টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা, ইট দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছে নাক-মুখ

টাঙ্গাইল শহরের সাড়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও ইট দিয়ে নাক-মুখ থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গুরুতর আহত শিশুটি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত শুক্রবার বিকেলে শিশুটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার সময় সে কান্নাকাটি করে ও বাধা দেয়। এ সময় অভিযুক্ত বিপ্লব ইট দিয়ে তার মুখ ও নাকে আঘাত করেন।
শিশুটির মা বলেন, তিনি শহরের একটি পার্লারে কাজ করেন। বিপ্লব নামের ওই যুবক পার্লারে যাতায়াত করতেন। শুক্রবার বিকেলে শিশুটি মায়ের কাছ থেকে নিচে যাওয়ার পর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিপ্লব তিনটি চিপস নিয়ে তাঁর কাছে যান। শিশুটির কথা জানতে চাইলে তিনি নানা উল্টোপাল্টা কথা বলতে থাকেন।
একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে শিশুটির মাকে ফোন করে জানানো হয়, এক রিকশাচালক শিশুটিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক আল আমিন সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মেডিকেল টিমের সদস্যরা যে আলামত পেয়েছেন, তাতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছি। এ ছাড়া নাক ফেটে গেছে। ঠোঁটে একাধিক সেলাই করা হয়েছে।’
টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
শিশুটির খোঁজ নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু, চিকিৎসা ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস
গতকাল শনিবার রাত ১২টার দিকে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। এ ধরনের জঘন্যতম ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রশাসনের সব পর্যায়ে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেব, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়।’
শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
হাসপাতালে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়াসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








