Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, তবু কমছে দাম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, তবু কমছে দাম
ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত ৪ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমছে। একদিকে যুদ্ধের অভিঘাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে বাজারে তৈরি হয়েছে সতর্ক আশাবাদ। ফলে সরবরাহ সংকোচনের মধ্যেও দাম নিম্নমুখী রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী—দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে আরও ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল কমে মোট মজুত দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যারেলে, যা ১৯৮৩ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। ইরান যুদ্ধের পর বৈশ্বিক মজুতে তৈরি হওয়া ঘাটতি মোকাবিলা এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই মজুত কমানো হচ্ছে।

শুধু কৌশলগত মজুত নয়, শক্তিশালী রপ্তানি এবং রিফাইনারিগুলোর উচ্চ চাহিদার কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট অপরিশোধিত তেলের মজুতও দ্রুত কমেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুত মিলিয়ে দেশটির মোট তেল মজুত ১১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল কমে ১৯ জুন পর্যন্ত ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। এটি ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন।

তবে এই সরবরাহ সংকোচনের প্রভাব তেলের দামে উল্টোভাবে পড়ছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং টানা দ্বিতীয় মাসের মতো নিম্নমুখী অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।

আগস্ট ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত মাসের সমাপনী মূল্যের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়ায়। মে মাসের শেষের তুলনায় ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দামের এই পতনের পেছনে মূল চালিকা শক্তি এখন সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রত্যাশা। চার মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বাজার এখনো পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই, তবে উত্তেজনা কমার বাস্তব ইঙ্গিত পাওয়ার আশায় বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন।

এদিকে, ইরান জানিয়েছে—ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। যদিও একই সময়ে তেহরান স্পষ্ট করেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বৈঠক হওয়ার পরিকল্পনা নেই। চীনের দুর্বল চাহিদা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বাজারে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশটির ক্রয় বাড়ার সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো না পাওয়ায় তেলের দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকরা তেল ও এলএনজি রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক জাহাজ হামলা ও নতুন করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত