Ajker Patrika

এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে কি না প্রশ্ন হাসনাতের, যা বললেন অর্থমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ১০
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে কি না প্রশ্ন হাসনাতের, যা বললেন অর্থমন্ত্রী
সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হয়েছে কি না—অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এমন প্রশ্ন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এর জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে কারও সঙ্গে কোনো সমঝোতা করার সুযোগ নেই। যারাই ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে, সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংক ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকা ঋণের ধারক। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপ একাই ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি। জনতা ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এখন খেলাপি। তিনি জানতে চান, এস আলম গ্রুপের ঋণ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এই অর্থবছরে সরকারের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? এই ঋণ পরিশোধ না করে এস আলম গ্রুপকে কীভাবে আবার নতুন করে পুনর্বহাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে? এটা নিয়ে সরকারের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে কারও সঙ্গে কোনো সমঝোতা করার সুযোগ নেই। বিএনপি যতবারই সরকারে এসেছে, ফাইন্যান্সিয়াল ডিসিপ্লিন নিয়ে কোনো প্রশ্ন আসেনি, ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজি, ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি, শেয়ারবাজার লুটপাট নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।

টাকা পুনরুদ্ধার করা যাবে এমন আশার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় সমঝোতার কোনো সুযোগ নাই এবং যারাই ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে, সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা ত্বরান্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে। টাকা পুনরুদ্ধারের জন্য একদিকে জিটুজি কাজ চলছে। অন্যদিকে প্রাইভেট রিকভারি ফার্মগুলোও কাজ করছে।’

এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের অর্থ পাচার বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এস আলম ও বেক্সিমতো গ্রুপের অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের বিষয়ে (ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সাইপ্রাস, জার্সি ও সিঙ্গাপুর) এবং বেক্সিমকো গ্রুপের বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) পাঠানো হয়েছে। এই দুটি গ্রুপের পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে ফৌজদারি কার্যক্রমের পাশাপাশি দেওয়ানি পদ্ধতিও অনুসরণ করা হচ্ছে। চারটি স্বনামধন্য বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধার একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি আইনগত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে এমএলএআরের জবাব পাওয়ার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ, অপরাধলব্ধ অর্থ শনাক্তকরণ এবং দেশে-বিদেশের আদালতে অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব। বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচার হয়েছে, তাদেরকেও এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আইনগত বা বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চলতি বা আগামী অর্থবছরে এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের কী পরিমাণ অর্থসম্পদ উদ্ধার সম্ভব, তা যথাযথভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় সম্ভাব্য সকল ধরনের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

হাসনাত আবদুল্লাহর অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি ও বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে পরিচালিত ৬৬২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং বিও হিসাবে ৮১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তাঁদের অর্থ পাচারের বিষয়ে বাংলাদেশের আদালতে ২৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

এই সংসদ সদস্যের আরেকটি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অর্থঋণ আদালত আইন এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণখেলাপির হার কমিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে যাতে ঋণখেলাপি না হয়, সেই বিষয়ে কৌশলপত্র প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেস চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেসগুলোর ক্ষেত্রে দেশের আদালত ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জ্বালানি সংকট: উপচে পড়ছে সব ডিপো, তবু তেল নিয়ে হাহাকার

সুদানে পাকিস্তানের ১.৫ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান বিক্রি আটকে দিল সৌদি

নওগাঁয় চার খুন: নেপথ্যে সম্পত্তির বিরোধ নাকি অন্য কিছু, পুলিশি হেফাজতে বাবা, দুই বোন ও ভাগনে

নওগাঁয় স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা

প্রচণ্ড গরমে হোটেলের এসি কামরা ভাড়া নিলেন নারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত