি জানান, সরকার ‘উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা বা আফ্রিকা’ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের বিকল্প উৎসও খুঁজছে। তিনি বলেন, ‘বিকল্প জ্বালানি উৎসের জন্য আমরা সব ধরনের সম্ভাব্য পথ অনুসন্ধান করছি।’
বাংলাদেশ তেল–গ্যাসের চাহিদার ৯৫ শতাংশ আমদানি করে। বৈশ্বিক বাজারে তেল–গ্যাসের দাম বাড়লেও বাংলাদেশ সরকার এখনো বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ায়নি। অধিকাংশ অপরিশোধিত জ্বালানি আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। পাশাপাশি মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৫ শতাংশও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। কাতারের রাস লাফান এলএনজি হাবের একটি স্থাপনায় হামলা হলে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, কারণ দেশটি ওই স্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি ব্যবহার কমাতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি কেনার পরিমাণে সীমা নির্ধারণ, অধিকাংশ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা, ফিলিং স্টেশনগুলোতে টহল দিতে পুলিশ মোতায়েন, এবং এলএনজি বহনকারী জাহাজকে নৌবাহিনীর নিরাপত্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকারগুলো বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বহন করে। কিন্তু পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এই জলপথ শুধু জ্বালানির রুট নয়, ১০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনরেখা।
১ দিন আগে
ভারতের ‘বস্ত্র নগরী’ হিসেবে পরিচিত গুজরাটের সুরাট এখন এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট এলপিজি গ্যাস-সংকটে সুরাটের বিশাল টেক্সটাইল শিল্প বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে নাভিশ্বাস ওঠা হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক কাজ ফেলে শহর...
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। একদিকে রণক্ষেত্রে চলছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।
১ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে বোতলজাত পানির দাম ১১ শতাংশ বেড়েছে। প্লাস্টিক বোতল ও ঢাকনার দাম হু হু করে বাড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পানিতে যে করহার কমিয়েছিলেন, সেই সুবিধাও কার্যত উধাও হয়ে গেছে।
৩ দিন আগে